বেদ সমীক্ষা ও বেদের তাৎপর্য তা - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 4 February 2020

বেদ সমীক্ষা ও বেদের তাৎপর্য তা


বেদ সমীক্ষা ও বেদের তাৎপর্য তা


১. বেদে নারীজাতির সম্মান
ইমা নারীরবিধবাঃ সুপত্নীরাঞ্জনেন সর্পিষা সং স্পৃশন্তাম্।
অনবাে অনমীবাঃ সুরত্না আ রােহন্তু জনয়াে যােনিমগ্রে।
(অথর্ববেদ ১২।২।৩১) 
.
ভাবার্থ- নারীরা উত্তম ধনপত্নী হােক, তাঁরা যেন কখনাে বিধবা না হয়। তাঁরা সৌভাগ্যবান হয়ে শরীরকে অঞ্জন দ্বারা সুভাষিত করুক। নিরােগ হােক,শােকরহিত হয়ে অশ্রুরহিত থাকুক। নিজেদের ঘরে নারীরা সুপূজিত হয়ে মহত্বের স্থান প্রাপ্ত হােক।
.
অঘােরচক্ষুরপতিঘ্নী স্যোনা শগ্ম সুশেবা সুয়মা গৃহেভ্যঃ। বীরসূর্দেৰ্বকামা সং ত্বৈধিষীমহি সুমনস্যমানা।
(অথর্ববেদ ১৪।২।১৭) 
.
ভাবার্থ- নারীরা তাঁর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আনন্দে থাকুক, রাগান্বিত চোখ যেন না করে, স্বামীর হিতকারীণী হােক, ধর্মের নিয়মের পালন করুক, সকলকে সুখী করুক, নিজের সন্তানদের বীরত্বের শিক্ষা দান করুক। অন্তঃকরণে শুভ চিন্তা ভাবনা হােক। এরকম নারীর দ্বারা সংসার সুসম্পন্ন হােক।
.
সুমঙ্গলী প্রতরণী গৃহাণাং সুশেবা পত্যে শ্বশুরায় শম্ভুঃ। স্যোনা শ্বশ্রৈ প্র গৃহান্বিশেমা৷৷(অথর্ববেদ ১৪।২।২৬)। 
.
ভাবার্থ- উত্তম মঙ্গল কামনাকারী, গৃহের সকলের দুঃখ নিবারণ কারী, স্বামীর সেবা যত্নকারী, শশুরকে সুখ প্রদান কারী, শাশুড়ির হিতকারীণী নিজের ঘরে প্রবিষ্ট হােক।
.
ইডে রন্তে হব্যে কাম্যে চন্দ্রে জ্যোতে দিতে সরস্বতী মহি বিশ্রুতি। এতা তে অঘ্নেনামানি দেবেভ্যো মাং সুকৃতং ব্রয়া।।(যজুর্বেদ ৮।৪৩) 
.
ভাবার্থ- যে নারী বিদ্বানদের থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত করেছে সেই নারী নিজের স্বামী এবং অন্যান্য নারীদের যথাযােগ্য উত্তম কর্ম শেখাবে যার দ্বারা তাঁরা ভুল পথে যাবে না। সেই নারী সকলের বিদ্যা বৃদ্ধি করবে।
.
প্ৰেতাে মুঞচামি নামুতঃ সুদ্ধামমুতস্কর। 
যথেয়মিন্দ্র মীঃ সুপুত্রা সুভগাসতি।।(ঋকবেদ১০।৮৫।২৫,

