বেদে সোম শব্দদ্বয় নিয়ে ভ্রান্তি নিবারণ - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 17 December 2019

বেদে সোম শব্দদ্বয় নিয়ে ভ্রান্তি নিবারণ


 বৈদিকযুগের ‘সােম’ নিয়ে মােটামুটি লিখতে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হয়ে যাবে। সােমযাগের বর্ণনা, বিভিন্ন দৃষ্টিতে সােম ইত্যাদি ক্ষুদ্র পরিসীমায় লেখা অসম্ভব। এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে বৈদিকযুগের সােমের সম্বন্ধে কিছু অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হল।
.
‘সােম’ বৈদিকযুগের একটি অতি বিখ্যাত ধাঁধা। পার্থিব দৃষ্টিতে ‘সােম’ একটি লতা বা ওষধি। বিশেষ এক পদ্ধতিতে ‘সােমলতা’ থেকে সােমরস নিষ্কাশন করে যজ্ঞে দেবতাকে আহুতি দেওয়া হত। সােমরস পান করে ঋষিগণ আনন্দ পেতেন। দেবতারাও আনন্দ লাভ করার জন্যই ‘সােম’ পান করতেন। (ত্বাং দেবাসাে অমৃতায় কং পপুঃ-ঋ৯।১০৬।৮, পবস্ব দেবমাদনঃ- ঋ ৯।৮৪।১, ৯।৮৫।২) ‘সােম' পান করে আনন্দ লাভ হত বলেই ঋকবেদে অনেক স্থলে সােমকে মধু এবং অমৃত শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। (মধুমা-ঋ ৯।৬১।৯, মী-ঋ৯।৬১।২৩, অমৃত-ঋ৯।১১০।৪, মধুমত্তমঃ-ঋ ৯।৬৩।১৬) | সােম আর অমৃত একই, সােমকে বলা হত স্বর্গীয় অমৃত। (ঋ ৯।১১০।৮, ১০৯।৩, ৮৫।৯)
.
বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত ‘অমৃত’ নিয়ে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা আছে। বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত অমৃত বেদের পার্থিব এবং কিছু ক্ষেত্রে দিব্য ‘সােম’। (অতাে বৈদিকপৌরাণিক কালয়াের মৃতস্য সােমস্য চাভেদ এব সর্বৈৰ্মন্যতে স্ম-ইত্যগম্যতে।) বৈদিকযুগের সােম নিয়ে অনেকেরই বেশ আগ্রহ আছে। সােম নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে এবং হয়ে চলেছে। কিন্তু কোন স্থির সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছানাে যায় নি। ঋক্‌ সংহিতায় উপযুক্ত বর্ণনা বা প্রমাণের অভাবে সােমের স্বরূপ নির্ণয় করা এখন একেবারেই দুঃসাধ্য। বিভিন্ন বৈদিক বর্ণনা থেকে বােঝা যায় সােমলতার ত্বক (ছাল) এবং পর্ব ছিল। ঋকবেদে ‘সােম’ একদিকে দেব, একজন দেবতা, প্রধান দেবমণ্ডলীর অন্যতম। অন্যদিকে দেবহব্য, দেবতাদের জন্য প্রদেয় শ্রেষ্ঠ হব্য। সুতরাং সংহিতায় সােমের রূপ দুইটি। একটি পার্থিব অন্যটি দিব্য। সােম শব্দের মূলে আছে সু-ধাতু, অর্থ নিষ্কাশিত করা। এই দিক থেকে সােমের অর্থ হয় যা (যে লতা) নিষ্কাশন করা হয়। পার্থিব ‘সােমলতা’ পিষে যে রস বের করা হত, সেটা বৈদিক ঋষিরাবিবিধ অনুষ্ঠান শেষে পান করতেন। ঋকবেদ-এর সমগ্র নবম মণ্ডল “সােম মণ্ডল। পবমান মণ্ডল’ও বলা হয়। এই মণ্ডলে “সােম’ এর বিভিন্ন অর্থ ও তার প্রয়ােগ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এর সূক্ত সংখ্যা ১১৪টি। অন্যান্য মণ্ডলে আরও ৬টি সূক্ত আছে। সােমের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সূক্ত সংখ্যা ১২০। ঋক্ সংহিতায় (মন্ত্রের অন্য নাম সংহিতা। এই কারণে প্রতি বেদের মন্ত্র অংশকে সংহিতা বলা হয়।) ‘সােম’ একজন দেবতা,প্রধান দেবমণ্ডলীর অন্যতম। আবার ‘সােম’ দেবতাদের জন্য প্রদেয় শ্রেষ্ঠ হব্য। সুতরাং সংহিতায় সােমের রূপদুইটি। একটি পার্থিব অন্যটি দিব্য। পার্থিব