ইসলামে হজ্জ কারীদের কেন মূর্তিপূজক বলা হয় - VedasBD.com

Breaking

Saturday, 25 January 2020

ইসলামে হজ্জ কারীদের কেন মূর্তিপূজক বলা হয়




হাদিসের বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য গ্রন্থে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরে চুমু খাওয়া সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর নির্ভরযোগ্য বাণী এবং সাহাবাগণের আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়। বিখ্যাত সাহাবী হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমরকে (রা.) হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলকে (সা.) পাথরটি স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। 
(সহিহ মুসলিম : হা. ১২৬৭)
.
অন্য এক হাদিসে এসেছে রাসূল (সা.) বলেছেন ‘হাজরে আসওয়াদ’ জান্নাতি একটি পাথর, এর রঙ দুধের চেয়ে বেশি সাদা ছিল। এরপর আদম সন্তানদের পাপরাশি তাকে কালো বানিয়ে দিয়েছে।’ (জামে তিরমিযী : ৮৭৭, মুসনাদে আহমাদ : ১/৩০৭, ৩২৯)
.
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- তোমরা এই পাথরটিকে বেশি বেশি চুম্বন করো। কারণ তোমরা হয়তো অচিরেই তাকে হারিয়ে ফেলবে। এমন একটি সময় আসবে যখন লোকেরা রাতের বেলায় পাথরটিকে চুম্বন করে সকাল উঠে তাকে আর দেখতে পাবে না। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে দুনিয়াতে অবস্থিত জান্নাতি সকল বস্তু স্ব-স্থানে ফিরিয়ে দেবেন। (আখবারু মক্কা, আযরুকী : ১/৩৪২-৩৪৩)
.
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) আরো বলেন যে, রাসূল (সা.) বিদায় হজের সময় একটি উটের ওপর সওয়ার হয়ে তাওয়াফ করছিলেন এবং সে সময় তিনি একটি বাঁকা মাথাওয়ালা লাঠির মাধ্যমে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করেছেন। (ফাতহুলবারী : ৩/৫৩৬ হা. ১৬০৭)

এছাড়া রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদ পাথরটি ‘আবু কুবাইস’ পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে উপস্থিত হবে। তখন পাথরটির একটি জিহবা ও দুটি ঠোঁট থাকবে, হজ পালনের সময় কোন হাজী কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে, সে সম্পর্কে পাথরটি তখন বক্তব্য দেবে। (সহিহ ইবনে খুযায়মা : ৪/২২১, মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৫৭)
.
অথচ পাপ মোচনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে, কোন পাথরের হাতে নয়। যা কোরানে পরিস্কার বলা আছে যেমন-
.
সূরা মায়েদা [5:76]
قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَٱللَّهُ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ
.
বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর এবাদত কর যে, তোমাদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? অথচ আল্লাহ সব শুনেন ও জানেন।
.
Say: Will ye worship, besides Allah, something which hath no power either to harm or benefit you? But Allah,- He it is that heareth and knoweth all things.  [সূরা মায়েদা ৫:৭৬]

.
সূরাঃ আর-রাদ  [13:16]

قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ قُلِ ٱللَّهُ قُلْ أَفَٱتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِى ٱلظُّلُمَٰتُ وَٱلنُّورُ أَمْ جَعَلُوا۟ لِلَّهِ شُرَكَآءَ خَلَقُوا۟ كَخَلْقِهِۦ فَتَشَٰبَهَ ٱلْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍ وَهُوَ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّٰرُ
.
জিজ্ঞেস করুন নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনঃ আল্লাহ! বলুনঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল-মন্দের ও মালিক নয়? বলুনঃ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়। তবে কি তারা আল্লাহর জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, তারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বলুনঃ আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।
.
Say: Who is the Lord and Sustainer of the heavens and the earth? Say: (It is) Allah. Say: Do ye then take (for worship) protectors other than Him, such as have no power either for good or for harm to themselves? Say: Are the blind equal with those who see? Or the depths of darkness equal with light? Or do they assign to Allah partners who have created (anything) as He has created, so that the creation seemed to them similar? Say: Allah is the Creator of all things: He is the One, the Supreme and Irresistible.
.

