গো-মাতাকে কাটতেও দেব না, অত্যাচারিত হতেও দেব না: যোগী আদিত্যনাথ - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 3 March 2020

গো-মাতাকে কাটতেও দেব না, অত্যাচারিত হতেও দেব না: যোগী আদিত্যনাথ

গো-মাতাকে কাটতেও দেব না, অত্যাচারিত হতেও দেব না: যোগী আদিত্যনাথ


একবার স্বামী বিবেকানন্দ বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। সেই সময় উনাকে এক বিদেশী জিজ্ঞাসা করেছিলেন- আপনাদের দেশে কোন পশুর দুধ সবথেকে ভালো? স্বামীজী উত্তরে বলেছিলেন- মহিষের। বিদেশী অবাক হয়ে বলেন, অনেকে ও বলে যে গরুর দুধ সব থেকে ভালো। উত্তরে স্বামীজি বলেছিলেন- গাই পশু বা জানোয়ার নয়, মাতা। আজ স্বামীজী থাকলে গাইকে গো-মাতা বলার জন্য উনাকেও সম্ভবত বামপন্থী ও কট্টরপন্থীদের দ্বারা কটাক্ষ হতে হতো। তবে ভারতীয় সংস্কৃতিতে যে নিঃস্বার্থভাবে সময়ের পর সময় ধরে সমাজকে দান করতেই থাকে তাকে মা বলে গণ্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ- মা গঙ্গা, গো-মাতা, তুলসী মাতা ইত্যাদি। তবে বর্তমান সময়ে গো-বংশের রক্ষার কথা বললেন যে বামপন্থী ও কট্টরপন্থীদের দ্বারা কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
.
প্রসঙ্গত জানিয়ে দি, ভারতে বিদেশী প্রজাতির গায়ের সংখ্যা একদিকে যেমন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনি অন্যদিকে দেশি প্রজাতির গায়, গরুর সংখ্যা কমতেই চলেছে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারতে দেশী গো-প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন সমস্যা এই যে, জার্সি বা বিদেশী গাইয়ের A-1দুধ স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। জার্সি গাই এর দুধ থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বাজারে এই দুধের আধিক্য বেশি। তবে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য এখনও ভারতীয়রা দেশি গাইয়ের A-2 দুধের উপর ভরসা রাখে। এর কারণ দেশী গাইয়ের দুধ সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত। তাই ভারত সরকার দেশী গাই এর প্রজাতি বাঁচানোর জন্য একটা বড়ো প্রয়াস চালাচ্ছে।
.
সম্প্রতি উত্তরপ্ৰদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Aditynath) গো প্রজাতি নিয়ে বড়ো মন্তব্য রেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন গো-মাতাকে আমরা কাটতে দেব না। যোগী আদিত্যনাথের সরকার গো-বংশ এর রক্ষার জন্য বেশকিছু প্রকল্প চালু করেছেন। আদিত্যনাথ বলেছেন আমাদের সরকার প্রত্যেক গাই এর দেখভাল করার জন্য মাথা পিছু ৯০০ টাকা দিচ্ছে।
.
এছাড়াও প্রত্যেক গো-বংশকে ট্যাগ লাগানো হবে যাতে ছড়িয়ে পড়া রোগের হাত থেকে গাই-গরুকে রক্ষা করা যায়।মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মঙ্গলবার মথুরার বার্সায় অবস্থিত রাধা বিহারী ইন্টার কলেজে রাঙ্গোৎসব অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এই সময়ে তিনি বলেছিলেন যে পাঁচ হাজার বছর আগে এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর আবির্ভাব হয়েছিল। আমাদের পূর্ব পুরুষরা আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এখন সেটার রক্ষার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে।

No comments:

Post a comment