সােমের স্মৃতি এবং অশেষ গুণের কথা ঋকবেদের সূক্তগুলিতে রক্ষিত হয়ে আছে। আমাদের মতে বৈদিকযুগের পার্থিব সােম এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণে সােম সম্বন্ধে যে সব আখ্যান আছে সেই সবগুলির অধিকাংশের মূল ঋকবেদ। কারণ বৈদিক সোম যোগ ইত্যাদি যোগে সোমএক প্রকারলতা আবার কিছু মন্ত্রে এটিচন্দ্র। কিছু বিশেষ বৈদিককর্মে সােমলতার রসলাগত। অনস্বীকার্য পেয় রূপে বৈদিকযুগে সােম ছিল, কিন্তু ওই পেয় ব্যবহৃত হতো যজ্ঞীয় পদ্ধতিতে সােমকে যজ্ঞের আহুতিযােগ্যকরে পবিত্রকরার পর সেটি দেবতাদের জন্য উৎসর্গ করা হত। শুদ্ধীকৃত সােম ‘পবমান'। পবমান অর্থ ক্ষরণশীল। অর্থাৎ যা বয়ে চলেছে বােঝায়। অবশ্য পবমান অর্থে গতিকেও বােঝায়। সােমরসই এখানে দেবতা। সােম শ্রেষ্ঠ হবি - উত্তম আয্যম্ (ঋ ৯।২২।৬), দেবেভ্য উত্তমং হবিঃ (ঋ ৯।৬৭।২৮)। উৎসর্গ করার পর তার হুতশেশ পান করতেন ঋষিগণ। ঋকবেদে দেখি ঋষি বলছেন, “সােমং মন্যতে পপিবান। (১০।৮৫।৩) ওষধিরস (সােমলতাকে পিষে সেই নিষ্কাসিত নির্যাস বা রস) পান করে যারা মনে করেন সােম পান করলাম, তাঁদের ধারণা ঠিক নয়, কারণ ব্রাহ্মণেরা বা ব্রহ্মবিদগণ যে সােমকে জানেন সেই সােম কেউ পান করতে পারেন না। এর অর্থ যিনি ব্রাহ্মণ বা ব্রহ্মবিৎ তিনি সােমকে জানতে পারেন। সােম প্রকৃত কোনও লতা হলে এই কথা বলা সম্ভবনয়। সােম যজ্ঞের প্রকৃত নাম ‘জ্যোতিষ্টেীম'। সােম হব্য হওয়ায় যাজ্ঞিকগণের কাছে যজ্ঞটি সােম যজ্ঞ নামে পরিচিত।
.
ঋকবেদে সাধারণভাবে ওষধি সম্বন্ধীয় সূক্ত পাওয়া যায় (ঋ ১০৯৭) কিন্তু সােমরূপ ওষধিকে লক্ষ্য করে বিশেষ তেমন কোন সূক্তর দেখা মেলে না। নিরুক্ত গ্রন্থে অধিভূত সােম হলেন ঔষধি এবং অধিদৈব সােম চন্দ্র স্বরূপ। (সােমাে রূপবিশেষৈরাে ষধিশ্চমা বা। - নিরুক্ত ১১/২, ১১/৩, ১১/৫) ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলি ভাল ভাবে পড়লে স্পষ্ট বােঝা যায় এই সােম কোন ভাবেই কোন মাদক দ্রব্য বা সুরা নয়। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, সােম ও সুরার পার্থক্য, সােমের প্রশংসা ও সুরার নিন্দা। শতপথ ব্রাহ্মণে দেখি ‘শ্রীর্জোতিঃ সােমঃ, অনৃতং পাম্মা তমঃ সুরা’ অর্থাৎ সােম,সত্য,শ্রী ও জ্যোতিস্বরূপ কিন্তু সুরা অনৃত, পাপ ও তমােগুণের প্রতীক। অনস্বীকার্য ঋকবেদে সােমের বর্ণনায় ‘মদ’ শব্দটির ব্যবহার আছে। ওই ‘মদ’ কোন সুরা বা মত্ততার বাচক নয়, আনন্দ বাচক। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, বৈদিক এবং সংস্কৃত ভাষায় শব্দ এক মাত্রিক নয়, বহু মাত্রিক। সংস্কৃত ভাষায় দুহিতা বাঙ্গালা, অখমিয়া (অসমিয়া ভাষায় সাধারণভাবে সখ, ওঁরা নিজেদের অখমিয়া বলেন।), ওড়িয়া ইত্যাদি ভাষা। একই ভাবে এই ভাষাগুলির শব্দ বহু মাত্রিক। সুতরাং একই শব্দের বহু অর্থ আছে। পাশ্চাত্যের কিছু তথাকথিত ভারততত্ত্ববিদ মূল গ্রন্থ সঠিক ভাবে না পড়ে আধখেচড়া, ভুলভালইংরেজী অনুবাদ পড়ে সােমরসকে এক প্রকারেরসুরাবলেছেন। ভারতীয়দেরদাসত্ব মনােভাব এখনও থাকায় পাশ্চাত্য ভুয়াে পণ্ডিতদের উক্তি ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে উদ্ধৃত থাকে। ছাত্র-ছাত্রাগণ (উল্লেখ্য ছাত্রের স্ত্রীলিঙ্গ ছাত্রা, ছাত্রের স্ত্রীকে ছাত্রী বলা হয়। ওই সাহেব অমুক বলেছে বা এই সাহেব তমুক বলেছে পড়ে যান।
.
