বৈদিক যজ্ঞ সম্বন্ধে ভ্রান্তি নিবারণ ও অপপ্রচারের জবাব - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 24 December 2019

বৈদিক যজ্ঞ সম্বন্ধে ভ্রান্তি নিবারণ ও অপপ্রচারের জবাব


যজ্ঞ হল বৈদিক ধর্মের একটা অত্যাবশ্যক অঙ্গ। বেদের বহুস্থলে যজ্ঞেরমাহাত্ম্য সম্বন্ধে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনাকরাহয়েছে। এমনও বলাহয়েছে যেযজ্ঞের দ্বারাই ভগবানের পূজা ও মােক্ষ প্রাপ্তি হয়। 
.
যজ্ঞেন যজ্ঞময়জন্ত দেবাস্তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাস। তেহনাকং মহিমানঃ সচন্ত য়ত্র পূর্বে সাধ্যাঃ সন্তিদেবাঃ।। ঋগ১০.৯০.১৬ অর্থাৎ সত্যনিষ্ঠ বিদ্বানেরা যজ্ঞের দ্বারাই পরমেশ্বরের পূজা করেন। যজ্ঞে সব শ্রেষ্ঠ ধর্মের সমাবেশ হয়। মহান ব্যক্তিরা যজ্ঞ দ্বারা ভগবানের পূজা করে দুঃখরহিত হয়ে মােক্ষলাভ করেন। 
.
 সাধনসম্পন্ন ও জ্ঞানসম্পন্ন বিদ্বানেরা যেখানে পূর্ব হতেই বাস করছেন ইত্যাদি এই মন্ত্রে উল্লেখযােগ্য বিষয়। এখানে বুঝতে হবে যে ‘য়জ্ঞ’ শব্দ ‘য়জ’ ধাতু থেকে তৈরী হয়েছে যার তিনটি অর্থধাতুপাঠে বর্ণিত
দেবপূজা, সঙ্গতিকরণ ও দান  এরমধ্যে সবকর্তব্যনিহিত আছে, এইজন্যউক্তউল্লেখিতমন্ত্রের প্রথম চরণে ‘যজ্ঞেন' এই একবচন প্রয়ােগ করেও ‘তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাস এই রূপে পরে বহুবচনের প্রয়ােগ করা হয়েছে। মুখ্যতঃ মনুষ্যের তিনটি কর্তব্য (১) নিজের চেয়ে বড়ােদের প্রতি (২) নিজের সমকক্ষ তাদের প্রতি (৩) নিজের চেয়ে ছােটদের প্রতি। দেবপূজা, সঙ্গতিকরণ  ও দানের মাধ্যমে এই তিনটি কর্তব্যেরস্পষ্ট নির্দেশ পাওয়াযায়। এইজন্য, ‘য়জ্ঞােবৈশ্রেষ্ঠতমং কর্ম,' (শতপথ ১,৭,৩,৫), ‘য়জ্ঞাে হি শ্রেষ্ঠতমং কর্ম, তৈত্তিরীয় সংহিতা ৩.২.১.৪) ইত্যাদিবাক্য প্রাচীন সাহিত্যে আমরা দেখতে পাই। এখানে যজ্ঞকে শ্রেষ্ঠতম কর্ম বলে অভিহিত করা হয়েছে। 
.
যারা যজ্ঞ করেনা, তাদের কী দুর্গতি হয় এবং কেমন তাদের অধঃপতন হয় তা ঋগ্বেদের (১০.৪৪.৬) ও অথর্ববেদের (২০.৯৪.৬) এই মন্ত্রে বলা হয়েছে:–
নয়ে শেকুয়জ্ঞিয়াং নাবমারুহইমেব তে ন্যবিশন্ত কেপয়ঃ। 
অর্থাৎ-(যে) যেব্যক্তিরা (যজ্ঞিয়াং নাবআরুহন শেকৃঃ) যজ্ঞময়ী নৌকায় আরােহণ করতে সক্ষম হয় না (তে) তারা (কেপয়ঃ) কুৎসিৎ, অপবিত্র আচরণকারী হয়ে (ইর্মা এব) এখানে, এইলােকেই (ন্যবিশন্ত) ক্রমশঃ অধঃপতিত হতে থাকে। 
.
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, বেদে যে যজ্ঞের মহিমা এতাে বিশদূভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং যাকে পরমেশ্বরের পূজা ও প্রাপ্তির সাধন বলা হয়েছে সেই যজ্ঞ সম্পর্কে মধ্যকালবতী আচার্য, পাশ্চাত্য বিদ্বান ও তাঁদের পথানুসারী ভারতীয় বিদ্বারা কীজঘন্য মন্তব্য প্রকাশ করেছেন যা পাঠ করে কোন বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি লজ্জাবােধ না করে পারেন না। সেই সব বিদ্বানেরা তাঁদেরগ্রন্থেঅনেকস্থলেউল্লেখকরেছেন যে, বৈদিকযজ্ঞে মেষ, অজ (ছাগল), বৃষ, গাভিরবলিরবিধানআছে। "VedicAge'নামক গ্রন্থের লেখকও সেই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে লিখেছেন - 
.
scarcely less debased than the Dana Stutis are the Apri hymns, manufactured artificially for employment in animal sacrifices.... There is no reason to doubt that these hymns were actually used at the animal sacrifices as tradition maintains. - The Vedic Age, Page 348. | অর্থাৎ আপ্রী সূক্তও দান-স্তুতিদের সমান অত্যন্ত নিকৃষ্ট। এগুলি কৃত্রিমভাবে যজ্ঞে পশুবলির জন্য তৈরী করা হয়েছে। সন্দেহের কোন কারণ নেই যে এই সূক্তগুলির প্রয়ােগ যজ্ঞে পশুবলির জন্য করা হতাে। এটাই ছিলাে পরম্পরাগত বিশ্বাস।  
.
অন্য একটি স্থানে উক্ত লেখক যজ্ঞের সম্বন্ধে লিখছেন
! We need not discuss here at length the problem of the original theory of the sacrifice – whether the magic art of perpetuating the life of the herbs and of vegetation, and even of man, was the es sence of the sacrifice, and whether the gift theory was original or secondary. We may only note that when the Kaushik Sutra (XIII, 1 6) prescribes a magic rite in which portions of the bodies of some animals and human beings such as a lion, a tiger, a Kshatriya and a Brahmacharin are to be eaten to acquire certain qualities, not totemism but the conception of sacramental communion is hinted at - The Vedic Age, Page-501 .. 
.
 ভাবার্থ – যজ্ঞের মূল নিয়মের সমস্যা নিয়ে আলােচনার দরকার নেই। গুল্ম-বনস্পতিবামনুষ্যেরজীবনস্থায়ীকরারজন্য জাদুবিদ্যার প্রয়ােগ হতাে কিনা ঠিক নেই কিন্তু কৌশিক সূত্রে এই রকম একটা অনুষ্ঠানের কথা পাওয়া যায় যেখানে ক্ষত্রিয়ও ব্রহ্মচারীর, ব্যাঘ্র ও সিংহেরশরীরের কিছু অংশ খাওয়ানাে হতাে যাতে কিছু বিশেষ যােগ্যতা অর্জন করা যায়। | এই বিষয়ে বিস্তৃত আলােচনা করতে গেলে একটি বৃহৎ গ্রন্থের প্রয়ােজন তাই এইসব ভ্রান্তি দূর করার উদ্দেশে নিম্নে কয়েকটি নির্দেশ লিখিত হলাে – 
| (১) সব বেদে যজ্ঞের পর্যায়শব্দ বা বিশেষণরূপে ‘অধ্বর' শব্দের প্রয়ােগ শতাধিক স্থলে পাওয়া যায় যার ব্যুৎপত্তি করার সময় নিরুক্তকার যাস্কাচার্য লিখেছেন 
অধ্বর ইতিয়জ্ঞনাম-ধ্বরতিহিংসাকর্মতৎপ্রতিষেধঃ। 
নিরূক্ত২.৭ অর্থাৎ যজ্ঞের নাম অধ্বর যার অর্থ হিংসারহিত কর্ম। চারবেদ থেকে কয়েকটি প্রমাণ এখানে প্রদত্ত হলাে। ঋগ্বেদের কয়েকটি মন্ত্র দেখুন - 
.
(ক) অগ্নে মেয়জ্ঞমধ্বরং বিশ্বতঃ পরিভূরসি। সঈদ দেবেষুগচ্ছতি।। 
- ঋগ0১.১.৪ এই মন্ত্রে বলা হয়েছে সে, হে জ্ঞানস্বরূপ পরমেশ্বর, তুমি হিংসারহিত যজ্ঞে ব্যাপ্ত থাকো এবং এইরকম যজ্ঞ সত্যনিষ্ঠ বিদ্বানেরা স্বীকার করে থাকেন। 
(খ) রাজন্তমধ্বরানাং গােপামৃতস্য দীদিবি। বর্ধমানং স্বে দমে।। 
| - ঋ০১.১.৮ | এখানেও পরমাত্মাকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত সব কমে বিরাজমানবলাহয়েছে। এর দ্বারাযজ্ঞে পশুবলিনিষেধকরাহয়। 
(গ) ত্বং হােতা মনুহিত্যেগ্নেয়জ্ঞেষুসীদসি। সেমং নাে অধ্বরং য়জ।। | ঋগ০১.১৪.২১ 
এখানেও যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং হােতাকে বলা হয়েছে যে তুমি হিংসারহিত যজ্ঞ করাও। 
(ঘ) স সুক্ৰতু পুরােহিতাে দমে দমেন্নিয়জ্ঞস্যাধ্বরস্য চেততি ক্ৰয়জ্ঞস্য চেততি। | ঋগ0১.১২৮.৪। | এখানে বলা হয়েছে যে, পরমাত্মা ও বেদজ্ঞানী পুরােহিত হিংসারহিত যজ্ঞেরই সর্বদা উপদেশ দিয়ে থাকেন। 
(ঙ) প্রতিত্যং চারুমধ্বরং গােপীথায় হুয়সে। মরুভিরশ্ন আগহি।। ঋগ১.১৯.১
জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা ও পুরােহিতকে অগ্নি নামে সম্বােধিত করে বলা হয়েছে যে পাপাদিথেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই চারু (সুন্দর), হিংসারহিত যজ্ঞরূপশুভকর্মেআমরা তােমাকে আহ্বান করি। তুমিবিদ্বান ঋত্বিকদেরঅর্থাৎ প্রাণশক্তিদেরসহিত এখানে আগমন করাে। 
.