ভাবার্থ→ বধুর সম্পর্ক পিতৃকূল থেকে বিচ্ছিন্ন হােক, কিন্তু পতিকুল থেকে নয়। পতিকূলের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় হােক। পরমেশ্বর সেই বধূকে পতিকুলে উত্তম পূত্রের সাথে এবং উত্তম পূত্রের সাথে যুক্ত করুক।
.
প্রবুধ্যস্য সুবুধা বুধমানা দীর্ঘায়ুদায় শতশারদায়। গৃহাল্পচ্ছ গৃহপত্নীয়থাসাে দীর্ঘং ত আয়ুঃ সবিতা কৃণােতু।।(অথর্ববেদ ১৪।২।৭৫)। 
.
ভাবার্থ→ স্ত্রীরা বিদূষী হােক, প্রাতঃকালে উঠুক,শত বছর দীর্ঘায়ুর জন্য জ্ঞান প্রাপ্তিপূর্বক চেষ্টা করুক। নিজের স্বামীর ঘরে থাকুক। নিজের ঘরে স্বামিনী হয়ে থাকুক। পরমাত্মা তাকে দীর্ঘায়ু প্রদান করুক।
.
ইহ প্রিয়ং প্রজায়ৈ তে সমুধ্যতামস্মিথুহে গার্হপত্যায় জাগৃহি। এনা পত্যা তন্বং সং স্পৃশস্বাথ জিব্রির্বিদথমা বদাসি।।(অথর্ববেদ ১৪।১।২১) 
.
ভাবার্থ→ ধর্মপত্নী র সন্তান উত্তম সুখী হােক। ধর্মপত্নী নিজের গৃহস্থাশ্রম উত্তম রূপে চালনা করূক। নিজের স্বামীর সঙ্গে সুখী হােক। এই ভাবে ধর্মের পথে গৃহস্থাশ্রম চালনা কারী স্ত্রী বৃদ্ধাবস্থায় জ্ঞানের প্রসারকারী হবে।
.
ইয়ং নারী পতিলােকং বৃণানা নি পদ্দ্যত উপত্বা মর্ত্য প্রেতম। ধর্মং পুরাণমনুপালয়ন্তী তস্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি।।(অথর্ববেদ ১৮।৩।১)।
.
ভাবার্থ- স্বামীর অকস্মাৎ মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ধনসম্পদ এবং সন্তান এর উত্তরাধিকারী, যদি সে ধর্ম পালনের মাধ্যমে স্বামীর ঘরকে বরণ করে নেয়,পিতার ঘরে ফিরে যায় না এবং অন্য বিবাহ না করে।
.
আ রােহ তল্পং সুমনস্যমানেহ প্রজাং জনয় প্রত্যে অস্মৈ। ইন্দ্রাণীব সুবুধা বুধ্যমানা জ্যোতিরগ্রা উষসঃ প্রতি জাগরাসি।।(অথর্ববেদ ১৪।২।৩১) 
.
ভাবার্থ- সন্তানের ভালাের জন্য গৃহিণীকে 'সদা প্রসন্ন মন,জিতেন্দ্রিয় এবং জ্ঞান রুচি, বুদ্ধিমান এবং ঊষাকালে প্রবুদ্ধ হওয়া উচিত। তবেই সে উত্তম সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হবে।
.
সা বিট সুবীরা মরুদভিরম্ভ সনাত সহন্তী পুষ্যন্তী নৃণম্।।(ঋকবেদ ৭।৫৬।৫)। 
.
ভাবার্থ- সেই নারী শ্রেষ্ঠ যে ব্রহ্মচর্যে সমস্ত বিদ্যার পাঠ করেছেন। এবং তিনিই বীর সন্তানদের জন্ম দিতে সক্ষম। তিনি সহনশীল এবং ধনকোশ সমৃদ্ধ হােক।
.
সম্রাজ্ঞেধি শ্বশুরেষু সম্রাজুত দেবৃষু। 
ননান্দুঃ সম্রাজ্ঞেধি সম্রজুত শ্বশ্রবা।।(অথর্ববেদ ১৪।১।৪৪) 
.
ভাবার্থ→ নারীদের উচিত ঘরের সমস্তকিছু কর্তব্যের সমুচিতরূপ পালনের মাধ্যমে এবং অপরকেও পালন করানাের মাধ্যমে বড়াে, ছােটো সকলের প্রিয় সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠা।
.
মম পুত্রাঃ শহণােহথােমে দুহিতা বিরাট। 
উতাহস্মি সঞ্জয়া পতৌ মে শ্লোক উত্তমঃ ।।(ঋকবেদ ১০।১৫৯।৩)
.
ভাবার্থ- আমার পুত্রেরা শত্রু নাশী হউক। আমার কন্যারা তেজস্বিনী হউক। আমি বিজয়ী হইব এবং আমার পতির সুযশ হউক।
.
যা দম্পতী সমনসা সুনুত আচ ধাবতঃ।
দেবাসাে নিত্যয়াহশিরা।। (ঋগ্বেদ ৮।৩১।৫)