সূরাঃ আল-আম্বিয়া  [21:66]

قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْـًٔا وَلَا يَضُرُّكُمْ
.
তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর, যা তোমাদের কোন উপকার ও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না ?
.
(Abraham) said, Do ye then worship, besides Allah, things that can neither be of any good to you nor do you harm?
.
সূরাঃ আল-ফুরকান  [25:55]

وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُهُمْ وَلَا يَضُرُّهُمْ وَكَانَ ٱلْكَافِرُ عَلَىٰ رَبِّهِۦ ظَهِيرًا
.
তারা এবাদত করে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর, যা তাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। কাফের তো তার পালনকর্তার প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী।
.
Yet do they worship, besides Allah, things that can neither profit them nor harm them: and the Misbeliever is a helper (of Evil), against his own Lord!
.
কোরানে বলছে আল্লাহ ছাড়া ভাল মন্দ করার ক্ষমতা আর কারো নেই। অথচ একই সাথে মোহাম্মদ বলছে কাল পাথরে পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান। যা শিরক ছাড়া আর কিছু নয়।

2 comments:

  1. দুঃখজনক! মিথ্যাচারগুলো না করলে ভালো। যে হাদিসগুলো দিয়েছেন, দ্বিতীয়টা একটু পরিবর্তন করেছেন। প্রথমটা তো সম্পূর্ণ ভুয়া রেফারেন্স।
    আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকূত (দীপ্তিশীল মূল্যবান মণি) হতে দুটো ইয়াকূত। আল্লাহ্ তা'আলা এই দুটির আলোকপ্রতা নিম্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দুটির প্রভা যদি তিনি নিস্তেজ করে না দিতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত।

    -সহীহ, মিশকাত (২৫৭৯)।


    ফুটনোটঃ
    আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমির (রাঃ)-এর এই বক্তব্য মাওকুফভাবে বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতেও এই বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে, তবে তা গারীব।

    জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৮৭৮
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    উমাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    ভীড় ঠেলে হলেও ইবনু উমার (রাঃ) হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর নিকটে যেতেন (তা ম্পর্শ করার জন্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য কোন সাহাবীকে আমি এরূপ করতে দেখিনাই। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রাহমান! আপনি ভীড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌছেন, কিন্তু আমি তো ভীড় ঠেলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যকোন সাহাবীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বললেন, আমি এরূপ কেন করব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।

    -সহীহ, তালিকুল রাগীব (২/১২০)। আমি তাকে আরো বলতে শুনেছিঃ সঠিকভাবে যদি কোন লোক বাইতুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে তাহলে তার একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সাওয়াব হয়। -সহীহ ইবনু মা-জাহ (২৯৫৬) তাকে আমি আরো বলতে শুনেছিঃ যখনই কোন ব্যক্তি তাওয়াফ করতে গিয়ে এক পা রাখে এবং অপর পা তোলে আল্লাহ তখন তার একটি করে গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি করে-সাওয়াব লিখে দেন। -সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১২০), মিশকাত (২৫৮০)।


    ফুটনোটঃ
    আবূ ঈসা বলেন, একইরকম হাদীস ইবনু উমার (রাঃ) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত.আছে। কিন্তু সেই সনদে উমাইরের উল্লেখ নেই। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।

    জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৯৫৯
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    দ্বিতীয় হাদিসে Passive Voice ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে বলা হচ্ছে, কাফফারা হয়ে যায় আর কাফফারা অর্থ পাপসমূহ ঢেকে দেওয়া। বলা হয়নি পাপ মোচন করে। অর্থাৎ, by Allah উহ্য রাখা হয়েছে। সুতরাং হাদিস এবং কুরআনে কোনো পরস্পরবিরোধী বিরোধী বক্তব্য নেই।
    অতএব, আপনি একটা মিথ্যাবাদী। আপনার এই সাইটটা মিথ্যা তথ্যে ঠাসা। এইসব পড়েই হিন্দু ভাইয়েরা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ও মিথ্যা ধারণা লাভ করে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. উক্ত রেফারেন্সের ভিত্তিতে আপনি ব্লগের এই লেখাটা ভুল প্রমাণ করে দেখান, আমি পোস্টটা ডিলিট করে দিব।

      Delete