মরুতইতি ঋত্বিঙ নামসু নিঘন্টু ৩.১৮ প্রাণবৈমরুতঃ - ঐত০৩.১৬ 
(চ) ঋগ্বেদের ৩.২০.১ মন্ত্রে যজ্ঞের জন্য অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত বিশেষণের প্রয়ােগ করে বলা হয়েছে যে দেবগণ এইরকম হিংসারহিত যজ্ঞেরই কামনা করেন। মন্ত্রটির উত্তরাদ্ধ এইরূপ | সুজ্যোতিষাে নঃ শৃন্বন্তু দেবাঃ, সজোষসাে অধ্বরং বাবশানাঃ।। 
| ঋ০৩.২০.১ | অর্থাৎ উত্তম জ্ঞানজ্যোতিসম্পন্ন, প্রেমযুক্ত, অহিংস যজ্ঞকে দেব - সত্যনিষ্ঠ বিদ্বান্ কামনা করেন, তাঁরা আমাদের প্রার্থনা শ্রবণ করুন। 
(ছ) অগ্নইলাসমিধ্যসেবীতিহােত্রাঅমর্ত্যঃ। জুষস্বসূনাে অধ্বর।। ঋ০১.২৪.২ | 
 এখানে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত কর্ম এই যজ্ঞে প্রয়ােগ হােক এবং জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মাকে স্বীকার করার প্রার্থনা করা হয়েছে। 
.
(জ) য়স্য মর্গে অধ্বরং জুজোযষা দেবাে মর্তস্য সুধিতং ররাণঃ। 
প্রীতেদসদ্ধোত্তা সায়বিষ্টাসাময়স্য বিধততাবৃধাসঃ।। 
ঋগ০৪.২.১০ অর্থাৎ হেজ্ঞানময় পরমেশ্বর, যার হিংসারহিত যজ্ঞকে তুমি প্রেমপূর্বকস্বীকার করো প্রেমময়ীওশক্তিশালিনী হয়ে যায়। এইরকম সত্য উপাসকদের সঙ্গতি লাভ করে আমরা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হই। 
| এইরূপ ঋগ্বেদের বহু মন্ত্রে অধ্বর শব্দের প্রয়ােগ লক্ষিত হয়, যথা – মন্ত্র ১.২৬.১; ১.৪৪.১৩; ১.৭৪,১; ১.৯৩.১২; ১.১০.৮; ১.১৩৫.৩; ১.৫১.৩; ২.২.৫; ৩.১৭.৫; ৩.২০.১; ৩.২০.৫; ৩.৫৪.১২; ৪.৯.৬; ৪.১৫.২; ৪.৩৭.১; ৫.৪.৮; 
.
৫.২৬.৩; ৫.২৮.৬; ৫.৪০.৫; ৬.২.৩; ৬.১৫.৭; ৬.১৬.২; ৭.৩.১; ৭.৪.১৬; ৮.৩.৫; ৭; ৮.২৭.১; ৮.৩৫.২৩; ৮.৪৬.১৮; ৮.৫০.৫; ১০; ৮.৬০.২; ৮.৬৬.১; ৮.৭১.১২; ৮.৯৩.২৩; ৯.৬৭.১; ৮.৭২.৫; ৮.৬৬.১; ৮.৭১.১২; ৮.৯৩.২৩; ৯.৬৭.১; ৮.৭২.৫; ৮.৮২.৩; ৮.৯৮.৩; ৮.১০২.৬; ৮; ১০.৮.৩; ৮.১১.৪; ৮.১৭.৭; ৮.২১.৬; ৮ ৩০.১৫; ১০.৭৭,৮; ১০.২২.৭ ইত্যাদি। 
--
যজুর্বেদ যজ্ঞার্থে অধ্বরাদি শব্দ যজুর্বেদের অনেক মন্ত্রে যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দের প্রয়ােগ হয়েছে এবং উপদেশের মাধ্যমে পশুহিংসার নিষেধ করা হয়েছে 
দূতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষ সর্বানি ভূতানি সমীক্ষাং । মিত্রস্যাহং চক্ষুষা সর্বাণি ভূতাণি সমীক্ষে মিত্রস্য চক্ষুসা সমীক্ষামহে।। যজু০ ৩৬.১৮ 
 অর্থাৎ হে অজ্ঞানান্ধকার নাশক প্রভাে, সব প্রাণী আমাকে মিত্রের দৃষ্টি দিয়ে দেখুক, আমি সব প্রাণীকে (কেবল মনুষ্যই নয়) মিত্রের প্রেমময়দৃষ্টি দিয়ে দেখি, আমরাসকলে পারস্পরিক মিত্রতা অক্ষুন্নরাখি। 
।| যজু০১.১.মন্ত্রেযজ্ঞকে শ্রেষ্ঠতমকর্মবলে সম্বােধনকরে বলা হয়েছে ‘পশূ পাহি’, পশুদের রক্ষা করাে। যজু০৬.১১ মন্ত্রে পতি-পত্নীকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে ‘পশুংস্ত্রায়েথাম’ পশুদের রক্ষা করাে। যজু০১৪.৮ মন্ত্রে উপদেশ দেওয়া হয়েছে – 
| দ্বিপাদব চতুষ্পদ পাহি। 
অর্থাৎ হেমনুষ্য, তুমি দ্বিপদ অর্থাৎ মনুষ্যদের এবং চতুষ্পদ অর্থাৎ পশুদের সর্বদা রক্ষা করাে। 
.