অনেকেই আশ্চর্য হবেন জেনে যে বিখ্যাত জর্মন/বিলাতি ভারততত্ত্ববিদ ফ্রিডরিখ মাক্স মুলার (মােক্ষমুলর) আদৌ সংস্কৃত জানতেন না। তার ব্যক্তিগত চিঠিপত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। লাইৎসিগুবিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানাগিয়েছে উনি (আধুনিক) ডক্টরেটওনন। সােমলতা নিয়ে বৈদিক যুগে এত উচ্ছাস থাকলেও অবাছাই সােমলতা কিন্তু ব্রাহ্মণদের কাছে অস্পৃশ্য ছিল। সােমলতা অপাঙতেয় কোন ব্রাহ্মণ অথবা শুদ্রকে দিয়ে বাছাই করার পর একটি অনুষ্ঠান করে গ্রহণযােগ্য হত। সোম অশুচি মনে করা হত বলে যজ্ঞান্তে স্নান করতে হত।
সংহিতােত্তরব্রাহ্মণেও পার্থিব সােমের নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ কিছুইবলা নেই। সােমলতা বৈদিকযুগেই বিশেষ পাওয়া যেত না, সােনা দিয়ে কিনত হত। সােম লতা ব্রাহ্মণ যুগেই দুর্লভ হওয়ায় ওই যুগেই প্রতিনিধি স্থানীয় লতার ব্যবহার দেখা যায়। | সােমলতার অনুকল্প লতাগুলির গুণ ও বর্ণনা বিশ্লেষণ করে বৈদিকযুগের সােম সন্ধান করা সম্ভবনয়। শতপথ ব্রাহ্মণে সােমলতার অভাবে অনুকল্প বা প্রতিনিধির উল্লেখ আছে। (তু শতপত। ব্রাহ্মণ ৪।৫।১০।১) শতপত ব্রাহ্মণে স্পষ্ট বলা আছে - যদি সােম না পাওয়া যায় তাহা হইলে পূতিকানামক লতা সােমের পরিবর্তে ব্যবহার করিবে। দাক্ষিণাত্য এবং মহারাষ্ট্রের সােম যাগে অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ পূতিকা নামক লতাকে/গুল্মকে (Sarcostemma brevistigma) অনুকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। মারাঠি ভাষায় এই লতার/গুল্মের নাম রন শের। মালাবার অঞ্চলের ব্রাহ্মণগণ ব্যবহার করেন Ceropegia decaisneana। শােনা যায় কোন কোন সময় Caenorhabditis elegans ব্যবহারও করেন। উল্লেখ্য গৌড়দেশে অর্থাৎ আমাদের বঙ্গদেশে চলিত সংস্কৃত ভাষায় পূতিকা বলা হয় পুঁইশাককে। ময়নামক অসুর তাঁর সূর্যসিন্ধান্ত (ভূগােলাধ্যায়ঃ) গ্রন্থে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘শূণ্যে ঘূর্ণমান পৃথিবী গােলকের কোনটাই বা উৰ্দ্ধ কোনটাই বা অধঃ?” “সর্বত্রৈব মহীগােলে স্বস্থানম্ উপরিস্থিত। মন্যন্তে খে যতাে গােলস্ তস্য কোর্ধবম্ ক বাধঃ।” অর্থাৎ - মহাশূণ্যে ভাসমান যে পৃথিবী গােলক তার কোন পৃষ্ঠই বা উপরে আর কোন পৃষ্ঠই বা নীচে আর কোথায় দাঁড়িয়ে কি ভাবেই বা তা নির্ধারণ করা সম্ভব হ’ল? হাজার হাজার বছর আগেই ভারতীয়রা ভাল ভাবেই জানতেন পৃথিবী পৃষ্ঠ সমতল নয় তার বহু লিখিত প্রমাণ আছে। বাহুল্যবােধে সেই প্রমাণ উল্লেখ করলাম না। এই প্রসঙ্গউত্থাপন করারকারণবিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত ‘পাতাল’ বর্তমান ‘দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশেরপেরু, বলিভিয়া, ইকুয়েডর নামককিছু দেশ। মায়া সভ্যতায় সােমপানছিল। তার বর্ণনা বিভিন্ন চিত্রে পাওয়া যায়। তবে সেই সােম ভারতের সােম হয়ত নয়, অনুকল্প। পাশ্চাত্য কিছু গবেষক বলেন, ওটি Amanita muscaria নামক ছত্রাক। উৎসাহীগণ আন্তর্জালে ‘Soma In The Americas’ নামক প্রবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন।
.
