খাবারের জন্য কেঁদেই চলছে বাচ্চারা, জঙ্গল থেকে কচু পাতা এনে সিদ্ধ করে খাওয়াচ্ছেন বাবা-মা’রা! - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 7 April 2020

খাবারের জন্য কেঁদেই চলছে বাচ্চারা, জঙ্গল থেকে কচু পাতা এনে সিদ্ধ করে খাওয়াচ্ছেন বাবা-মা’রা!


লকডাউনে কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাচ্ছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের বেশ কিছু পরিবার৷ সরকারি বা বেসরকারি কোনও ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। লকডাউনে কর্মহারা হয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের গড়গড়ি, বাইশাবাগান এলাকার বাসিন্দারা৷ আর্থিক অভাবে জুটছে না খাদ্য৷ এই পরিস্থিতিতে কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে ওই পরিবারগুলিকে৷ বিষয়টি জানতে পেরেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলার প্রশাসনিক কর্তারা৷
.
লকডাউনে কর্মহারা হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলি৷ পরিস্থিতির নিরিখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকে পাঁচ কিলো করে চাল দেওয়া হয়েছিল৷ সেই খাদ্যদ্রব্য শেষ হলে আর মেলেনি কোনও খাদ্যদ্রব্য৷ তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে বেশ কিছু পরিবারকে৷
.
স্থানীয় এক বাসিন্দা জগদীশ বেদ বলেন, খাবারের কোনও ব্যবস্থা নেই৷ সরকার পাঁচ কিলো চাল দিয়েছিল৷ দু’দিনেই সেই চাল শেষ৷ এখন নিজেদের খাওয়া দূরের কথা, বাচ্চাদের মুখেও খাবার তুলে দিতে পারছি না৷ সরকার এখন বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছে না৷ ইনকাম নেই৷ প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক নেতারা কেউ আসছেন না৷ খিদের জ্বালায় বাচ্চারা কেঁদেই যাচ্ছে৷ তাই কচুর পাতা রান্না করেই বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে৷
.
হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এর বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, ‘লকডাউন শুরু হতেই আমরা ওই পরিবারগুলির মধ্যে চাল, আলু, সাবান প্রভৃতি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছিলাম৷ পরিবারগুলিকে আগামীতে আরও ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷’ তবে এই পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা৷ ওই সংস্থাটি প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জনের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

No comments:

Post a comment