হম এইরূপ পশুরক্ষার প্রতিপাদনে এবং পশুহিংসার নিষেধে নির্দেশ আছে - 
গাং মা হিংসীরদিতিং বিরাজম।।। যজু০১৩.৪৩
 ইমং মা হিংসীদ্বিপাদং পশুম্।। যজু০১৩.৪৭ 
ইমং মা হিংসীরেক শফং পশুং কনিক্ৰদং বাজিনং। বাজিনেষু।।  যজু০১৩.৪৮
 [ ইমমূর্ণায়ং বরুণস্যনাভিং চং পশূনাং দ্বিপদাং চতুস্পদ। 
ত্বঃ প্রজানাং পরম জনিমগ্নেমা হিংসীঃ পরমে ব্যোম।। যজু০১৩.৫০ 
.
এইরকমঅজস্রমন্ত্র পাওয়া যায় যেখানেগাভী, অশ্ব, মেষাদি পশুদের প্রতিহিংসাকরানিষেধকরাহয়েছে। অধ্বরশব্দযজ্ঞের সমার্থক ও বিশেষণরূপেব্যবহৃত হয়েছে, এইরকমমন্ত্রেরসংখ্যা কমপক্ষে ৪৩। 

ক) ভদ্রো নাে অগ্নিরাহুতাে ভদ্রা রাতিঃ সুভগ ভদ্রো অধ্বরঃ। ভদ্রাউত প্রশস্তয়ঃ।। | যজু০১৫.৩৮ 
খ) বীতিহােত্রং ত্বা কবে দুমন্তং সমিধীমহি অগ্নে বৃহন্তমব্বরে।। | যজু০২.৪। | 
গ) উপ প্রয়লাে অধ্বরং মন্ত্রং বােচেমান্নয়ে আরে অস্মেচ শৃন্বতে।। | যজু০৩.১১ | 
ঘ) হবিষ্মতীরিমা আপােহবিষ্যং২৪ আবিবসতি। হবি। দেবােঅব্বরােহবিং ২অস্তসূর্যঃ।। যজুঃ ৬.২৩ 
ঙ) হৃদেমনসেত্বাদিবোসূৰ্যায়ত্ব। উর্ধমিমধ্বরং দিবি দেবেষুহােত্রায়চ্ছ।। | যজু০৬.২৫ |
চ) মন্মানি ধীভিরুতযজ্ঞমৃন্ধদেবাচকৃনুহ্যব্বরংনঃ।। 
যজু০২৯.২৬
.
সামবেদেও যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দের ব্যবহার বহু মন্ত্রে দেখতে পাওয়া যায়; যেমন - মন্ত্র ১৬ - প্রতিত্যং চারুমধ্বরং গােপীয় প্রহ্য়সে। মরুদভিরশ্ন আগহি।। 
- এখানে যজ্ঞকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত শুভকর্ম এবং চারু অর্থাৎ উত্তম বলা হয়েছে এবং সেখানে বিদ্বানদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। | মন্ত্র ২১-অগ্নিং বােবৃধমধ্বরানাং পুরুতমম্। অচ্ছানপত্রে 
সহস্বতে।। | - এখানে অগ্নি পরমেশ্বর ও জ্ঞানী বিদ্বান-অগ্রণী নেতাকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত যজ্ঞকে বর্ধিত ও প্রােৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে। 
মন্ত্র ৩২ - কবিমগ্নিমুপস্তুহি সত্যধর্মাণমধ্বরে। দেবমমীবচাতন।। | এখানেও যজ্ঞকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত শুভকর্ম বলা হয়েছে। যজ্ঞে সত্য ধর্ম (শাশ্বত নিত্য নিয়ম) রক্ষক, সর্বরােগনাশক, জ্ঞানস্বরূপ পরমেশ্বরের স্তুতির উপদেশ দেওয়া হয়েছে।  
.