ভাবার্থ- হে বিদ্বান্ গণ! যে পত্নী ও পতি একসঙ্গে একমনে যজ্ঞ করে। উপাসনা দ্বারা যাহাদের মন পরমাত্মার দিকে ধাবমান হয় তাহারা নিত্য পরমাত্মার আশ্রয়েই সব কার্য্য করে।
.
প্রতি প্রাশব্যাঁ ইতঃ সম্যঞ্চা বহিরাশাতে।
| ন তা বাজেষু বায়তঃ ।। (ঋগ্বেদ ৮।৩১।৬) 
.
ভাবার্থ- যে পত্নী ও পতি একসঙ্গে মিলিয়া যজ্ঞ করে তাহারা উভয়েই নানা ভােগ্য পদার্থ উপভােগ করে এবং অন্নের জন্য ইতস্ততঃ ভ্রমন করে না।
.
পুত্রিণা তা কুমারিণ বিশ্বমায়ুরমুতঃ।
উভা হিরণ্য পেশসা।।(ঋগ্বেদ ৮।৩১।৮) 
.
ভাবার্থ- একসঙ্গে মিলিয়া যজ্ঞ করিলে পত্নী ও পতির পুত্র পুত্রী, কুমার কুমারী লাভ হয়। তাঁহার পূর্ণ আয়ু ভোগ করেন এবং উভয়ে নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের স্বর্ণ ভূষণে দীপ্যমান হন।
.
এছাড়াও বেদে বলা হয়েছে রাজাকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে এই সমস্ত বালক এবং কন্যা ব্রহ্মচর্য যুক্ত হয়ে সমৃদ্ধি প্রাপ্ত করে এবং সত্য, ন্যায়,ধর্মের নিরন্তর সেবা করে। (ঋকবেদ ৬।৪৪।১৮)
.
রাজাকে নিজের রাজ্যে সমস্ত নারীকে বিদুষী বানানাে উচিত। (যজুর্বেদ ১০।৭)
.
বিদ্বানের এটা কর্তব্য যে সমস্ত কুমার কুমারীকে পন্ডিত তৈরি করা যার দ্বারা সমস্ত বিদ্যার ফল প্রাপ্ত হয়ে তাঁরা সুমতি হােক। (ঋকবেদ ৩।১।২৩)
.
যত কুমারী আছে সবাই বিদূষীদের কাছ থেকে বিদ্যা অধ্যায়ন করুক এবং সেই কুমারী ব্রহ্মচারিণী সেই বিদূষীদের কাছ থেকে এমনটাই প্রার্থনা করুক আমাদের সকলকে বিদ্যা এবং সুশিক্ষা দ্বারা যুক্ত করুক। (ঋকবেদ ২।৪১।১৬)।
.
হে বধূ! তােমার সামনে, পিছনে, মধ্যে, অন্তে সর্বত্র বেদ বিষয়ক জ্ঞান থাকুক এবং বেদ জ্ঞানপ্রাপ্ত করে তদনুসারে তুমি নিজের সমস্ত জীবন কাটাও। (অথর্ববেদ ১৪।১।৬৪)
.
বিদ্বানরা পত্নীর সঙ্গে যজ্ঞে বসেন এবং ঈশ্বরকে নমস্কার করেন। (ঋকবেদ১।৭২।৫)।
.
বিদ্বানরা পত্নীর সঙ্গে যজ্ঞে বসেন এবং ঈশ্বরকে নমস্কার করেন। (ঋকবেদ১।৭২।৫)

.
২. বেদে মানবতা
দৃতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষ সর্বাণি ভূতানি সমীক্ষা। মিত্রস্যাহং চক্ষুষ সর্বাণি ভূতানি সমীক্ষে। মিত্রস্য চক্ষুষা সমীক্ষামহে।।(যজুর্বেদ ৩৬।১৮) 
.
ভাবার্থ- সমস্ত প্রাণী যেন আমাদের মিত্রের দৃষ্টিতে দেখে, আমিও যেন সব প্রাণীকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি। এই ভাবে আমারা সবাই যেন একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারি, সে বিষয়ে আমাদের দৃঢ় করুন।
.
সহৃদয়ং সাংমনস্যমবিদ্বেষং কৃণােমি বঃ। অন্যো অন্যমভি হয়ত বত্সং জাতমিবাগ্না।।
(অথর্ববেদ ৩।৩০।১)। 
.
ভাবার্থ- হৃদয়ের প্রেম পূর্বক ভাবনা(সহৃদয়তা), মনের শুভ বিচার, সামঞ্জস্য এবং অবিদ্বেষ স্থাপন করাে। সকলে একে অপরকে ভালােবাসাে।
.
সমানী ব আকুতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ। সমানমস্তু বাে মনােয়থা বঃ সুসহাসতি।।(ঋকবেদ ১০।১৯১।৪) 

ভাবার্থ- সকল প্রাণীর প্রতি তােমার হৃদয় আদর এবং প্রেমভাব দ্বারা পূর্ণ হােক। তােমাদের সকলের হৃদয়,মন পরস্পর সমান হােক।
.
আমার পুত্র শত্রু বিনাশী হােক এবং কন্যা তেজস্বিনী হােক। (ঋকবেদ ১০।১৫৯।৩)
.
প্রত্যেক সময় আমাদের রক্ষাকারী পরমেশ্বর আমাদের কন্যা প্রদান করুন। (ঋকবেদ ৯।৬৭।১০)
.
৩. বেদে সাম্যবাদ
অজ্যেষ্ঠাসাে অকনিষ্ঠাস এতে সং ভ্রাতরাে বাবৃধুঃ সৌভগায়। য়ুবা পিতা স্বপা রুদ্র এষাং সুদুঘা পৃশ্নিঃ সুদিনা মরুদভ্যঃ৷৷(ঋকবেদ ৫।৬০।৫)। 
.
ভাবার্থ- কেউ বড়াে নয়, কেউই ছােটো নয়, সবাই মিলেমিশে ভাই ভাই হয়ে থাকো। সকলে মিলে ঐশ্বর্যের উন্নতির জন্য চেষ্টা করাে। সকলের তরুণ পিতা উত্তম কর্ম কারী ঈশ্বর, এবং উত্তম প্রকার মনােরথকে পূর্ণকারী সুন্দর দিন যার থেকে অন্তরীক্ষের সদৃশ বুদ্ধি মানুষের জন্য বিদ্যাশিক্ষা দান করেন।
.
তে অজৈষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো মধ্যমাসাে মহসা বি বাবৃধুঃ।(ঋকবেদ ৫।৫৯।৬)। 

ভাবার্থ- তারা কেউ বড়াে নয় কেউই ছােটো নয় কেউ মধ্য নয়। কিন্তু তাঁরা সকলেই উদয়কে প্রাপ্ত করবে। এই জন্য উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ রীতির দ্বারা অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
.
৪. বেদে মাংস ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞা।
যদি নাে গাং হংসি য়দ্দ্যশ্বং য়দি পুরুষ। তং ত্বা সীসেন বিধ্যামােয়থা নাে সাে অবীরহা।।(অথর্ববেদ ১।১৬।৪)।
.
ভাবার্থ- হে চোর! যদি তুমি আমাদের নির্দোষ গােমাতা,ঘােড়া অথবা মানুষকে বধ করাে তাহলে তুমিও আমাদের দ্বারা বধ হবে। যার ফলে তুমি দ্বিতীয় বার একই কাজ করতে পারবে না। বেদে সাত্ত্বিক খাবারের বিধান
.
গােভিষ্টরেমামতি দুরেবাং য়বেন ক্ষুধং পুরুক্ত বিশ্বাম। বয়ং রাজভিঃ প্রথমা ধনান্যস্মাকেন বৃজনেনা জয়েম।।(ঋকবেদ ১০।৪৩।১০)
.
ভাবার্থ- গােদুগ্ধের প্রয়ােগের দ্বারা আমাদের দুষ্ট আচরণকারী কুৎসিত মতিগুলাে জিততে পারি। গােদুগ্ধের প্রয়ােগের ফলে বুদ্ধি সাত্ত্বিক হয়। আমাদের হৃদয়ে অবস্থানকারী, বিভিন্ন নামে প্রসিদ্ধ হে পরমেশ্বর আমাদের ক্ষুধা মেটানাের জন্য আমরা যেন সাত্ত্বিক খাবার গ্রহন করি।

.
৫. বেদে নরবলি নিষিদ্ধ
য়ৎপুরুষেণ হবিষায়জ্ঞং দেবা অতন্বত। অস্তি নু তস্মদোজীয়াে য়দ্বিব্যেনেজিরে।(অথর্ববেদ ৭।৫।৪) 
.
ভাবার্থ- মানুষের হবি দ্বারা যজ্ঞ করার থেকে ভালাে যজ্ঞ না করা।
.
ইয়ং মা হিংসীৰ্দিপাদ৷(অথর্ববেদ ১৩।১।৪৭) 
.
ভাবার্থ- দ্বিপদী প্রাণীদের প্রতি তথা মানুষের প্রতি হিংসা করাে না।
.
অনাগােহত্যা বৈ ভীমা কৃত্যে মা নাে গামশ্বং পুরুষং বধীঃ। (অথর্ববেদ ১০।১।২৯) 
.
ভাবার্থ- নিরপরাধীর বধ বড়ােই ভয়ংকর। গােরু, ঘােড়া এবং মানুষের বধ করােনা।
.
৬. বেদে বিজ্ঞান
ইদং বিষ্ণুর্বি চক্রমে ত্রেধা নি দধে পদ।
সমুল্লহমস্য পাংসুরে।।(ঋকবেদ ১।২২।১৭) 
.
ভাবার্থ- সর্বব্যাপক ঈশ্বর তিন প্রকারের এই প্রতক্ষ্য এবং অপ্রতক্ষ্য জগতকে অণু পরমাণু দ্বারা এবং প্রকৃতিকে সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে আকাশে বায়ুরূপে যা থাকে তা পৃথিবী এবং সূর্যাদি লােকের বৃদ্ধি করে।
.
পূর্বে অন্ধ্রে রজসাে অপ্ত্যস্য গবাং জনিকৃত প্ৰ কেতু। ব্যু প্রথতে বিতরং বরীয় ওভা পৃণন্তী পিত্রেরুপস্থা।।
| (ঋকবেদ ১।১২৪।৫)। 
.
ভাবার্থ- এই অন্তরিক্ষের পূর্ব ভাগে নিজের রশ্মির প্রকাশের মাধ্যমে সূর্য উদিত হয়,যা জ্ঞানের প্রকাশ করে।প্রথমে এই আলাে কেবলমাত্র ওই স্থানকেই আলােকিত করে, এবং পরে তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রকাশ অধিক থেকে অধিকতর বিস্তারিত হয়। এবং কিছু সময় পরেই পিতা-মাতার সমান বিদ্যমান দ্দ্যাবাপৃথিবীর কোল ভরিয়ে দেয়। দ্যুলােক এবং পৃথিবীকে নিজের প্রকাশের দ্বারা পূর্ণ করে।
.
অনেহাে দাত্রমদিতেরনর্বং হুবে স্বর্বদবধং নমস্ব। তদ্রোদসী জনয়তং জরিত্রে দ্যাবা রক্ষতং পৃথিবী নাে অাৎ।।(ঋগ্বেদ ১।১৮৫।৩) 
.
ভাবার্থ- আমি বিনাশরহিত সূর্য পৃথিবীর, যার মধ্যে প্রশংসিত অন্ন বিদ্যমান সেই দানপাত্রকে স্বীকার করছি। হে দিন রাত্রির সমান পিতা মাতা! সেই দান কর্মের স্তুতি করে আমার জন্য উৎপন্ন করাে। হে প্ল্যাবাপৃথিবীর সমান বর্তমান মাতা-পিতা! আমাদের অধর্মের হাত থেকে রক্ষা করাে।
.
আয়ং গৌঃ পৃশ্নীরক্রমীদসদ মাতরং পুনঃ।
পিতরং চ প্রয়স্বঃ।।(যজুর্বেদ ৩।৬) 
.
ভাবার্থ- এই প্রতক্ষ্য পৃথিবী অন্তরীক্ষে অর্থাৎ আকাশে সূর্যের চারদিকে আবর্তন করে।
.
ইন্দ্রো দীর্ঘায় চক্ষস আ সূর্যং রােহয়দ্দিবি।
বিগােভিরদ্রিমৈরয়ৎ।।(ঋগ্বেদ ১।৭।৩) 
.
ভাবার্থ- পরমেশ্বর সমস্ত লােকে দর্শনের জন্য সমস্ত পদার্থের প্রকাশের জন্য সূর্যলােককে সমস্ত লােকের মাঝে স্থাপন করেছেন। সেই সূর্য যে নিজের কিরণের দ্বারা ক্ষণে ক্ষণে মেঘকে বর্ষণ করে।
.
ক্ল ত্ৰী চক্রা ত্রিবুতাে রথস্য রূ ত্রয়াে বন্ধুরাে য়ে সুনীল্লাঃ। কদা য়ােগাে বাজিনাে রাসভস্য য়েন য়ং নাসত্যেপয়াথঃ ।।(ঋকবেদ ১।৩৪।৯) 
.
ভাবার্থ- বিভূতির ইচ্ছা যারা করে তাদের উচিৎ রথের আদি,মধ্য এবং অন্তে সমস্ত শিল্পের বন্ধনের আধারের জন্য এই তিনটি বন্ধন সম্পাদন করা তথা ঘােরার এবং ঘােরানাের জন্য সম্পাদন করা। মন এবং বুদ্ধি শরীরের রথ চক্র যা ঠিক হলেই রথ চলবে।
.
দ্বাদশ প্রধয়শ্চমেকং ত্রীণি নভ্যানি ক উ তচ্চিকেত। তত্রাহতাস্ত্রীণি শতানি শঙকবঃ ষষ্টিশ্চ খীলা অবিচাচলা রে।।(অথর্ববেদ ১০।৮।৪)। 
.
ভাবার্থ- ঈশ্বর নির্মিত কালচক্রের সংবত্সররূপ একটা চক্র। ইহার বারােমাস রুপী বারােটা প্রধি আছে। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা এই তিনটি ঋতু এই চক্রের তিনটি নাভি। ঈশ্বর একবছরকে বারাে মাস, ঋতু এবং দিনে বিভাজন করেছেন।
.
গ্রীষ্মস্তে ভূমে বর্ষাণি শরদ্ধেমন্তঃ শিশিরাে বসন্তঃ। ঋতবস্তে বিহিতা হায়নীরহােরাত্রে পৃথিবি নাে দুহাতা।।(অথর্ববেদ ১২।১।৩৬) 
.
ভাবার্থ - হে ভূমিমাতা! গ্রীষ্ম এবং অন্যান্য ঋতু তােমারই। এই ঋতুগুলাে প্রতি বছরই হয় এবং বছর পূর্ণ হয়। দিন এবং রাত আমাদের জন্য এই ঋতুচক্র থেকে উত্তম ঔষধি-বনস্পতির দোহন করে।
.
য়স্যা কৃষ্ণমরুণং চ সংহিতে অহােরাত্রে বিহিতে ভূম্যামধি। বর্ষেণ ভূমিঃ পৃথিবী বৃতাবৃতা সা নােদধাতু ভদ্রয়া প্রিয়ে ধামনিধামনি।।(অথর্ববেদ ১২।১।৫২) 
.
ভাবার্থ- এই জগতে এক দিকে অন্ধকারময় অপরদিকে প্রকাশময় রাত্রি এবং দিন পরস্পর মিলিত হয়ে রাখা দিনের পর রাত আসে এবং রাতের পর দিন। এই ভাবে দিন ও রাত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এই পৃথিবীতে সময়ে সময়ে বৃষ্টির জল আচ্ছাদিত হতে থাকে। বৃষ্টির জল আচ্ছাদিত হতে থাকে। বৃষ্টির ফলে শস্যের ঘাটতি থাকে না। এই বৃষ্টি এবং গােমাতা দের দ্বারা আচ্ছাদিত ভূমি আমাদেরকে প্রীতিকারী প্রত্যেক তেজে স্থাপিত করে।
.
সমুদ্ৰাদৰ্ণবাদধি সংবত্সরাে অজায়ত। অহােরাত্রাণি বিদধাদ্বিশ্বস্য মিষতাে বশী।।(ঋকবেদ ১০।১৯০।২)
.
 ভাবার্থ- ক্রিয়ার সাথে সাথে কাল বা সময় এর আবির্ভাব হয়। কালের মধ্যেই প্রত্যেক ক্রিয়া হয়। প্রকৃতির অণু সমুদ্রের মতাে গতিশীল ফলে কাল বা সময়ের প্রাদুর্ভাব হয়। ঈশ্বর সময় পরিমাপের জন্য দিন এবং রাত্রির সৃষ্টি করেছেন।
.
অহাত্র গােরমন্থত নাম ত্বষ্টুরপীচ্যম্।
ইথ্যা চন্দ্রমসাে গৃহে।।(ঋকবেদ ১।৮৪।১৫) 