উল্লেখ্যবর্তমান ভারত ছাড়াও আরও কিছু দেশে ‘সােমপান’ ছিল। অবশ্যই ওইগুলি খাঁটি সােম নয়, অনুকল্প। সােমলতা বর্ণনা (আয়ুর্বেদশাস্ত্রে) আয়ুর্বেদের আদি-গ্রন্থ বলতে বােঝায় সুপ্রাচীনকালের ‘চরক-সংহিতা’ ও ‘সুশ্রত সংহিতা'। প্রাচীন শল্যবিদ্যর আকরগ্রন্থ ‘সুশ্রুত-সংহিতা”। অনস্বীকার্য উভয় গ্রন্থই বহু মানুষের হাত ঘুরে, কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কিছু বিষয় প্রক্ষিপ্তও হয়েছে। গ্রন্থ দুটি নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে। বিভিন্ন দক্ষ গবেষক সম্পাদিত ‘সুশ্রুত-সংহিতা' থেকে প্রামাণ্য শ্লোকগুলি উদ্ধৃত করেছি। এই নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশনাই। বৈদিকযুগের পার্থিব সােম লতা বর্ণনা অস্বচ্ছ হলেও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পার্থিব সােম লতা বর্ণনা বেশ স্বচ্ছ। প্রাচীন ভারতের চিকিৎসক সুশ্রুত। সােম লতার একটি প্রাচীন বর্ণনা সুশ্রুতসংহিতার চিকিৎসাস্থানে স্বভাবব্যাধিপ্রতিষেধনী রসায়নচিকিৎসা নামক ত্রিংশ অধ্যায়ে পাই –
সর্বেষামেব সােমানাং পত্রাণিদশ পঞ্চ চ। তানি শুক্রে চ কৃষ্ণে চ জায়ন্তে নিপন্তি চ ॥২০।
একৈকং জায়তে পত্রং সােমস্যাহরহস্তদা। শুক্লস্য পৌৰ্ণমাস্যাং তু ভবেৎ পঞ্চদশচ্ছদঃ ॥২১।
শীর্যতে পত্রমেকৈকংদিবসে দিবসে পুনঃ। কৃষ্ণপক্ষক্ষয়ে চাপিলতা ভবতি কেবলা ॥২২।
 সমস্ত প্রকারের সােমলতার মােট পনেরটি পাতা। কৃষ্ণ পক্ষে প্রতিদিন একটি করে পাতা খসে যায় এবং শুক্লপক্ষে প্রতিদিন একটি করে পাতাগজায়। পূর্ণিমা তিথিতে পুরাে পনেরটি পাতা হয়। অমাবস্যায় পত্রহীন হয়ে যায়। আয়ুর্বেদ ঋষি ভাবমিশ্র। তার গ্রন্থ ভাবপ্রকাশেবর্ণনা “শ্যামলাম্নাচনি পন্না ক্ষীরিণী তৃচি মাংসলা। শ্লেষ্মলাবমনীবল্লী সােমাখ্যা ছাগভােজনম।” অর্থাৎ - কালচে, দুধের মত রস ভর্তি, বাইরের দিক মােটা কিন্তু নরম, স্বাদে টক, খেলে বমি পায় এবং ছাগলে খায়। গিরীন্দ্রশেখর বসু তাঁর ‘পুরাণপ্রবেশ’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেছেন - আয়ুর্বেদের সােমলতা ও বৈদিক সােমলতা এক নহে। (পৃঃ ২৭৭) তিনি শ্রীযুক্ত ব্রজলাল মুখােপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, সােম ও সিদ্ধি বা ভাঙ একই পদার্থ। এই মত আমাদের মতে ভ্রান্ত এবংকল্পিত।

 আয়ুর্বেদে সােম এক হলেও চব্বিশ প্রকারের হয়। পাতাও বিভিন্ন আকৃতির হয়। সুশ্রুতসংহিতায় বিভিন্ন প্রকারের সােমেরনাম –
.
