পুরাণে পাওয়া মুহাম্মদ কোন ভাবেই সনাতন ধর্মের কল্কি অবতার ননঃ - VedasBD.com

Breaking

Wednesday, 24 April 2019

পুরাণে পাওয়া মুহাম্মদ কোন ভাবেই সনাতন ধর্মের কল্কি অবতার ননঃ


জাকির নায়েক তার একটা লেকচারে হিন্দু ধর্মে হযরত মুহাম্মদের আগমনি বার্তার প্রমাণ দেখাতে গিয়ে বলেছিলেন,
এতস্মিন্নন্তিবে সেত্দচ্ছ আচার্যেন সমন্বিতঃ। মহামদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিত।। নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থ নিবাসিম্ম। চন্দনাদিভির ভ্যর্চ্য তুষ্টাব মনসাহরম্নমস্তে গিরি জানাথ মরুস্থল নিবাসিনে। ক্রিপুবাসুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে॥" (ভবিষ্যপুরাণ ৩:৩:৩)
.
তম্মান্মুসলবন্তো হি জাতয়ো ধর্ম্ম দূষকাঃ। ইতি পৈশাচধমশ্চ ভবিষ্যতি ময়াকৃতঃ। ” (ভবিষ্যপুরাণ শ্লোকঃ১০-২৭।)
.
অর্থ্যাৎ, ত্রিপুরাসুর নামে একজন আসবেন। মুহামদ নামে জন্ম নেবে ও একটা আসুরী ধর্ম প্রচার করবে। এই ধর্মের অনুসারীদের মুসলমান বলা হবে। তারা মাংস ভক্ষক হবে। মাথায় শিখার বদলে তারা দাঁড়ি রাখবে। তারা লিঙ্গ কর্তন করবে। কল্কি পুরান এ বলা আছে কল্কি অবতার এর পিতা মারা যাবে তার জন্মের পর (১:২:১৫ কল্কি পুরাণ)
.
-হযরত মুহাম্মদের বাবা মারা যান তার জন্মের পূর্বে! বিসমিল্লাতেই ধরা!
কল্কি তার মাতা সুমতির ৪র্থ সন্তান রুপে পৃথিবীতে আসবেন (কল্কি পুরান ২.৩১ )
.
-হযরত মুহাম্মদ গর্ভে থাকাকালে তার পিতার মৃত্যু হয়েছিল তাই সঙ্গত কারণেই তার আর কোন ভাই-বোনের জন্ম হবার কথা নয়। তার মাতা আমিনা আবার বিয়ে করেছেন এমন কোন তথ্য আমাদের জানা নেই। কল্কির সঙ্গে এখানেও মুহাম্মদ মেলে না। হযরত মুহাম্মদ তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন।
.
তিনি জন্ম নিবেন মাসের এক ১২ তারিখে (কল্কি পুরান দ্বিতীয় অধ্যায় ১৫নং অনুচ্ছেদ)

-হযরত মুহাম্মদের ১২ রবিউল আওয়াল জন্মেছেন তার কোন প্রমাণ ইসলামের কোন সূত্রে পাওয়া যায় না। কোন আলেম বা বিশেষজ্ঞই এবিষয়ে একমত নন। তবে ১২ তারিখকে ধরে নেয়া হয়।
.
কল্কির বাবার নাম হবে “বিষ্ণুযশ” যার অর্থ হবে "ঈশ্বরের গর্ব"। জাকির নায়েক দাবী করেছেন কল্কি নাম নাকি লেখা আছে বিষ্ণুইয়াসি যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার গোলাম। এর সঙ্গে মুহাম্মদের বাবার নাম আবদুল্লাহ (আল্লার দাস) মিলিয়েছেন। হিন্দু পন্ডিতদের চেয়ে জাকির নায়েক সংস্কৃত বেশি বুঝবেন আর জাকির মিয়ার চাইতে কোন হিন্দু পন্ডিত কুরআন বেশি বুঝবেন সেটা আমি দাবী করি না মানিও না। কাজেই জাকির নায়েক এই জায়গায় “তাকিয়া” খেলেছেন 
.
সংগতভাবেই। এক জায়গায় দেখতে পেলাম সংস্কৃত সভা না কি একটা সংঘ এই বিষয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণে জাকির নায়েক কোন সাড়া দেননি!
.
কল্কির মায়ের  নাম হবে সুমতি। এটাকে জাকির নায়েক আরবী আমেনা বানিয়েছেন। আমেনা অর্থ শান্ত আত্মা। আরবী জাকির ভালই জানেন আগেই বলেছি। কিন্তু সুমতি শব্দটি একজন বাঙালী হিসেবে আমার নিজের কাছে তো অচেনা নয়। এর অর্থ কিছুতে ভাল আত্মা হতে পারে না! শরৎচন্দ্রের “রামের সুমতি” নামের শিশুতোষ রচনাটির অর্থ নিশ্চয় রামের শান্ত আত্মা নয়!
বলা আছে কল্কিকে তার গুরু রামদেব বেদ শেখাবেন 
.
(কল্কি পুরান, ৩/৪৩)
-হযরত মুহাম্মদ বেদ জানতেন এটা কি কোথায় পাওয়া যায়? মুসলিমরা গর্ব করে বলেন উনি অশিক্ষিত ছিলেন! তো রামদেব নামের মুহাম্মদের কোন শিক্ষকের নামও তো কখনো শুনিনি!
.
কল্কি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রান্তে যাবেন এবং সেখানকার খারাপ লোকদের হত্যা করবেন, এতে খুব কম লোকই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মাধ্যমে আবার সত্যযুগ শুরু হবে। (Brahmanda purana(১/২/৩১/৭৬-১০৬, vayu purana(৫৮/৭৫-১১০)

