মদ বিক্রিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার - VedasBD.com

Breaking

Monday, 9 March 2020

মদ বিক্রিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার

মদ বিক্রিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার


অল্প সল্প টাকা নয়, এই আর্থিক বছরে দশ হাজার কোটি টাকা ঘরে তুললো রাজ্য সরকার, শুধুমাত্র মদ বিক্রি করে। যা রীতিমতো এক নজির বিহীন সাফল্য। বাম আমলের শেষ প্রান্তে এই খাতে রাজ্য সরকারের আয় ছিল মাত্র দু’হাজার কোটি টাকা, গত মাত্র আট বছরে এই খাতে আরো আট হাজার কোটি টাকা যোগ করলো তৃণমূল সরকার।
.
যদিও সরকারের এই সাফল্য নিয়ে প্রচার তো দূর,নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করতেও কুণ্ঠা বোধ করছেন আবগারি দফতরের কর্তারা। বিনয়ের সঙ্গে এনিয়ে যাবতীয় প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন তারা। সারদা কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী হয়েছিল গরিবের টাকা চুরি করে।
.
মুখ্যমন্ত্রী তখন আশ্বাস দিয়েছিলেন গরিবের টাকা ফেরতের চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার, কিভাবে তা করা হবে, সেই উপায়ও তিনি বলেছিলেন। জানিয়ে ছিলেন রাজস্ব বাড়িয়ে তা করবে সরকার। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য তিনি প্রকাশ্যে আহবান জানিয়েছিলেন, আপনারা বেশি করে সিগারেট খান তাহলে রাজস্ব বাড়বে।
.
মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়ে সিগারেট খাওয়া বাড়িয়েছে কিনা, এবং গরিব প্রতারিত মানুষ আদৌ টাকা ফেরৎ পেয়েছে কিনা, পেলে কত, সেসব তথ্য স্পষ্ট নয়, তবে মদ খাওয়ার ধুম পড়েছে রাজ্যে সেটা সরকারের আয়ের অংক থেকেই স্পস্ট। সরকার সেই ব্যবস্থা অন্তত করে দিতে পেরেছে।
.
আবগারি দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, ত্রিমুখী কৌশল অবলম্বন করে এই আয় বাড়ানো হয়েছে। প্রথমত অবৈধ মদের ওপর রাশ টেনে মানুষকে বৈধ মদের দোকানে টেনে আনা, দ্বিতীয়ত গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মদ বিক্রির ঢালাও লাইসেন্স বিতরণ এবং মদের ওপর বিপুল কর চাপানো। বর্তমানে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কর আদায় করা হয় মদে। অন্যদিকে গত এক বছরেই প্রায় এক হাজার নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখনো প্রায় তিন হাজার আবেদনপত্র জমা পরে আছে আবগারি দফতরের কাছে।
.
যদিও বিরোধীরা তাদের স্বভাব অনুযায়ী এই সাফল্য নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তাদের অভিযোগ, মদে ভাসিয়ে দিয়ে সমাজ টাকে রসাতলে পাঠানোর ব্যবস্থা পাকা করে দিয়েছে এই সরকার। এই মুহুর্তে মদ বিক্রির ওপর কোনও ধরণের কোনও নিয়ন্ত্রণই আর নেই। সমস্ত নিয়ন্ত্রণ দূর করে মদকে সকলের কাছে ৩৬৫ দিনই নাগালের মধ্যে আনার ব্যবস্থা হয়েছে।
.
অন্যদিকে রাজ্যের মূল আয়ের উৎস তার শিল্প ক্ষেত্র ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে, এই খাতে দিন দিন আয় কমে যাচ্ছে, এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের ভরসা একমাত্র মদ। শিল্প বিকাশ হলে একদিকে যেমন রাজ্যের আয় বাড়ে, অন্যদিকে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, মদে আয় তো বাড়ে,কিন্তু বেকারির হাহাকার কমে না, উল্টে যুব সমাজকে গোল্লায় পাঠাবার ব্যবস্থাটা নিশ্চিত হয় বলে অভিযোগ বিরোধীদের।


No comments:

Post a comment