এক এব খলু ভগবান্ সােমঃ স্থাননামাকৃতিবীর্যবিশেষৈশ্চতুর্বিংশতিধাভিদ্যতে ॥৪॥
অংশুমান মুঞ্জবাংশ্চৈব চন্দ্রমারজতপ্রভঃ।।
দূর্বাসােমঃ কনীয়াংশ্চ শ্বেতাক্ষঃ কনকপ্রভঃ ॥৫॥ প্রতানবাংস্তালবৃন্তঃকরবীরােংশনপি। স্বয়ংপ্রভাে মহাসােমােযশ্চাপিগরুড়াহৃতঃ ॥৬।
গায়ত্রস্ত্রৈষ্টুভঃ পাঙ তাে জাগতঃ শাকৃরস্তথা।
অগ্নিষ্টোমােরৈবতশ্চ যথাক্ত ইতি সংক্তিতঃ ॥৭॥ গায়ত্রাত্রিপদাযুক্তো যশ্চোডুপতিরুচ্যতে। এতে সােমাঃসমাখ্যাতা বেদোক্তৈনামভিঃ শুভৈঃ ॥৮।
.
অর্থাৎ ভগবান্ সােম একই। জন্মস্থান, নাম, আকার, শক্তিভেদে চব্বিশ প্রকারের হন। ১। অংশুমান্ ২। মুঞ্জবা৩। চন্দ্রমা৪। রজতপ্রভ৫। দূর্বসােম ৬। কনীয়সােম ৭। শ্বেতক্ষ ৮। কনকপ্রভ ৯। প্রতানবান্ ১০। তালবৃন্ত ১১। করবীর ১২। অংশবান্ ১৩। স্বয়ংপ্রভাে ১৪। মহাসােম ১৫। গরুড়াহৃত ১৬। গায়ত্রী ১৭। ত্রৈষ্ঠুভ ১৮। পাঙ তাে ১৯। জাগত ২০। শাকর ২১। অগ্নিষ্টোম ২২। রৈবত ২৩। ত্রিপদ-গায়ত্রী ২৪। উডুপতি।
.
অংশুমানাজ্যগন্ধস্তুকন্দবাজতপ্রভঃ। কল্যাকারকন্দস্তুমুঞ্জবাংল্লশুনচ্ছদঃ ॥২৩৷৷
চন্দ্রমাঃকনকাভাসাে জলে চরতিসর্বদা।
গরুড়াহৃতনামাচ শ্বেতাশ্চাপিপাণ্ডুরৌ ॥২৪।
সর্পনির্মোকসদৃশৌ তৌ বৃক্ষাগ্রাবলম্বিনৌ।
 তথা্যন্যে মণ্ডলৈশ্চিত্রৈশ্চিত্রিতা ইব ভান্তি তে ॥২৫।
সর্ব এব তু বিজ্ঞেয়াঃ সােমাঃ পঞ্চদশচ্ছদাঃ।
ক্ষীরকলতাবন্তঃ পর্নৈানাবিধৈঃস্মতাঃ ॥২৬।
.
অর্থাৎ অংশুমান-এর গন্ধ ঘিয়ের মত, কাণ্ড রূপার মত দীপ্ত (উজ্জ্বল)। মুঞ্জবা-এর কাণ্ড কলাপাতার মত, পাতা রসুন-এর মত। চন্দ্রমা-সােনা(স্বর্ণ)র মত দীপ্ত। সদা জলে গমন। করেন অর্থাৎ বাস করেন। গরুড়াহৃত এবং শ্বেত শ্রেণীর বর্ণ পাণ্ডুর অর্থাৎ শুক্লপীত বর্ণবা সাদাটে হলুদ। দেখতে সাপের খােলসের মত। বৃক্ষের (গাছের) উঁচু শাখার অবলম্বনে থাকে। অন্যান্য সােমের কাণ্ড, শাখা এবং পাতায় বিভিন্ন ধরণের চিহ্ন থাকে।
—সুশ্রুতসংহিতার চিকিৎসাস্থানে স্বভাবব্যাধিপ্রতিষেধনী রসায়নচিকিৎসা নামক ত্রিংশ অধ্যায়। অন্যান্য বর্ণনা
 | R. Gordon Wasson সাহেব বলেছেন সােমলতা হল Amanita muscaria নামক একটি ছত্রাক (mushroom) এটা ভারতীয় বর্ণনার সঙ্গে আদৌ মিলছে না। এ ছাড়া তিনি তাঁরদাবীদৃঢ় ভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। পরবর্তী কালে কিছু পাশ্চাত্য গবেষক তাঁর দাবী বিভিন্ন কারণে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর এক দাবী ‘এফিড্রা সিনিকা' নামের এক লতা
কি সােম! অন্য এক দাবি সােম হল শাপলা আর পদ্ম (Indian Nymphaea and Nelumbo Plants)। অন্যান্য বহু দাবী আছে কিন্তু কোনটাই শেষে ধােপে টেকে না। কিছু ইংরেজ অপগণ্ড পণ্ডিত(?) সােমকে তালরস বানিয়ে ছেড়েছেন। ভুয়াে পাণ্ডিত্যের ঠেলায় ইক্ষু (আখ)ও বাদ যায়নি।
-
কিছুদিন আগে বিবিসির ‘স্টোরি অব ইন্ডিয়া’ নামক একটি ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে, সােম আফগানিস্থানের একটি গুল্ম। পেশােয়ার অঞ্চলের লােকেরা নাকি এখনও খায়। লেখকের মতে এই দাবী ভুয়াে কারণ আদি সােমলতা এখন ডােডােপাখীর মত লুপ্ত। এটি সােমলতার কোনও অনুকল্পহওয়াই খুব স্বাভাবিক।
পার্থিব সােমেরউদ্ভব/উৎপত্তিস্থান সােমের উদ্ভব/উৎপত্তি স্থান সম্পর্কে ঋক্ সংহিতায় কিছু ইঙ্গিত আছে। এই শব্দগুলি বিচারের প্রয়ােজন আছে। সােমকে বলা হয়েছে -
 (১) ক্ষৈত (ঋ৯।৯৭।৩) অর্থাৎ ক্ষিতি বামর্তে যার উৎপত্তি।
 (২) গিরিষ্ঠা (ঋ৯।১৮।১) অর্থাৎ পর্বতস্থ।
(৩) পর্বতাবৃষঃ (ঋ ৯।৪৬।১)।
(৪) সােমের উদ্ভবস্থান মুজবৎপর্বত - সােমস্যৈব মৌজবতস্য ভক্ষা বিভীদকো জাগৃবির্মহমচ্ছা। (ঋ ১০।৩৪।১) এর পদপাঠ - সােমস্যইব। মৌজব্যতস্য। ভক্ষঃ। বিভীদকঃ। জাগৃবিঃ। মহ্যম্। অচ্ছান্)।
.
সায়ণাচার্যের ব্যাখ্যায় পাই - মুজবতি পর্বতে জাতাে মৌজবতস্তস্য। তত্র হু্যত্তমঃ সােমঃ জায়তে। অর্থাৎ মৌজবৎ বলতে মুজবৎপর্বতকেই বােঝায়, সেখানেই উৎকৃষ্ট সােম জন্মায়।
.
(৫) পর্জন্যঃপিতামহিষস্য পৰ্ণিনােনাভা পৃথিব্যাগিরিষু ক্ষয়ং দধে। (ঋ৯।৮২।৩)। অর্থাৎ “পর্জন্য মহান্ সােমের পিতা সেই পত্ৰলতাদি বিশিষ্ট সােম পৃথিবীর মধ্যস্থানস্বরূপ পর্বতের উপর বাস করেন।” ঋটি থেকে স্পষ্ট বােঝা যায় সােম পর্বতে উদ্ভূত পত্রবিশিষ্ট একটি লতা। সায়ণাচার্যের ব্যাখ্যায় ‘পর্ণিনঃ’ শব্দটি ‘পতিতবতঃ” অর্থাৎ ‘পতনশীল’ হলেও, অথর্ব বেদে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ‘সােমস্য পর্ণঃ সহ উগ্রমাগ’ (৩।৫।৪) অর্থাৎ সােমের পত্র এই রকম।  সােমকে যেমন বলা হয়েছে পর্বতাবৃধ’ তেমন ‘পর্জন্যবৃদ্ধ’ (ঋ ১।১১৩।৩) অর্থাৎ ‘মেঘের দ্বারা পুষ্ট’ও বলা হয়েছে।
.