-এটা কিন্তু ইমাম মাহাদীর সঙ্গে দারুণ মিলে যায়! ঐ যে বললাম ধর্মের রাস্তা খুড়ে রাখা আগামীদিনের জন্য। কিন্তু হযরত মুহাম্মদের সঙ্গে কি এটা মিলে? হযরত মুহাম্মদ মারা যাওয়ার আগে মাত্র ১০ হাজার অনুসারীকে রেখে গিয়েছিলেন। তার ধর্ম তখন পর্যন্ত প্রসার লাভ করেনি। কথিত “সত্য যুগ” কি মুহাম্মদের জন্মের পর আজ অবধিকে কোনমতে বলা যায়?
কল্কি ও তার স্ত্রী নিরামিষভোজী হবেন। (কল্কি পুরান ৩/৪৩)
.
-হযরত মুহাম্মদ নিরামিষ ভোজি ছিলেন এমনটা তার শত্রুও বলতে পারবে না! উনার প্রিয় ছিল বকরির ঠাংয়ের রোস্ট। এই ঠ্যাং খেতে গিয়েই বিষক্রীয়ায় শেষ পর্যন্ত মারা গিয়েছিলেন এই আলোচিত-সমালোচিত ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ। 
.
কল্কি পুরান মতে কল্কি অবতারের এর স্ত্রী দুজন যার প্রথমজনের নাম হবে পদ্মাবতী এবং তিনি"সিংহল" এর অধিবাসী যা চতুর্দিকে একটি সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ।(কল্কিপুরান ৮.৩৯) অপরজনের নাম হবে রমা(৩২.৬) আর কল্কি পুরাণে কল্কি আবতারে জন্ম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দেয়া আছে এমনকি তিনি পৃথিবী ছেড়ে যাবার দিনের ঘটনাতেও তার দুই স্ত্রীর কথাই বর্ণীত হয়েছে!
.
সুতরাং কল্কির ২ এর অধিক স্ত্রীর কথা বলা নিতান্তই হাস্যকর।অপরদিকে নবী মুহম্মদের ১৩ জন স্ত্রী ছিলেন এবং তাদের সবাই আরব অঞ্চল এর অধিবাসী ছিলেন।আরব অঞ্চল বিশেষত মক্কা-মদিনা নিশ্চয় সমুদ্রবেষ্টিত কোন দ্বীপ নয়। এছাড়াও অধ্যায় ৯ এবং ১০ এ কল্কির স্ত্রী পদ্মার বিশদ বর্ননা আছে।১০ম অধ্যায়ের ১ম শ্লোকেই আছে যে পদ্মা দেবী জানতেন যে কল্কি অবতার আর কেউ নন তিনি তারই পতি শ্রী হরির (বিষ্ণু) অবতার এবং ঠিক পরবর্তী শ্লোক অর্থাত ২য় শ্লোকেই দেবী পদ্মাকে লক্ষীদেবী হিসেবে ডাকা হয়েছে।পুরাণে বর্ণিত অনুযায়ী দেবী লক্ষী শ্রী হরি তথা বিষ্ণুর অর্ধঙ্গিীণী।
.
কল্কি পুরাণ মতে কল্কি স্বয়ং ঈশ্বর:
(কল্কি পুরাণ ২.১-৩) এ বর্ণিত আছে দেবতা ব্রহ্মা সমস্ত দেবতাদের নিয়ে বিষ্ণুর গোলকধামে শরনাপন্ন হন এবং কলির অবনতির সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। কল্কি পুরাণ ২-৪ সমস্ত ঘটনা শুনে বিষ্ণুজী বললেন “ আমি খুব শীঘ্রই পৃথিবীতে অবতরন করব। শম্ভুল গ্রামের ব্রাহ্মণ বিষ্ণুযশ হবের আমার পিতা এবং তার স্ত্রী সুমতি হবেন আমার মাতা।
.
ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী নবী মুহাম্মদ একজন মানুষ ছিলেন এবং তিনি ওহি অর্জন করেছিলেন জিবরাইল এর কাছ থেকে।অপরদিকে পৌরাণিক মতবাদ এবং বিশ্বাস অনুযায়ী কল্কি অবতার হচ্ছেন স্বয়ং ঈশ্বর,যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন অধর্মের নাশ ও ধর্মের রক্ষা করতে।তাঁর কোন ওহি অর্জনের প্রশ্ন ই আসছেনা!
.
নবী মুহাম্মদ এর প্রথম স্ত্রী খাদিজার গর্ভেই তার ৬ সন্তান হয় যার মাঝে দুই পুত্র এবং প্রথম পুত্র কাসিম ১ বছর বয়সেই মারা যায়।অপরদিকে (কল্কি পুরাণ ১৩.৩৬) মতে কল্কি অবতারের সন্তান ২ টি,২ টি ই পুত্র সন্তান।তাঁদের নাম জয় এবং বিজয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী তারা অনেক বড় বীর এবং অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহন করবেন।
.
(কল্কি পুরাণ ২-১৬) কল্কি অবতারের জন্মের পর মহাস্বস্থি তার র্নাস হিসেবে নিয়োগ হন,আম্বিকা তার নাড়ি (Umbilical Cord)কাটেন এবং সাবিত্রি তার গঙ্গাজল দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করে দেন। 
.
মুহাম্মদের জন্মের সময় এরা কি উপস্থিত ছিলেন? তার কি শরীর গঙ্গাজল দিয়ে ধোয়া হয়েছিল? কোনটাই নয়
র্মীর্জা গোলাম আহমেদ সবার প্রথমে মুহাম্মদে কল্কি পুরাণে এবং বেদে আছে বলে দাবী করেন যেখান থেকেই জাকির নায়েক কপি পেষ্ট করেছেন।এই র্মীর্জা গোলাম আহমেদ আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তা যাকে কিন্তু বেশীরভাগ মুসলিমই কাফের বলে ঘোষনা দিয়েছেন।আহমেদিয়া সমপ্রদায়েরা র্মীর্জা গোলাম আহমেদকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানে।এখন এই ইসলামিক পন্ডিতের কথা কি আহমেদিয়া ব্যতিত কোন মুসলিম মেনে নেবেন??কারন এখানেতো তাদেরই এক মুসলিম পন্ডিত ঘোষনা করেছেন তাহলে তাদের মানতে অসুবিধা কোথায় যদি শিরক বলে মানতে না চায় তবে কেনইবা জাকির নায়েক বা অন্যরা সেই ব্যক্তির লেখা বই পড়ে পুরাণ বেদে নবীর ভবিষ্যত বাণী করা আছে বলে দাবী করে!!অনেকে আবার বলে যে কোথাকার কোন হিন্দু পন্ডিত নাকি বলেছে পুরাণ বেদে মুহাম্মদের কথা আছে তাই হিন্দুদেরকে এটা মানা উচিত!! যদি কোন এক হিন্দু পন্ডিতের কথাই মানতে বলেন তাহলে তারাও কি মুহাম্মদ শেষ নবী নয় র্মীর্জা গোলাম আহমেদ শেষ নবী এটা মেনে নেবেন কারন এটাওতো তাদেরই পন্ডিত বলেছেন।!
.
এটা পরিষ্কার যে জাকির নায়েক বা অন্য কেউ তা কোনদিনই মানবেন না বরং শিরক বলে দাবী করবেন তাহলে ওই ব্যক্তির লেখা বই কপি পেষ্ট কেন করছেন??
সমস্ত কল্কি পুরাণ ঘাটলে এমন অসংখ্য ঘটনা দেখানো যাবে যার সাথে মুহাম্মদের কোন মিলই নেই এবং মুহাম্মদ আর কল্কি অবতার যে সম্পূর্ণ আলাদা দুজন ব্যক্তি এতে কোন সন্দেহ নেই।।