এছাড়া নিম্ন মন্ত্রগুলিও বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য কেননা এগুলিতে যজ্ঞে পশুবলির স্পষ্ট নিষেধ পাওয়া যায়-
নকিদেবাইনীমসিনক্যায়ােপয়ামসি,মন্ত্ৰত্যং চরামসি।। সামপূর্ব ২.৪.২। | এই মন্ত্রটির ব্যাখ্যায় ভাষ্যকার সায়ণাচার্য লিখছেন – হে দেবাঃ! য়ুষ্ম বিষয়ে কিমপিন হিংস্ম শ্রুতৌবিধিবাক্য প্রতিপদ্যং য়দ য়ুষ্ম বিষযে কর্ম তৎ আচরামঃ।' (সামসংহিতা ভাষ্যম কলিকাতা সং পৃ০ ৯৫), সুপ্রসিদ্ধ বিদ্বান্ সত্যব্রত সামশ্রয়ী তাঁর ব্যাখ্যায় লিখেছেন - ‘প্রাণিবধং কর্ম পশ্বাদিয়াগং ন কুর্মঃ।' 
অর্থাৎ আমরা প্রাণিবধরূপপশ্বাদ্যিগকরিনা। মীঞ হিংসায়াম প্রযুক্ত হয়েছে এতএব অর্থ পরিস্কার যে আমরা হিংসাত্মক কর্ম করি না। লােকদেরকে প্রলােভন দিয়েও মন্দ কর্ম করাই না। আমরা বেদের উপদেশ অনুযায়ী আচরণ করি। “অধ্বর' শব্দের ব্যবহার বহুমন্ত্রে এসেছে যার দ্বারা পশুবলি নিষেধ করা হয়েছে। সন্দেহ নাই। 
.
ক) ভদ্রো নাে অগ্নিবাহুতাে ভদ্রা রাতিঃ সুভগ ভদ্রো অধ্বরঃ। ভদ্রাউত প্রশস্তায়ঃ।। পূর্ব২.২.৫ 
খ) ত্বমগ্রে গৃহপতিস্তং হােত নাে অধ্বরে। ত্বং পােতা বিশ্ববার প্রচেতায়ক্ষিয়াসিচবায়।। পূর্বা০২.২.৬। |
গ) তং হােতারমধ্বরস্য প্ৰচেতসংবহ্নি দেবা অকৃত। দধাতিরং বিধর্তেসুবীয়অগির্জনায় দাশুষে।। উত্তরা০৭.৩.২. | 
ঘ) স নােমন্দ্রাভিরধ্বরে জিহ্বাভিয়জামহঃ। আ দেবাক্ষি য়চি ।।। | উত্তরা ৬.৩.৮.২ |
ঙ) বাজী বাজে ধীয়তেধ্বরেষু প্ৰণীয়তে। বিপ্রােয়জ্ঞস্য সাধনঃ।।  উত্তরা ৬.৩.৫.২ |
.
 সত্যব্রত সামশ্রমীরমতােমত ব্যক্তকরেছেন ভাষ্যকার নারায়ন পুত্র মাধব। তিনি তাঁরবক্তব্য নিম্নশব্দেব্যক্ত করেছেন | ন কি দেবা ইনীমসি। নেতি প্রতিষেধঃ। ইনীমসি। মিনাতেহিংসার্থকস্য মকারলােপঃ। তেনৈতদুক্তং ভবতি। হে দেবানইনীমসি। প্রাণিবন্ধনকর্ম। পশ্বাদিয়াগং নকর্ম, ইত্যর্থঃ। ন ক্যামিেপয়ামসিয়ােপয়তির্বিমােহনকর্মা। সইহনিখননার্থেদ্রষ্টব্যঃ। মন্ত্র শ্রুত্যং মন্ত্রশ্রবণীয়ং জপাখ্যং চরামসি। জপং কুন্তশ্চরামঃ। প্রাণিবধং ন কুর্মঃ। জপমেব কৃর্মঃ ইত্যর্থঃ (সামবেদ সংহিতা ডঃ কুন্নরাজ সম্পাদিতা মাধব ভরত স্বামিভাষ্য সংহিতা অড়য়ার, মাদ্রাস পৃ০১৩৭.১৩৮)। 
পণ্ডিত সত্যব্রত সামশ্রমীর ভাষ্যের সঙ্গে এর হুবহু মিল থাকায় পৃথকভাগে শব্দার্থ করার দরকার নেই। এখানেও পশুহিংসাত্মক যজ্ঞের নিষেধ অত্যন্ত স্পষ্ট। 
অথর্ববেদে অধ্বর শব্দ অথর্ববেদেও এইরূপ বহুমন্ত্র উপস্থিত করা যেতে পারে যেখানে যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দের প্রয়ােগ এবং পশুহিংসাত্মক যজ্ঞের নিষেধ করা হয়েছে–
ক) যশ্চৰ্ষণিভােবৃষভঃ স্বর্বিদয়স্মৈ গ্ৰাবাণঃ প্ৰবদন্তিনৃণা। স্যারঃ সপ্তহােতা মদিষ্ঠঃ স নাে মুঞ্চত্বংহসঃ।। অ থ ব ০ ৪.২৪.৩ 
