রাজনীতি আর টাকার জোরে হিন্দুদের চরম শিক্ষা দিতে হবে: তাহির হুসেইন! - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 4 August 2020

রাজনীতি আর টাকার জোরে হিন্দুদের চরম শিক্ষা দিতে হবে: তাহির হুসেইন!


দিল্লিতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নেতৃত্ব প্রদানের অভিযোগে আম আদমি পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য তাহির হুসেইন দিল্লী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক দিল্লী দাঙ্গার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তাহির হুসেইন আরও বলেন, “যখন আমি ২০১৭ সালে আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর হয়েছিলাম, তখন থেকেই আমার মাথায় ছিল রাজনীতি আর পয়সার জোরে হিন্দুদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।…”

সরকারি স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তাহির হুসেইন এই কাজের জন্য খালিদ সৈফি আর পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (PFI) এর সাহায্য নিয়েছিল। তাহির হুসেইন দিল্লী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, “আমার পরিচিত খালিদ সৈফি বলেছিল, তোমার কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে এবং টাকাও আছে। এই দুটোর ব্যবহার করতে হবে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আর মুসলিমদের শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আমি এই কাজের জন্য সবসময় তৈরি। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর সৈফি আমার কাছে এসেছিল। সে বলেছিল, এবার আর আমরা চুপ থাকব না। আর তারপরেই রাম মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং CAA চলে আসে। তখন আমি বুঝি যে, জল মাথার উপর দিয়ে বইছে, এবার কোন বড় পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাহির হুসেইনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, “বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি খালিদ সৈফি আমাকে JNU এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদের সাথে PFI এর অফিসে সাক্ষাৎ করায়। সেখানে উমর খালিদ বলে, আমি মরতে আর মারতে রাজি। আর খালিদ সৈফি বলে, PFI এর সদস্য দানিশ হিন্দুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সমস্ত রকম আর্থিক সাহায্য করবে। আমরা PFI এর দফতরেই এমন হামলার পরিকল্পনা করি, যাতে সরকার নড়ে যায় এবং CAA রদ করতে বাধ্য হয়।

খালিদ সৈফি মুসলিমদের উস্কিয়ে রাস্তায় নামানোর কাজ করেছে। আমরা বেশি করে কাঁচের বোতল, পেট্রোল, অ্যাসিড আর ইট-পাথর নিজের ঘরের ছাদে একত্রিত করি। আর খালিদ সৈফি তাঁর বন্ধু ইশরাত জাহানের সাথে মিলে সবার আগে শাহিন বাগের আদলে খুজেরিতে ধরনা প্রদর্শন শুরু করে। এরপর আরোও অনেক জায়গায় ধরনা প্রদর্শন শুরু হয়। এরপর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আমি আর খালিদ সৈফি আবু ফজল দিল্লীতে সাম্প্রদায়িক অশান্তি কীভাবে ছড়ানো হবে সেটা নিয়ে চুড়ান্ত পরিকল্পনা করি। উমর খালিদ বলেছিল টাকা পয়সার চিন্তা করতে হবে না, PFI, জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটি, বহু ইসলামী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এবং বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন গুলো আমাদের সাহায্য করবে। সেখানে নির্ধারিত হয় যে, CAA এর বিরোধিতায় যারা ধরনায় বসেছে, তাদের উস্কে চাক্কা জ্যাম করানো হবে। যদি পুলিশ অথবা হিন্দুরা এগুলোকে থামানোর চেষ্টা করে, তাহলেই অশান্তি শুরু করা হবে।

খালিদ সৈফি বলেছিল যে, আমারিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে উপস্থিত থাকাকালীন যা করার করতে হবে, এরফলে সরকার মাথানত করতে বাধ্য হবে। আর আমি মদ এবং কোল্ডড্রিংকস এর খালি কাঁচের বোতল গুলো নিয়ে ছাদে জমা করা শুরু করে দিই। আর বাড়ির পাশে চলা কনস্ট্রাকশন সাইট থেকে ইট পাথর জমা করি। এছাড়াও আমি নিজের চারটি গাড়িতে ফুল ট্যাংক পেট্রোল আর ডিজেল ভরে রাখি। বোতলের পেট্রোল কম পড়লে সেখান থেকেই পেট্রোল নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর সাথে সাথে আমি আমার ইসলাম ধর্মাবলম্বী লেবারদেরও সাম্প্রদায়িক অশান্তির সময় বোমা এবং পাথর ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলি।

No comments:

Post a comment