আল্লাহর প্রধান শত্রু শয়তান নয় বরং আল্লাহ নিজেই শয়তান - VedasBD.com

Breaking

Wednesday, 28 August 2019

আল্লাহর প্রধান শত্রু শয়তান নয় বরং আল্লাহ নিজেই শয়তান

ইসলামের কোরআন অনুযায়ী শয়তান হলো ফেরেশতাদের সর্দার। আদমের যখন জন্ম হয়েছিল তখন আল্লাহ তায়ালা সকল ফেরেস্তাদের হুকুম দিয়েছিল আদমকে সিজদাহ করতে তৎপর সকল ফেরেস্তা সিজদাহ করার জন্য ঝুঁকে গিয়েছিল কিন্তু শয়তান সিজদাহ করা হতে অস্বীকার জানিয়েছিল কারণ শয়তানকে তৈরি করা হয়েছিল আগুন দিয়ে এবং হযরত আদমকে তৈরি করা হয়েছিল কাদামাটি দিয়ে যা মাটির তুলনায় অধিক উন্নত। এই কথা শুনে অতঃপর আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল পরবর্তীতে শয়তান আল্লাহকে বলেছিল আমার জীবনের আয়ু বৃদ্ধি করে দাও। তখন আল্লাহ তার উত্তরে জবাব দিয়েছিল তুমি কেয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। তখন শয়তান আল্লাহ কে চ্যালেঞ্জ করেছিল আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন মানুষকে পথ ভ্রষ্ট করাবো।
.
ইদানিং মুসলমান মোমিন ভাইয়েরা কোরআন না পড়েই বলে থাকে শয়তানের প্রধান শত্রু আল্লাহ ও আল্লাহর প্রধান শত্রু শয়তান। এই শয়তান প্রতিনিহতই  ইসলামের ক্ষতি করে থাকে যা সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যা ও জ্বালিয়াত কথা। মুসলমান মোমিন ভাইয়েরা যদি মানবিকতার সাথে সঠিক ও নিরপেক্ষ ভাবে কোরআন অনুশীলন করতো তাহলে তারা নিজেরাই এই বানোয়াট কোরআন এবং ইসলাম স্বইচ্ছাই ত্যাগ করতো কারণ আল্লাহর প্রধান শত্রু শয়তান নয় বরং আল্লাহ নিজেই প্রধান শয়তান।
.
 নিচে কিছু কোরআনের আয়াত ব্যাখ্যা করা হল যা পড়ে ও দেখে আপনারা নিজেরাই ঠিক করবেন আপনারা শয়তানের পথ অনুসরণ করছেন না মনুষত্বের পথ অনুসরণ করছেন →↓↓
.
আল্লাহ সবাইকে সঠিক পথ অনুসরণ করার নির্দেশ দেন নি→

সূরাঃ আস-সাজদাহ (৩২।১৩)

وَلَوْ شِئْنَا لَءَاتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَىٰهَا وَلَٰكِنْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ مِنِّى لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ
.
আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; আমার এই উক্তিটি অবধারিত সত্য কারণ জিন ও মানব সকলকে দিয়ে আমি আমার জাহান্নাম পূর্ণ করব।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ চাইলে সকলকে সঠিক পথে চলার নির্দেশ দিতে পারতো কিন্তু তিনি তাহা না করে তার জাহান্নাম পূর্ণ করার জন্য জিন ও মানুষকে বেছে নিয়েছেন।
.
আল্লাহ তার তৈরি জাহান্নাম পূর্ণ করার জন্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করে থাকেন →

সূরাঃ আল-কাহফ (১৮।৫৭)

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِىَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوٓا۟ إِذًا أَبَدًا
.
 আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যাতে তারা কিছু না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুসারে 'সেসব মানুষের অন্তরে পর্দা দিয়ে রেখেছেন যেসব মানুষ সত্যের পথে অনুসরণ করতে  চাইলেও কখনো অনুসরণ করতে পারে না। কেও যদি সত্যের পথে ফিরে আসার দাওয়াত দেন তবুও তারা সৎপথে ফিরে আসতে পারবে না।
.
সূরাঃ বনি ইসরাইল/আল ইসরা (১৭।৪৬)

وَجَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِى ٱلْقُرْءَانِ وَحْدَهُۥ وَلَّوْا۟ عَلَىٰٓ أَدْبَٰرِهِمْ نُفُورًا

আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দেই, যাতে তারা একে উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদের কর্ণকুহরে বোঝা চাপিয়ে দেই। যখন আপনি কোরআনে পালনকর্তার একত্ব আবৃত্তি করেন, তখন ও অনীহাবশতঃ ওরা পৃষ্ট প্রদর্শন করে চলে যায়।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ যেসব ব্যক্তিদের পথভ্রষ্ট করেছে যেসব ব্যক্তিদের অন্তরে পর্দা দিয়ে আবরণ করে দিয়েছে , সেসব ব্যক্তি সৎপথে চললেও কুরআনের পালনকর্তা দুঃখবসত তাদের এড়িয়ে চলে।
.
সূরাঃ আল-জাসিয়াহ (৪৫।২৩)

أَفَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَٰهَهُۥ هَوَىٰهُ وَأَضَلَّهُ ٱللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَىٰ سَمْعِهِۦ وَقَلْبِهِۦ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِۦ غِشَٰوَةً فَمَن يَهْدِيهِ مِنۢ بَعْدِ ٱللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?
.
উদ্দেশ্য- যেসব মানুষ নিজের খেয়াল খুশি মত স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে আল্লাহ জেনেশুনে তাদের পথভ্রষ্ট করে থাকেন এবং তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দেন চোখের উপর পর্দা বেঁধে দেন অতএব আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় পথভ্রষ্টকারী কেও নেই।
.
সূরাঃ ইয়া সিন (৩৬।৮)

إِنَّا جَعَلْنَا فِىٓ أَعْنَٰقِهِمْ أَغْلَٰلًا فَهِىَ إِلَى ٱلْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ

আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক উর্দ্ধমুখী হয়ে গেছে।
.
উদ্দেশ্য- যেসব ব্যক্তি আল্লাহকে মেনে চলে না, আল্লাহ তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ী পড়িয়া থাকেন ও পথ ভ্রষ্ট করে থাকেন এতে তাদের মাথা উদ্ধমূখী হইয়া থাকে। 
.
সূরাঃ ইয়া সিন (৩৬।৯)

وَجَعَلْنَا مِنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَٰهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ

আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদেরকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখে না।
.
উদ্দেশ্য- যারা আল্লাহকে অনুসরণ করে না আল্লাহ তাদের সামনে পিছনে দেওয়াল তৈরি করে আবৃত করে দেয়। এতে তারা পথভ্রষ্ট হয়। 
.
সূরাঃ ইয়া সিন (৩৬।১০)

وَسَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুটোই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ যাদের কে পথ ভ্রষ্ট করেন তাদেরকে সতর্ক করা হলেও তাদের কাছে দুটোই সমান অর্থাৎ ধর্ম ও মনুষ্যত্ব। 
.
ঈমান আনা আল্লাহর হুকুম ব্যতীত সম্ভব নয়→

সূরাঃ ইউনুস (১০।১০০)

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَيَجْعَلُ ٱلرِّجْسَ عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ

ততক্ষণ ঈমান আনা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহর হুকুম ছাড়া কখনোই ঈমান আনা সম্ভব নয়। এতে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করেন না।
.
আল্লাহ তার ক্ষমতার জোরে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে থাকেন→ 

সূরাঃ আন-নাহল (১৬।৯৩)

وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَلَٰكِن يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ وَلَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সমান অধিকার দিতে পারতেন।  কিন্তু সেরূপ না করে তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারেন পরিপূরক ভাবে সঠিক পথ প্রদর্শন করাতেও পারেন।
.
সূরাঃ আল-জাসিয়াহ (৪৫।৮)

يَسْمَعُ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَأَن لَّمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

যে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
.
উদ্দেশ্য- কোন মানুষ যদি আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে কিন্তু বিশ্বাস না করে কিংবা অহংকারবশত আয়াত সমূহ শুনেনি বলে অস্বীকার করেন  তাহলে তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতে বলা হয়েছে।
.
সূরাঃ নিসা (৪।৮৮)

فَمَا لَكُمْ فِى ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِئَتَيْنِ وَٱللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوٓا۟ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا۟ مَنْ أَضَلَّ ٱللَّهُ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًا

অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
.
উদ্দেশ্য- যারা আল্লাহকে মেনে চলে ও কোরআনের নিয়ম রীতি কিছুই মেনে চলে না তাদেরকে মুনাফিক বলে এদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন। যার কারণে তাদের কোরআনের আয়াত সম্পর্কে ধারণা নেই।
.
সূরাঃ নিসা (৪।১৪৩)

مُّذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَٰلِكَ لَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَلَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًا

এরা দোদুল্যমান অবস্থায় ঝুলন্ত; এদিকেও নয় ওদিকেও নয়। বস্তুতঃ যাকে আল্লাহ গোমরাহ করে দেন, তুমি তাদের জন্য কোন পথই পাবে না কোথাও।
.
উদ্দেশ্য-এরা ভালো খারাপ দুই দিকেই অবস্থিত অর্থাৎ এদিকেও নয় ওদিকেও নয়। এদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট বা গোমরাহ করে দেন। সেজন্য এদের কোন পথই খোলা নেই তাদের সাথে বা তাদের পথে তুমি যোগ দিলে তুমিও বেঁচে থাকার কোন পথ পাবেনা।
.
সূরাঃ মুদাসসির  (৭৪।৩১)

وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَٰنًا وَلَا يَرْتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَٱلْكَٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ

আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়। এমনি ভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ জাহান্নামে তত্ত্বাবধায়ক ফেরেস্তা রেখেছেন। কাফেরদের পরীক্ষা করার জন্য ও সংখ্যা নির্ধারণ করার জন্য যাতে কুরআনের অনুসারীগণ দৃঢ় বিশ্বাসী হন। একইভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করে থাকেন ও যাকে ইচ্ছা সৎপথে প্রেরণ করেন।
.
সূরাঃ মারিয়াম (১৯।৮৩)

أَلَمْ تَرَ أَنَّآ أَرْسَلْنَا ٱلشَّيَٰطِينَ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا

আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ নিজের ইচ্ছাতে যাদের পথভ্রষ্ট করেছেন তাদের উপর শয়তান লাগিয়ে দিয়েছেন যাতে তাদেরকে কাজে লাগিয়ে জিহাদ দ্বারা খারাপ কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। 
.
সূরাঃ আয-যুমার (৩৯।২৩)

ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَٰبًا مُّتَشَٰبِهًا مَّثَانِىَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهْدِى بِهِۦ مَن يَشَآءُ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ

যারা পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
.
উদ্দেশ্য- যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের চামড়া ও হৃদয় বিনম্র হয় এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা  পথ প্রদর্শন করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। যারা পথভ্রষ্ট হয় তাদের কোন পথপ্রদর্শক নেই।
.
সূরাঃ আল-আনাম  (৬।৩৯)

وَٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا صُمٌّ وَبُكْمٌ فِى ٱلظُّلُمَٰتِ مَن يَشَإِ ٱللَّهُ يُضْلِلْهُ وَمَن يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা কাফের ও অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহর নির্দেশ সমূহ কে যারা মিথ্যা বলে তারা কাফের অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। কারণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
.
সূরাঃ আর-রাদ (১৩।২৭)

وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌ مِّن رَّبِّهِۦ قُلْ إِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ

কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ হলো না? বলে দিন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে, মনোনিবেশ করে, তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।
.
উদ্দেশ্য- কাফেররা বলে থাকে তার প্রতি পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ হলো না? কারন আল্লাহ যেমন যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন ঠিক একইভাবে যিনি আল্লাহর নিকট মনোনিবেশ করেন আল্লাহ তাকে পথ প্রদর্শন করে থাকেন। 
.
সূরাঃ ইবরাহীম (১৪।৪)

وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِۦ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
.
উদ্দেশ্য- আল্লাহ সকল নবীকে তার নিজের স্বভাষা অনুযায়ী কিতাব প্রেরণ করেছে যাতে সবাই পরিষ্কার বুঝতে পারে ও আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন।
.
উপরে দেওয়া আয়াতগুলো লক্ষ্য করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়  আল্লাহর শত্রু কোন শয়তান নয় বরং আল্লাহ নিজেই সেই পথভ্রষ্টকারী শয়তান।


1 comment: