শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপে চন্দ্র-সূর্যতুল্য চক্ষু বিশ্বরূপের মহিমা বর্ণনা করার জন্য একটি উপমালঙ্কার মাত্র। - VedasBD.com

Breaking

Saturday, 4 May 2019

শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপে চন্দ্র-সূর্যতুল্য চক্ষু বিশ্বরূপের মহিমা বর্ণনা করার জন্য একটি উপমালঙ্কার মাত্র।

অপ্রচাকারির দাবি :-

 অর্জুন কৃষ্ণ কে বলছে- সূর্য এবং চাঁদ তোমার দুই চোখ, আর আমরা জানি সূর্য এবং চাঁদ কারো চোখ নয়, সূর্য হচ্ছে নক্ষত্র আর চন্দ্র হলো পৃথিবীর উপগ্রহ।
.
অপপ্রচারের জবাব–

শ্রীমদভগবদগীতা ১১.১৯

শ্লোক-
অনাদিমধ্যান্তমনন্তবীর্যম
 অনন্তবাহুং শশিসূর্যনেত্রম।
পশ্যামি ত্বাং দীপ্তহুতাশবক্ত্রং
 স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপন্তম।।
.
পদার্থ- অনাদিমধ্যান্তম্ (আদি, মধ্য ও অন্তরহিত), অনন্তবীৰ্যং (অসীম শক্তিশালী), অনন্তবাহুং (অসংখ্য হস্তবিশিষ্ট), শশি-সূৰ্যনেত্রম্ (চন্দ্র ও সূৰ্য্যরূপ নয়নযুক্ত), দীপ্তহুতাশবব্ৰুং (প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতুল্য মুখবিশিষ্ট), স্বতেজসা (নিজ তেজের দ্বারা) ইদং (এই) বিশ্ব (বিশ্বকে) তপন্তম্ (সন্তাপনকারী) ত্বাং (আপনাকে) [অহং] (আমি) পশ্যামি (দেখিতেছি) ॥

.
অনুবাদ-“ আমি(অর্জুন) দেখছি তোমার(শ্রী কৃষ্ণের বিশ্বরূপ) আদি, মধ্য ও অন্ত নেই। তুমি(শ্রী কৃষ্ণের বিশ্বরূপ) অনন্ত বীর্যশালী ও অসংখ্য বাহুবিশিস্ট এবং চন্দ্র ও সূর্য তোমার(শ্রী কৃষ্ণের বিশ্বরূপ) চক্ষুদ্বয়।তোমার(শ্রী কৃষ্ণের বিশ্বরূপ) মুখমণ্ডলে প্রদীপ্ত অগ্নির জ্যোতি এবং তুমি(শ্রী কৃষ্ণের বিশ্বরূপ) স্বীয় তেজে সমস্ত জগৎ সম্তপ্ত করছ”
.
বিশ্লেষণ- এখানে চন্দ্র সূর্য কে বোঝার আগে জানা দরকার কৃষ্ণের বিশ্বরুপ কে যা বিশ্বব্যাপী, এরজন্য এই চ্যাপ্টাটার নামই বিশ্বরূপ-দর্শনযোগ। ইহা সাধারণের দর্শনযোগ্য রূপ নয় এর জন্য কৃষ্ণ অর্জুন কে আলাদা দিব্যচক্ষু প্রদান করেছিলো (গীতা ১১.৮) শঙ্করাভাষ্য মতে এটা যোগদর্শন।এই বিশ্বরূপ-দর্শনযোগের তাৎপর্য হল কৃষ্ণের বিশ্বরূপ যে বিশ্বব্যাপী তারই উপলদ্ধি করা। এখানে চন্দ্র সূর্য হল উপমালঙ্কার কৃষ্ণের বিশ্বরূপ কে বর্ণনা করার জন্য। নিচের এই অংশের বিখ্যাত ৩ ভাষ্যকারের রেফারেন্স সহ ব্যাখা দিলাম নিচে দেখুন -

(শঙ্করাচার্যের ব্যাখা) 
শঙ্করাচার্য এই শ্লোকের শুরুর আগেই উল্লেখ করে দিয়েছেন(গীতা ১১.১৮)তে-

“ইতএব তে যোগশক্তিদর্শনমনুমিনোমি ত্বমিতি”

ইহা তাহার(অর্জুন) যোগশক্তিরদর্শন ইহাই অনেকাংশে স্বীকার্য অর্থ্যাৎ এখানে চন্দ্র-সূর্য হল ইড়া-পিঙ্গলা নাড়ীর উপমালঙ্কার।

রামানুজাচার্যের ব্যাখা)

রামানুজাচার্যের ব্যাখা অনুসারে এখানে চন্দ্র-সূর্যের ন্যায় চক্ষুও উপমালঙ্কার। চন্দ্রতুল্য চক্ষু যা দয়া অনুগ্রহের প্রতিক(Icon) এবং সূর্যতুল্য চক্ষু  ন্যায়বিচারকের প্রতিক(Icon)। দয়াঅনুগ্রহ দেবতুল্য অনুরক্তের দিকে নির্দেশ দেয় যাদের আমরা অভিবাদন আদি উৎসর্গ করি এবং ন্যায়বিচারক হল অসুর ও রাক্ষসের উদ্দেশ্যে যাদের আমরা তর্জন অভিশাপ আদি করি।


(মাধবাচার্যের ব্যাখা)

মাধবাচার্যেরও ব্যাখা অনুসারে চন্দ্র-সূর্যের ন্যায় চক্ষু একটি উপমালঙ্কার। ইহা একটি উপলগ্ধি চাঁদ ও সূর্য ঈশ্বরের থেকে সৃষ্ট। ইহা একটি ঋগ্বেদের মন্তব্য দেবতা আদি সমস্থ এক ঈশ্বরের বিভিন্ন অংশ। এটার অনুরূপ উপলদ্ধি হতে পারে মনের চক্ষু থেকে চাঁদ ও দর্শন চক্ষু থেকে সূর্য সৃষ্ট।

✓এখানে এক একজনের ব্যাখ্যা চন্দ্র-সূর্যতুল্য চক্ষু উপমালঙ্কারের উদ্দেশ্যকে আরো স্পষ্ট করছে, তিন বিখ্যাত আচার্যদের ব্যাখ্যা অনুসারে এটা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপে চন্দ্র-সূর্যতুল্য চক্ষু বিশ্বরূপের মহিমা বর্ণনা করার জন্য একটি উপমালঙ্কার মাত্র।

ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি 


No comments:

Post a Comment