পারসিকদের জন্ আবস্তায় (Zend Avesta) উল্লিখিত হওম’-এর সঙ্গে সােমের সাদৃশ্য স্বীকার করা হয়। যজ্ঞশব্দটি জভাষায় যসূন (ইয়ন)রূপনিয়েছে। সােমযজ্ঞজন্দ আবস্তায় হওমযসূন। সেই ‘হওম’ পর্বতস্থবাপর্বতােৎপন্ন বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে ‘হওম’ মেঘ ও বৃষ্টির সহায়েই পুষ্টিলাভ করে। স্তওমি মধেমচ বারেন্চ যা তে কেহরপেম বক্ষয়তে বরেনুশ পহতিগইরিনা;স্তওমি গরইয়াে রেরেজন্তো যথ হওম উরুরূপুষ। (যসূন ১০।৩)। মােটামুটি অর্থ-আমি মেঘ এবং বৃষ্টিকে বন্দনা করি যারা আপনাকে পর্বত শিখরে বর্ধিত হতে সাহায্য করে। আমি উচ্চ পর্বতকে, যেখানে আপনি বর্ধিত হয়েছেন,তাহাকে বন্দনা করি, হেহউম। | [জ আবস্তা, অথর্ব বেদের ভার্গব শাখা বা ভার্গব বেদ এই কথা কয়েকজন বিশিষ্ট পণ্ডিতের মত। আবস্তার প্রাচীনতম অংশের নাম গাথা। ঋক বেদের ভাষার সঙ্গে এই গাথার ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে। কয়েকটি ধ্বনিতত্ত্ব অনুসরণ করলে আবস্তার প্রতি গাথাই নিমেষে বৈদিক ভাষায় পরিণত হয়। যজ্ঞ শব্দটির জভাষার রূপ-যন (ইয়স)। বিভিন্ন বইয়ে ভুল ভাবে ‘জে আবেস্তা’ লেখা হয়। এর প্রকৃত রূপ ‘আপিস্তক উ জন্। জন্ ভাষায় স্বরভক্তি (Anaptyxis) ও অপিনিহিতি (Epenthesis)র প্রাচুর্য থাকায় বহু জশব্দ বাঙ্গালা বা ইংরেজি অক্ষরে আনা যায়না। হৌমনয় হবে হওম। ইংরেজিতে অনেকে লেখেন Homa, হবে Haomo। বাঙ্গালায় জন্ শব্দ ‘গাথা লিখেছি, কিন্তু ওর উচ্চারণ একটু অন্য। ওই ‘থ’ বাঙ্গালায় নেই। বাঙ্গালায় জরথুষ্ট্র বা জরথুস্ত্র লেখা অসঙ্গত, জরথুশত্র কাছাকাছি।]
.
৬) “সুষােমা’নদীও ঋকবেদে সােমের উদ্ভবস্থান (ঋ৮।৬৪।১১) ৭) সােম অন্যত্র ‘সিন্ধুমাতরঃ (ঋ ৯।৬১।৭) অর্থাৎ সিন্ধু এই সােমের মাতা। সিন্ধুনদীও সােমের উদ্ভবস্থান ছিল।
৮) ঋকবেদে সােমের উদ্ভবস্থান বিষয়ে স্থানান্তরের উল্লেখও আছে। (ঋ৯।৬৫।২২-২৩) –
যে সােমাসঃ পরাবতি যে অর্বাবতি সুন্বিরে।
যে বাদঃশণাবতি ॥২২।
য আর্জীকেষুকৃত্বসু যে মধ্যে পস্ত্যানা। যে বা জনেষু পঞ্চসু৷২৩৷৷
.
অর্থাৎ - যে সকল সােম অতিদূর দেশে কিংবা অতিসন্নিহিত দেশে প্রস্তুত হইয়াছে কিংবা যে সকল সােম শণাবৎ নামক সরােবরে প্রস্তুত হইয়াছে কিংবা যে সকল সােম আর্জীকদেশে কিংবা কৃত্বদেশেকিংবা সরস্বতী প্রভৃতি নদীর মধ্যে কিংবা পঞ্চজনের মধ্যে প্রস্তুত হইয়াছে। | ঋবেদে সােমলতার বর্ণের বর্ণনা বহু স্থানেই পাওয়া যায়। সােমলতা শুভ্রবর্ণ (ঋ ৯।৩১), অরুণ বা অরুষ বর্ণ (Reddish উষাকালীন সূর্যের বর্ণ), বভুবর্ণ (Brown) এবং হরিত্বর্ণ(Tawny) (ঋ ৯।৩৩।২, ৯।৪৯, ৯।৩০,৯।৩১)।
হরিত্বর্ণ (হরিশ্বর্ণ) স্বর্ণবর্ণকে বােঝায় এবং এর উল্লেখ সব থেকে বেশি। বহু কারণে সােমলতার বৈজাত্য সম্ভব। তাপ এবং বয়সের প্রভাব এর কারণ হলেও হতে পারে। তবে সােমলতার পূর্ণাবস্থায় রসাধিক্য থাকা স্বাভাবিক। তখনই তার রস যজ্ঞার্থে উপযুক্ত বিবেচিত হতে পারে। হয়ত সােমরসের সঙ্গে দুধ বা দই মেশানাের কারণে বভুবর্ণের উৎপত্তি। শুদ্ধ অমিশ্রিত সােমরস কেবল ইন্দ্র ও বায়ুর উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ হত। সাধারণত মিশ্রিত সােমরসের ব্যবহার যজ্ঞে হত। প্রধানত তিনটি দ্রব্য সােমরসের সঙ্গে মেশানাে হত। এগুলি হল- যব, দুধ আর দই, এক কথায় ‘আশির'। এই কারণে সােমকে ‘শির’ বলা হয়। সােমরসের সঙ্গে মধু, ঘি ও মেশানাে হত।
.
