ঢাকার মিরপুরে করোনা সংক্রামণে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিল একাধিক মানুষ! - VedasBD.com

Breaking

Sunday, 22 March 2020

ঢাকার মিরপুরে করোনা সংক্রামণে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিল একাধিক মানুষ!

ঢাকার মিরপুরে করোনা সংক্রামণে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিল একাধিক মানুষ!


মিরপুরের টোলারবাগে গত ২১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে ব্যক্তি মারা যান তার ছেলে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকাবস্থায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। রবিবার (২২ মার্চ) রাতে দেওয়া এই পোস্টে গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি নিরসনে তিনি স্পষ্ট করেছেন তাদের পরিবারের কেউ বিদেশ থেকে আসেননি। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসক (১৬ মার্চ) তার বাবা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন সন্দেহ করলেও আইইডিসিআর তখন তাকে পরীক্ষা করাতে রাজি হয়নি। এছাড়াও তার বাবার আইসিইউ সাপোর্ট দরকার হওয়ার পরেও কোনও হাসপাতালে সে সুবিধা না পাওয়ায় তাদের কমপক্ষে পাঁচটি হাসপাতালে ছুটে বেড়াতে হয়েছে। এসব হাসপাতাল কল্যাণপুর, শ্যামলী ও মিরপুর এলাকায় অবস্থিত।
.
যমুনা ব্যাংকের এই কর্মকর্তার স্ট্যাটাস অনুযায়ী, নিজেদের অজান্তেই একাধিক হাসপাতালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী নিয়ে ছোটাছুটি করেছেন তারা। ওই পোস্ট অনুযায়ী, তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে অন্তত পাঁচটি হাসপাতালে গিয়েছেন তারা। তার আরেক ভাই ও পরিবার সদস্যদের প্রায় সবাই এবং একজন গাড়িচালক এই রোগীর চিকিৎসা সেবাই নিয়োজিত ছিলেন। স্ট্যাটাসে স্পষ্ট না করলেও তার লেখা তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা নিয়মিত মসজিদে যেতেন।
.
এদিকে, ২১ মার্চ তার বাবার মৃত্যুর পরদিন ২২ মার্চ সেই মসজিদ কমিটির সেক্রেটারিও হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান। মোজাম্মেল হক নামের ওই ব্যক্তিও এই ব্যাংক কর্মকর্তার বাবার সংস্পর্শে থাকায় তাদের মধ্যে কার দ্বারা কে আক্রান্ত হয়েছেন নাকি ভিন্ন কারও দ্বারা তারা আক্রান্ত হয়েছেন তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আইইডিসিআর এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশে সময় চেয়েছে। অবশ্য মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মৃত মোজাম্মেল হকেরও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে আইইডিসিআর। রিপোর্টে তিনিও পজিটিভ প্রমাণিত হন। তবে এই ব্যক্তি ও ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বাবা ছিলেন প্রতিবেশী।
.
প্রেস ব্রিফিংয়ে টোলারবাগে মৃত ব্যক্তির (স্ট্যাটাস দেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তার বাবা) নাম উল্লেখ না করলেও তার সংস্পর্শে আসা আরও দুই ব্যক্তির কথা জানান ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা। ফলে মৃত মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক ছাড়াও সেখানে আরও এক ব্যক্তি সন্দেহভাজন হিসেবে আছেন যার নমুনা পরীক্ষা এরইমধ্যে পরীক্ষা করেছে আইইডিসিআর। এদিকে, এই ব্যাংক কর্মকর্তা যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাতে তার ভাই ও গাড়িচালক কোভিড টেস্টে নেগেটিভ প্রমাণিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা ভালো আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
.
অন্যদিকে, তার পিতাকে চিকিৎসা ৫টি হাসপাতালের অন্যতম ডেল্টা হাসপাতালের যে ৪ জন চিকিৎসক, ১৪ জন নার্স ও ৩ জন স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে জরুরি বিভাগে থাকা এক চিকিৎসক কোভিড পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছেন। তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, কল্যাণপুর, শ্যামলী ও মিরপুরের অন্য যে ৪টি হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত ওই রোগীকে নিউমোনিয়ার রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সেসব জায়গায় কী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা আদৌ নেওয়া হয়েছে কিনা তার তথ্য এখনও জানা সম্ভব হয়নি।  চিকিৎসকরা বলছেন, এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

No comments:

Post a comment