অসম্ভব কাজ কে সম্ভব করে নাসা থেকে ডাক পেলেন ভারতীয় যুবক গোপাল - VedasBD.com

Breaking

Monday, 10 February 2020

অসম্ভব কাজ কে সম্ভব করে নাসা থেকে ডাক পেলেন ভারতীয় যুবক গোপাল


অসম্ভব কাজ কে সম্ভব করে নাসা থেকে ডাক পেলেন ভারতীয় যুবক গোপাল


বছর উনিশের এক তরুণ কলাগাছ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। না কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়, খাস বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা গোপালজি ঘটিয়েছে এমন অত্যাশ্চর্যক ঘটনা। সম্প্রতি কলাগাছ বা কলাপাতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে সেই বিদ্যুতে আলো জ্বালিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। তার আবিস্কারের কথা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়া মাত্র ডাক এসেছে নাসা থেকে।
.
যদি এইরকম অল্প বয়সে তার কৃতিত্বগুলি তার সূক্ষ্মতার কথা বলে তবে তার জীবনের উদ্দেশ্য কেবল নিজের জন্যই নয়। বৃহত্তর সমাজের জন্যও ভবিষ্যতের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলেছে।আজ, তিনি একজন উদ্ভাবক, একজন গবেষক, ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং প্রেরণাদায়ী স্পিকার সবাই এক হয়ে গেছেন। তিনি ইতিমধ্যে কলা এবং কাগজ জৈব কোষের দুটি পেটেন্ট পেয়েছেন, অন্য পরীক্ষায় কাজ চলছে। তাইপেই প্রদর্শনীতে ১০ টি দেশের ৩০ টি স্টার্টআপের মধ্যে তাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবং তিনি এখনও একটি ছাত্র, তিনি  বিটেক করছেন।তিনি হলেন গোপাল জি, বিহারের ভাগলপুর জেলার একটি ননডিস্ক্রিপ্ট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি সরকারী স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন, সাধারণত তারুণ্যের স্বপ্নগুলিতে ডানা যুক্ত করতে সজ্জিত নন, তবে তার সবসময় অন্যান্য ধারণা ছিল।

.
নিজেকে দারিদ্র্যের শেকলে আবদ্ধ করার মতো নয়, যার সাথে তিনি বেড়ে ওঠেন, দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রথম প্রকাশ পায় তাঁর এই বিশেষ স্বত্তা। জীবনের প্রথম আবিষ্কারটা ওই সময়ই করেন গোপালজি। সেই আবিস্কারের কারণ তাঁকে ইন্সপায়ার আওয়ার্ড পুরষ্কারও পান। ব্যস তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একে একে ডাক আসে নামী-দামি প্রতিষ্ঠান থেকে। কখনও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাকে ডাকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য কখনও আবার জাপানের বিজ্ঞান মঞ্চের প্রদর্শনীতে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যায় ভাগলপুরের এই যুবক।বিহারের অসাধারণ প্রতিভায় চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগার বাকিদের। গোপালের আবিস্কারের জন্য বিদেশ থেকে বিজ্ঞানীরা এসে দেখা করে গিয়েছেন তাঁর সঙ্গে। তার ঝুলিতে রয়েছে দুটি আবিস্কারের পেটেন্টও। কিন্তু এখানেই থেমে থাকবেন না গোপাল। আপাতত ব্যাচেলর অব টেকনোলজির এই ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে পিএইচডি করার ইচ্ছে রয়েছে গোপালের।  ৩১ আগস্ট, ২০১৭ তে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে সাক্ষাত করেছেন। তিনি বলেন “এটি মাত্র ৭-১০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত সভা ছিল এবং সেখান থেকে আমাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে পরিচালিত করা হয়েছিল, সেখান থেকে আমাকে ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (এনআইএফ), আহমেদাবাদে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে আমি ৪-৫ টি আবিষ্কার করেছি।
.
সেখান থেকেই আমি বিদেশ থেকে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করি, যদিও আমার কলা পাতার উদ্ভাবনের পরে প্রথম আমন্ত্রণটি আমাকে অনুপ্রেরণা পুরস্কার এনেছে, ”তিনি বলেছিলেন।তার আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি হ’ল গোপোনিয়াম খাদ, যা খুব উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। “যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিজ্ঞানীও আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। আমি ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) এর কাছ থেকেও আমন্ত্রণ পেয়েছি তিন বার।  তবে আমি সর্বদা আমার দেশে থেকে কিছু করতে চেয়েছিলাম।  যাতে আমি আমার সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারি।তবে যতই বিদেশ বিভূঁই থেকে ডাক আসুক না কেন, গোপাল স্বপ্ন দেখেন দেশের জন্য কিছু করার এবং তা দেশের মাটিতে থেকেই। আপাতত দুবাইয়ের একটি কনফারেন্সে মুখ্য বক্তা হিসেবে যোগদান করতে চলেছেন গোপাল। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুরেও আমন্ত্রণ রয়েছে তাঁর।

No comments:

Post a comment