ভাবার্থ- হে মনুষ্য! সূর্য যেভাবে পৃথিবী এবং চন্দ্রকে আলােকিত করে তােমরাও সেইভাবে ঘরে ঘরে ন্যায়ের প্রকাশ করাে।
.
আ কৃষ্ণেন রজসা বর্তমানাে নিবেশয়ন্নমূতং মর্তং চ। হিরণ্যয়েন সবিতা রথেনা দেবােয়াতি ভুবনানি পশ্যন্।। (ঋকবেদ ১।৩৫।২) 
.
ভাবার্থ- সমস্ত জগতের সৃষ্টিকর্তা অধিক প্রকাশ যুক্ত পরমেশ্বর নিজের আকর্ষণ শক্তি দ্বারা সূর্যাদি লােকের সঙ্গে ব্যাপক হয়ে অন্তর্যামীরূপ বা বেদ দ্বারা মােক্ষসাধক সত্য জ্ঞান এবং প্রলয়ের ব্যবস্থা দ্বারা মরণ যুক্ত জীবকে ভালােভাবে স্থাপন করেছেন। যশােময় জ্ঞান স্বরূপ রথে যুক্ত লােককে দেখেন এবং সমস্ত পদার্থ প্রাপ্ত করেন।
.
বি সুপর্ণো অন্তরিক্ষাণ্যখ্যগভীরবেপা অসুরঃ সুনীথঃ । কেদানী সূর্যঃ কশ্চিকেত কতমাং দ্যাং রশ্মিরস্যা ততান।।(ঋকবেদ ১।৩৫।৭) 
.
ভাবার্থ- হে বিদ্বানগণ! সূর্যালােক সকলের প্রাণ দাতা, যার কম্পন গভীর অর্থাৎ সূক্ষ্ম হওয়ায় বােঝা যায় না। উত্তম প্রকারে পদার্থের প্রাপ্তির জন্য এবং উত্তম পতন স্বভাব কিরণ যুক্ত সূর্য অন্তরীক্ষে স্থির রয়েছে সমস্ত লােককে প্রকাশিত করে এবং রাতের বেলায় পৃথিবীর বিপরীত পৃষ্ঠে চলে যায়, ফলে অন্ধকার হয়ে যায়।
.
ভুরিং দ্বে অচরন্তী চরন্তং পদ্বন্তং গর্ভমপদী দধাতে। নিত্যং ন সূনুং পিত্রোরুপস্থে দ্দ্যাবা রক্ষতং পৃথিবী নাে অভ্রাৎ।(ঋকবেদ ১।১৮৫।২) 
.
ভাবার্থ- এই দ্যুলােকস্থ পিণ্ড এবং পৃথিবীলােক অত্যন্ত তীব্র গতিশীল হয়েও স্থির দেখায়। এই দ্যুলােক এবং পৃথিবী লােকের কোনাে পা নেই। পা রহিত এই দুই দাব্বা পৃথিবী অনেক গতিশীল পাওয়ালা প্রাণীকে ধারণ করে রেখেছে। অবিচলিত হয়ে গমনকারী কেও ধারন করে এবং বিনা পাওয়ালা কেও ধারন করে রেখেছে। সেভাবেই ধারণ করে রেখেছে যেভাবে সন্তানকে তার পিতা-মাতা কোলে ধারণ করে। পিতা-মাতা যেভাবে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখেন, সেই ভাবে দ্যুলােক এবং পৃথিবীলােক আমাদের সুরক্ষিত করে রেখেছে।

.
৭. বেদে অহিংসা
দৃতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষ সর্বাণি ভূতানি সমীক্ষা। মিত্রস্যাহং চক্ষুষ সর্বাণি ভূতানি সমীক্ষে। মিত্রস্য চক্ষু সমীক্ষামহে।।(যজুর্বেদ ৩৬।১৮)। 
.
ভাবার্থ- সমস্ত প্রাণী যেন আমাদের মিত্রের দৃষ্টিতে দেখে, আমিও যেন সব প্রাণীকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি। এই ভাবে আমারা সবাই যেন একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারি,সে বিষয়ে আমাদের দৃঢ় করুন।
.
সহদয়ং সাংমনস্যমবিদ্বেষং কৃণােমি বঃ। অন্যো অন্যমভি হয়ত বত্সং জাতমিবান্না।।(অথর্ববেদ ৩।৩০।১) 
.
ভাবার্থ- হৃদয়ের প্রেম পূর্বক ভাবনা(সহৃদয়তা), মনের শুভ বিচার, সামঞ্জস্য এবং অবিদ্বেষ স্থাপন করাে। সকলে একে অপরকে ভালােবাসাে।
.
সষ্ট্ৰীচীনাম্বঃ সংমনসস্কৃণোম্যেকষ্টীসংবননেন সর্বা। দেবা ইবামৃতং রক্ষমাণাঃ সায়ংপ্রাতঃ সৌমনসাে বাে অস্তু।।(অথর্ববেদ ৩।৩০।৭) 
.
ভাবার্থ- বাড়িতে সকলে একসাথে মিলেমিশে কাজ করাে, অমৃতের রক্ষাকারী দেবতাদের সমান প্রাতঃ-সায়ং কাল পর্যন্ত পরস্পর প্রেমের সহিত থাকবে।
.
সং গচ্ছং সং বদধ্বং সং বাে মাংসি জানতাম্।
দেবা ভাগং যথা পূর্বে সংজানানা উপাসতে।।
(ঋকবেদ ১।১৯১।২)
.
ভাবার্থ- হে মনুষ্য! তোমরা মিলিত হও, একত্রে স্তব উচ্চারণ কর, তোমাদিগের মন পরস্পর একমত হউক। অধুনাতন দেবতাগণ প্রাচীন দেবতাদিগের ন্যায় একমত হইয়া যজ্ঞ ভাগ গ্রহণ করিতেছেন।
.
মা নাে বধায় হত্নবে জিহীল্লানস্য রীরধঃ।
মা হৃণানস্য মণ্যবে।।।(ঋকবেদ ১।২৫।২)
.
ভাবার্থ- হে বরুণ! যাঁরা ঘৃণা করে অথবা মারামারি করে তাদের বধ করার জন্য আমাদের সিদ্ধ করবেন না। আমরা যেন ক্ৰোধী না হয়েও অপরের উপর ক্রোধের বর্ষণ করি।
.
৮.  বেদে নিয়ােগব্যবস্থা
ইয়ং নারী পতি লোকং বৃণানা নি পদ্দ্যত উপত্বা মর্ত্য প্রেত। ধর্মং পুরাণমনুপালয়ন্তী তস্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি।।(অথর্ববেদ ১৮।৩।১)। 
.
ভাবার্থ- স্বামীর অকস্মাৎ মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ধনসম্পদ এবং সন্তান এর উত্তরাধিকারী, যদি সে ধর্ম পালনের মাধ্যমে পুনরায় স্বামীর ঘরকে বরণ করে নেয়, পিতার ঘরে ফিরে যায় না।
.
উদীষ নাভি জীবলােকং গতাসুমেতমুপ শেষ এহি। হস্তগ্রাভস্য দিধিষােস্তবেদং পতুর্জনিত্বমভি সং বভূথ।
(ঋকবেদ ১০।১৮।৮)
.
ভাবার্থ - হে নারী! তুমি মৃত পতির শোকে অচল হয়ে আছো উঠো এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসো । এবং তোমার যিনি পাণিগ্রহনকারী পূর্ণবার বিবাহের জন্যে ইচ্ছুক পতির সাথে আবার পত্নীত্ব সম্পর্ক তৈরী করো।