খ) য়মঃ পরােবরােবিবস্বাতন্তুঃ পরংনাতিপশ্যামিকিঞ্চন। য়মে ধ্বরাে অধিমেনির্বিক্টোভুববাবিবস্বানন্বততান।। 
অথর্বঃ ১৮.২.৩২
গ) অমূয়া উপসূর্যে আভির্বা সূর্যঃ সহ। তা নাে হিন্বধ্বর।।  অথর্বঃ১.৪.২ |
ঘ) তন্নপাৎ পথঋতস্য য়ানামব্বাসমং জনস্বদয়াসুজি। মন্মানি ধীভিরুত যজ্ঞমৃন্ধন দেবত্ৰা চকুনুহ্যধ্বরং নঃ।।  অথর্ব৫ে .১২.২ |
ঙ) অংহােমুচং বৃষভং যজ্ঞিয়ানাং বিরাজং প্রথমমধ্বরানা।  অপাং নপাতমশ্বিনা হুবে ধিয় ইন্দ্রিয়েন ত ইন্দ্রিয়ং দত্তমােজঃ।। | অথর্বঃ১৯.৪২.৪
চ) সমধ্বরায়ােষসােনমন্ত দধিক্রাবেব শুয়ে পদায়।।।
অথর্ব ৩.১৬.৬ |
.
মূখ্যতঃ যজ্ঞের সমানাের্থক শব্দ ‘মেধ’ কে অজমেধগােমেধ, পুরুষমেধ, অশ্বমেধ ইত্যাদি শব্দ কে বোঝানো হয়েছে (যদিও বেদে অশ্বমেধ শব্দ ছাড়া অন্য শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় না) বৈদিক যজ্ঞে পশুবলি দেওয়ার বিধান সম্বন্ধে ভ্রান্তি জন্মে। মেধূ ধাতুর ‘মেধা সংগমন য়ােহিংসায়াং চ' এই ধাতু পাঠ অনুযায়ী মেধার তিনটি অর্থ হয় – শুদ্ধবুদ্ধি বৃদ্ধি করা, লোেকদের মধ্যে একতাও প্রেমবৃদ্ধি করা ও হিংসা। হিংসাই এই শব্দের একমাত্র অর্থ নয় যদিও প্রায়ই লােকেরা ভ্রান্তিবশত সেইরূপ অর্থ গ্রহণ করে থাকে। সুতরাং অকারণে হিংসা শব্দের উপর জোর দেওয়ার কোন অর্থ হয়না। নিম্নলিখিত প্রমাণ দ্বারা এবং সাধারণ বুদ্ধিপ্রয়ােগে হিংসা অর্থ গ্রহণ করা নিত্যন্ত অসঙ্গত মনে হয়। 
পুরুষমেধ, পুরুষযজ্ঞ ও নৃযজ্ঞ এই তিনটি শব্দ সমান অর্থ বহন করে। মনুস্মৃতিতে নৃযজ্ঞের ব্যাখ্যা  তিথিপূজন’ (মনু০৩.৭০) এইরূপ করা হয়েছে। এর অর্থমনুষ্যকে যজ্ঞে বলি দেওয়ানয়বরং উত্তমবিদ্বানদেরবিশেষত অতিথিদেরপূজাঅর্থাৎ সেবা-যত্ন করা। মেধৃ ধাতুর সংগমনার্থগ্রহণ করলে এর তাৎপর্য দাঁড়ায় – মনুষ্যদেরকে উত্তম কার্যের জন্য সংগঠিত করা, তাদের মধ্যে ঐক্য ও প্রেম বৃদ্ধি করা। সামবেদ উত্তরাচিক অধ্যায় ১৪২ - ‘আহরয়ঃসসৃজিরেরুষীরধিবহিষি। য়ত্রাভিসংনবামহে।।' এই মন্ত্রের ঋষি মেধ পুরুমেধ অষ্টম প্রপাঠকের ‘পর্ষি তােকং তনয়’ – এই মন্ত্রের ঋষি মেধ। এইগুলির 
 মনুষ্যদেরকে যজ্ঞে বলি দেওয়া নয় বরং মনুষ্যমধ্যে সংগতিকরণ অথবা মেলামেশা বৃদ্ধি করা। গােমেধ সম্বন্ধে আমরা পরে বিস্তারিত আলােচনা করবাে। | অজমেধ, অশ্বমেধইত্যাদির বাস্তবিক অর্থঅন্য। ব্রাহ্মণগ্রন্থ ও মহাভারতে এ সম্বন্ধে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, যেমন - 
রাষ্ট্রং বা অশ্বমেধঃ।'বীয়ং বা অশ্ব (শতপথ০১৩.১.৬১)।। 
অর্থাৎ অশ্ব শব্দবীর্যবাচক ও বটে অতএব, দেশবাসীর শাের্য-বীর্য বৃদ্ধি করা এবং রাষ্ট্রকে সম্যক্ পরিচালনা করা ‘অশ্বমেধ’ শব্দের অভিপ্রায়।  
.
