প্রদীপ জ্বালিয়ে, বাসন পিটিয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জেতা যায় না: উদ্ধব ঠাকরে! - VedasBD.com

Breaking

Wednesday, 8 April 2020

প্রদীপ জ্বালিয়ে, বাসন পিটিয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জেতা যায় না: উদ্ধব ঠাকরে!


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করে সম্পাদকীয় লেখা হল শিবসেনা’র মুখপত্র ‘সামনা’–য়। হাততালি দিয়ে, বাসন পিটিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জেতা যায় না মন্তব্য করে লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের ভুল ব্যাখ্যা করেছে, মোদী’র স্পষ্ট করে বলা উচিত ছিল তিনি নাগরিকদের কাছ থেকে কী আশা করেন এবং যারা আদেশ মানবে না তাদের শা্স্তির মুখে পড়তে হবে।
.
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত ন’টায় প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে সারা দেশ জুড়ে আলো নিভিয়ে প্রদীপ–মোমবাতি জ্বালানোর কর্মসূচী পালন করা হয়। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞার প্রতীক হিসেবে এই দীপ প্রজ্বলন কর্মসূচী নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী তাঁর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় বেশ কিছু অত্যুৎসাহী মানুষ শঙ্খ বাজিয়ে, আতসবাজি পুড়িয়ে তাদের ‘প্রতিজ্ঞা’র কথা জানান দেয়। লকডাউনের ঠিক আগে ২২ মার্চ মোদী ‘জনতা কারফিউ’ ঘোষণা করে ওইদিন বিকেল পাঁচটায় পরিষেবা কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য সকলকে হাততালি দিতে বলেন।
.
”হাততালি, থালা এবং আলো… এইসব করে আমরা যুদ্ধে হারব। এই ধরনের আবেদনে মানুষের সাড়া দেওয়ার বিভিন্ন দিক রয়েছে। মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের ভুল ব্যাখ্যা করেছে… হয় প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সঠিক বিষয়টি বোঝাতে পারেননি অথবা তিনি নিজেই এমন উৎসবের আবহ চেয়েছিলেন” বলে মন্তব্য করা হয় সামনা’র সম্পাদকীয়তে। অন্য দিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলে তাদের সংশয় দূর করার চেষ্টা করছেন বলে জানানো হয় আলোচ্য নিবন্ধটিতে।
.
ইতিহাস থেকে উদারণ তুলে সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ”করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য দরকার এমন একজন নেতা। আমরা পানিপথের যুদ্ধ হেরেছিলাম গুজব ও পরিকল্পনার অভাবের জন্য। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাজ্যের মানুষের সদাশিব রাও ভাউ’র (পানিপথ যুদ্ধে মারাঠা সেনাপতি)পরিণতি হওয়া উচিত নয়।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্পষ্ট করে মানুষের কাছে বলা উচিত তাদের কাছ থেকে ঠিক কী আশা করা হচ্ছে, এই অভিমত জানিয়ে ওই সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ”যারা নিয়ম মানবে না তাদের শাস্তি পেতে হবে। শুধুমাত্র মার্কাজ–এ আইন ভাঙা হয়েছে এমন নয়। যারা মার্কাজ–এর সমালোচনা করছে তারা কি সামাজিক দূরত্ব সহ অন্যান্য নিয়মবিধি পালন করছে?
.
গত রবিবার যে সব অত্যুৎসাহী মানুষ টর্চ, মোমবাতি, মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে এসে নাচানাচি করেছে এবং পটকা ফাটিয়েছে তাদের সমালোচনা করে শোলাপুরে অগ্নিকাণ্ডের জন্য তাদেরকেই দায়ী করা হয় শিবসেনা মুখপত্র সামনা–য়। সমালোচনা করা হয় সেই বিজেপি নেত্রীর যিনি উত্তর প্রদেশের বলরামপুরে করোনাভাইরাস ‘তাড়ানো’র জন্য শূন্যে গুলি চালিয়েছেন। প্রসঙ্গত এইদিনই মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল। ১৫০ জন নতুন আক্রান্তকে নিয়ে মোট সংক্রামিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১৮, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের।

No comments:

Post a comment