.
৯. বেদে নিরপরাধীদের প্রাণের রক্ষা
অনাগােহত্যা বৈ ভীমা কৃত্যে মা নাে গামশ্বং পুরুষং বধীঃ।(অথর্ববেদ ১০।১।২৯) 
.
ভাবার্থ- নিরপরাধীর বধ বড়ােই ভয়ংকর। গােরু, ঘােড়া এবং মানুষের বধ করােনা।
.
অধা মন্যে শ্ৰত্তে অম্মা অধায়ি বৃষা চোদস্ব মহতে ধনায়। মা নাে অকৃতে পুরুহুত য়ােনাবিন্দ্র ক্ষুধ্যদভ্যো বয় আসুতিং দাঃ ।।(ঋকবেদ ১।১০৪।৭) 
.
ভাবার্থ- যাঁরা নিরপরাধ তাদের কখনাে শাস্তি দিও না, তাদের লালন-পালন করে তাদের উন্নতি করাে। পুরুষার্থ এর মাধ্যমে তাদের আনন্দিত করাে।
.
মা নাে বধীরিন্দ্র মা পরা দা মা নঃ প্রিয়া ভােজনানি প্র মােষীঃ। আণ্ডা মা নাে মঘবক্র নির্ভেন্মা নঃ পাত্রা ভেসহজানুষাণি৷৷ (ঋকবেদ ১।১০৪।৮) 
.
ভাবার্থ- অন্যায়ভাবে কাউকে মেরােনা, কোনাে ধার্মিক মানুষ থেকে বিমুখ না হয়ে, চুরি-ডাকাতি এই সমস্ত কিছু দোষরহিত হয়ে যেভাবে পরমেশ্বর দয়ার প্রকাশ করেছেন সেইরকম নিজের রাজ্যের কাজে প্রবৃত্ত হও। এরকম আচরণ ছাড়া প্রজা রাজা কেউ সন্তুষ্ট হতে পারেনা।
.
১০. বেদে মদ্যপান নিষিদ্ধ
হস্তু পীতাসােয়ুধ্যন্তে দুর্মদাসাে ন সুরায়া।
উধর্ন নগ্না জরতে।।(ঋকবেদ ৮।২।১২) 

ভাবার্থ- যারা মন খুলে মদ্যপান করে, নিজেদের মধ্যে লড়াই করে এবং নগ্ন হয়ে সারা রাত ধরে বকবক করে তাঁরা দুষ্টবুদ্ধি লােক।
.
অস্য পিবয়স্য জজ্ঞান ইন্দ্র মদায় ক্ৰত্বে অপিবাে বিরশি। তমু তে গাবাে নর আপাে অদ্রিরিন্দুং সমহল্পীতয়ে সমস্মৈ।।(ঋকবেদ ৬।৪০।২)
.
ভাবার্থ- যা খেলে এবং পান করলে বুদ্ধি ও শক্তি বৃদ্ধি পায় তা তুমি খাও এবং পান করাে, অপরকেও খাওয়াও এবং পান করাও। সেই বস্তু পান করবেনা এবং অপরকেও পান করাবে না যার দ্বারা বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়।
.
অয়ং মে পীত উদিয়ৰ্ত্তি বাচময়ং মনীষামুশতীমজীগঃ। অয়ং ষলুবীরমিমীত ধীরাে ন য়াভ্যো ভুবনং কচ্চনারে।। (ঋকবেদ ৬।৪৭।৩)। 
.
ভাবার্থ- হে মনুষ্য! যা পান করলে বাণী, বুদ্ধি এবং শরীর ঠিক থাকে তথা যা শাস্ত্র সম্মত গ্রহণযােগ্য, সেটাই গ্রহণ করা উচিৎ এবং সেটা নয় যেটা বুদ্ধিভ্রষ্ট করে।

No comments:

Post a comment