যজ্ঞ ধানবিশেষের নাম যা যজ্ঞে প্রদান করা হয়, মহাভারতে এইরকম নির্দেশ লক্ষিত হয়। 
অজৈয়জ্ঞেষুষষ্টব্যম, ইতিবৈবৈদিকীশ্রুতিঃ।। অজ সংজ্ঞানি বীজানি, ছাগান্নো হন্তমহথ।। নৈষ ধর্মঃ সতাং দেবাঃ, য়ত্র বখ্যেত বৈ পশুঃ।। 
- শান্তিপর্বঅ0 ৩৩৭ অর্থাৎ বৈদিক সাহিত্যে যখনকথিত হয় যে, অজ দ্বারাযজ্ঞে হবন করা উচিত তখনতার অভিপ্রায় অজনামকবীজ, ছাগ-বধ করা নয়, পশুহিংসা সৎলােকের ধর্মনয়। সুবিখ্যাত নীতিশাস্ত্রজ্ঞ বিষ্ণু শর্মা তাঁর পঞ্চতন্ত্রেও এই কথা বলেছেন –
এতোপিয়েয়াজ্ঞিকা,য়জ্ঞকর্মণিপশূনব্যাপাদয়ন্তিতেমূখাঃ, পরমার্থ শ্রুতেন জানন্তি। তত্র কিলৈতদুক্ত অজৈয়জ্ঞেষু অষ্টব্যমিতি অজান্তাবদ ব্রীহয়ঃ সাপ্তবার্ষিকাঃ কথ্যন্তে ন পুনঃ পশুবিশেষাঃ। উত্তং চ বৃক্ষান্ ছিত্বা পশুন হত্বা কৃত্বা রুধিরকর্দমম্। য়দেবং গম্যতে স্বর্গং নরকং কেন গম্যতে।। -কাকোলুকীয়ম। | 
.
অর্থাৎ এইযেসবযাজ্ঞিকরা, যজ্ঞ কর্মেপশুহিংসাকরে, তারা মূখ, তারা বেদের বাস্তব অর্থ উপলব্ধি করতে পারেনি, যেখানে ‘অজৈয়জ্ঞেয়ষ্টব্যাম’ বলা হয়েছে সেখানে ব্রীহিবা পুরাতন ধান্য বিশেষ গ্রহণ করা উচিত, ছাগপশু নয়। যদি পশুদের হিংসা করে এবং তাদের রুধির কর্দমাক্ত করে কেউ যদি স্বর্গে যেতে পারে, তাহলেনরকেযাওয়াররাস্তা কোনটি ? অর্থাৎ পশু  হিংসাত্মক যজ্ঞে স্বৰ্গনয়নরকপ্রাপ্তি ঘটে।এখানে এটি উল্লেখযোগ্য যে, জৈনদের স্যাদ্বাদমঞ্জরী নামক গ্রন্থেও যজ্ঞ প্রকরণে ‘অজ' শব্দের অর্থ ধান্যদিপরক মানা হয়েছে, যথা – 
তথা হি কিল বেদে ‘অজৈয়ষ্টব্য ইত্যাদি বাক্যে মিথ্যাদৃশাে জশব্দং পশুবাচকং ব্যাচক্ষতে। সম্যদৃশস্তু জন্মাপ্রায়াগ্যং ত্রিবার্ষিকং য়বব্রীহাদি, পঞ্চবার্ষিকং তিলমসূরাদি সপ্তবার্ষিকং কঙকুসৰ্ষপাদি ধান্যপৰ্যায়তয়া পর্যবসায়য়ন্তি। | 
.
অর্থাৎ ‘অজদ্বারাযজ্ঞ করাউচিত’ইত্যাদিবাক্যে অজ্ঞানীরা। অজ শব্দকে পশুবাচক মনে করে, সম্যদৃশ বা জ্ঞানীরা কিন্তু অন্যরকম ধারণা করেন। তাঁদের মতে তিন বৎসর পুরাতন যব, ব্রীহি ইত্যাদি, পাঁচ বৎসরের তিলমসূরাদি এবং সাত বৎসরের কঞ্জুসর্ষপাদি ধান্যের পর্যায়বাচী। স্যাদ্বাদমঞ্জরী, পৃষ্ঠা ১৭৫ | 
.