আগেই দেখানাে হয়েছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা আছে শুদ্ধ অমিশ্রিত সােমরসে বমকত্ব আছে। সােমরসে বিভিন্ন দ্রব্য মেশানাের প্রধানত কারণ হলো দুটি–
১) সােমরসের স্বাদ বাড়িয়ে তােলা। ২) সােমরসের কোন মাদকতা থাকলে তারনাশকরা। অনস্বীকার্য ঋক্ সংহিতায় সােমকে দেবতারূপে স্তুতি করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও সেই দেবতার স্বরূপ, স্থান ইত্যাদি স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা নেই। এমন কি সােম দেবতার কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই। এই কারণে দৈব সােমকে বােঝা দুঃসাধ্য।
.
ওষধি বা লতা স্বরূপ সােমের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত শব্দগুলি হল ‘অংশু, অন্ধ, ক্ষিপ,পর্ব, বাণ। পিতু ইত্যাদি। অন্ধস্ শব্দটি সমগ্র লতার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও এটি “অন্নবাচক শব্দও বটে।
ঋক সংহিতার দৃষ্টান্তে দেখা যায়, সােম সর্বব্যাপী। সোেম দেবতাদের স্রষ্টা, শক্তি আবার সহচারীও।
=====================================
বেদোক্ত বহু  মন্ত্রের সঠিক অর্থ এবং ভাব কোনভাবেই অনুবাদ করা যায় না। বহু ঝড় মন্ত্রের সঠিক অর্থ এবং ভাব সেই উপনিষদের যুগেই লুপ্ত হতে বসেছিল। এর একটি উদাহরণ ছান্দোগ্যউপনিষদের প্রথম অধ্যায়ের দশম খণ্ডে উষস্তি চাক্ৰায়ণ-এর ঘটনা। এখানে যে সমস্ত ঋ মন্ত্র উদ্ধৃত করেছি, আমার ওয়ার্ড প্রসেসরের সীমাবদ্ধতা থাকায় তার কোনটাতেই স্বরচিহু (intonation) দেওয়া যায় নি। স্বরচিহু বিনা ঋঙু মন্ত্র উদ্ধৃত করা অনুচিত কারণবিভ্রাট হয়। বেদোক্ত উচ্চারণ নিয়ে একটি আখ্যায়িকা শােনাই। ইন্দ্রের বৃত্রাসুর বধের ঘটনা বহু মানুষ জানেন। শ্রীমদ্ভাগবতম্-এ পাবেন “তৃষ্টা ইন্দ্রনাশার্থে, 'ইন্দ্ৰশত্রো বিবর্ধস্ব মাচিরং জহিবিদ্বিষম্” ইত্যাদি ইত্যাদি (৬। ৯। ১২)। মুল আহুতি মন্ত্রটি ছিল “ইন্দ্ৰশক্ৰবৰ্ধস্ব”। বেদোক্ত মন্ত্রের ব্যাহরণে স্বরের বিশেষ কাজ আছে। স্বরের ভ্রান্তি হলে মন্ত্রের অর্থ পাল্টাবে তাে বটেই, ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ উল্টো অর্থহয়ে যায়।  ‘ইন্দ্ৰশত্রু' তার একটি উদাহরণ। “ইন্দ্ৰশত্রু’’ শব্দটির সমাস ভেদে দুটি অর্থ হয়–
১। ইন্দ্রস্য শক্র। এখানে ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাস। অর্থ ইন্দ্রের শত্রু অর্থাৎ ইন্দ্রের ঘাতকের বৃদ্ধি হােক। স্বর অন্তোদাত্ত অর্থাৎ অন্তে উদাত্ত। পাণিনি সমাসস্য সূত্র (৬-১-২২৩) দেখুন।
২। ইন্দ্ৰঃশত্রুঃ যস্য। এখানে বহুব্রীহি সমাস। অর্থ ইন্দ্ৰশত্রু (ঘাতক) যার। স্বর আদ্যুদাত্ত (আদি+উদাত্ত) অর্থাৎ আদিতে উদাত্ত। উপরিউক্ত সম্পূর্ণ লেখা থেকে স্পষ্ট  হয় যে সোম অর্থ মদ্যপান করাকে বুঝানো হয়নি।।

No comments:

Post a comment