(৩) মহাভারতে বহুবার স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে বেদেমদ, মাংস, পশুমাংসের বলি বা তা খাওয়া ইত্যাদির কোন বিধান নেই। এই পশুহিংসাত্মক যজ্ঞ মনুর সিদ্ধান্ত বিরােধী। ধূর্ত, নাস্তিক, লােভী, অব্যবস্থিত চিত্ত ও সংসারাত্মক মনােবৃত্তি সম্পন্ন লােকেরা ধনেচ্ছা হেতু বেদের বাস্তবিক অভিপ্রায় উপলব্ধিনা করতে পেরে এই রকম শুরু করেছিল, বস্তুতঃ এটা অধর্মও পাপ, ধর্মবাপুণ্যকর্মনয়।
 নিম্নলিখিত শ্লোক এই বিষয়ে কী বলছে দেখুন - 
সুরা মৎস্যাঃ পশশার্মাংস, আসবং কৃশরৌদন। ধূর্তৈঃ প্রবর্তিতং যজ্ঞে, নৈতদ্বেদেষু বিদ্যতে।। অব্যবস্থিতময়াদৈঃ, বিমূঢ়ৈ নাস্তিকৈরৈঃ। সংশয়াত্মভির ব্যক্তৈহিংসা সমনুবর্ণিতা।। সর্বকর্মহিংসাং হি, ধর্মাত্মা মনুরব্রবীৎ। কামকারাবিহিংসন্তি, বহির্বেদ্যাং পশূনরা।। লুব্ধের্বিত্তপরৈব্ৰহ্মণ, নাস্তিকৈঃ সংপ্রবর্তিতম। বেদবাদানবিজ্ঞায়, সত্যাভাসমিবানৃত।। 
- শান্তিপর্ব অ0 ২৬৩.৬। মানানন্মাহাচ্চ লােভাচ্চ, লৌল্যমেতৎ প্রকল্পিতম্। বিষ্ণুমেবাভিজানন্তি, সর্বয়জ্ঞেষুব্রাহ্মণাঃ।। পায়সৈঃ সুমনােভিশ্চ, তস্যাপি য়জনং স্মৃত। য়ে চৈবয়জ্ঞিয়াবৃক্ষাঃ, বেদেষু পরিকল্পিতাঃ।। তস্মাৎ প্ৰমাণতঃ কায়ো ধর্মঃ সম্রো বিজানতা। অহিংসা সর্বভূতেভ্য ধর্মেভ্যে জায়সী মতা।। শান্তিপর্বঅ0২৬৫ 
.
এই শ্লোকগুলির মধ্যে কয়েকটির ভাবার্থ প্রথমে বলা হয়েছে। বাকীগুলির ভাবার্থ এইরূপ – 
যাদের শাস্ত্র-মর্যাদার জ্ঞান নেই, যারা নিতান্ত মূখও নাস্তিক তারাই যজ্ঞে পশুহিংসার বিধান করেছে। ধর্মাত্মা মনু সর্ব কর্মে অহিংসার বিধান দিয়েছিলেন। যারা যজ্ঞবেদীতে বা অন্যত্র পশুহিংসাকরে থাকেতারা স্বেচ্ছায় সেসবকরে। মনুমহারাজের আজ্ঞা সেরকম নয়। এইজন্য জ্ঞানীকে শাস্ত্র প্রমাণপূর্বক সূক্ষ্ম ধর্মের নির্ণয় করা উচিত। সর্বপ্রাণীদের প্রতি অহিংসা সব ধর্মে শ্রেষ্ঠস্বীকারকরাহয়েছে। মদ, মৎস্য, মাংসও মাদকদ্রব্যের সেবন ইত্যাদি ধূর্তদের দ্বারা যজ্ঞে চালিত হয়েছে। বেদে এরকম কোন বিধান নেই। অভিমান, মােহ ও লােভ থেকে এই চঞ্চল প্রবৃত্তির জন্ম হয়েছে। ব্রাহ্মণ সর্বজ্ঞে সর্বব্যাপক পরমেশ্বরকেই জানেন, সেযজ্ঞ দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং যজ্ঞীয় বৃক্ষের সমিধা দ্বারা সম্পন্ন হয়। | এর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, যজ্ঞে পশুবলি নিতান্ত ধূর্তকল্পিত। এইজন্য শ্রোতসূত্র, গৃহ্যসূত্র, ব্রাহ্মণগ্রন্থ, স্মৃতি ও অন্যান্যগ্রন্থে এই রকম বচন পাওয়া যায় সেগুলিবেদরিরুদ্ধ হওয়ায় অমান্য ও প্রক্ষিপ্ত। 

2 comments:

  1. তাহলে রামায়ণ আর মহাভারতে যে অশ্বমেধ যজ্ঞের কথা বলা আছে এবং তার বর্ণনা আছে সেটা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

    ReplyDelete
    Replies
    1. রামায়ণ উত্তরাকান্ড সম্পূর্ণরূপে প্রক্ষিপ্ত, অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্বন্ধে লিংকগুলো দেখুন
      https://www.vedasbd.com/2019/08/blog-post_31.html
      .
      https://www.vedasbd.com/2020/01/mahavaratam.html

      Delete