বেদপুরাণে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)- ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদপ্রকাশ উপাধ্যায়, ইসলামী সাহিত্য প্রকাশনালয়, ৪৫ বাংলাবাজার, ঢ়াকা-১১০০ এর কল্কি সম্বন্ধীয় বিভ্রান্তিমূলক পৃষ্টাগুলো তুলে ধরে তারপয়েন্ট টু পয়েন্ট বিশ্লেষণ করা হল।
.
১. স্থান সম্পর্কে সামঞ্জস্যতা দেখাতে গিয়ে ভন্ডামি
বই এর অংশ
অংশের বিশ্লেষণ
এখানে ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৮ থেকে তুলে ধরা হয়েছে কল্কি অবতার হরফে নবী মুহাম্মাদ শম্ভল নামক স্থানে বিষ্ণুযশ নামক এক ব্রাহ্মণ ঘরে জন্মগ্রহণ করবে। এর সঙ্গে বলা হচ্ছে শম্ভল শব্দের অর্থ শান্তির ঘর, যা কিনা আরবের মক্কা শহর কে বলা হয়।

এখানে শম্ভল নামক স্থানে্র অর্থগত বিশ্লেষণ করে তাকে সুদূর আরবের মক্কাতে নিয়ে যাবো কেনো? যেখানেভারতের উত্তরপ্রদেশে শম্ভল নামেই একটি জেলা আছে।

এই দাবীর সাথে সাথে কিছু ইসলামি কুটবুদ্ধিজীবিরা আবার বিভিন্ন ব্লগপেজে দাবী করেছে “হিন্দু পুরাণ অনুসারে প্রাচীন পৃথিবীকে ৭ স্থলভাগে ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে একটি শাল্মল দ্বীপ যা আরব ও এশিয়ার মাইনর অংশ নিয়ে গঠিত"

হ্যাঁ, এটি ঠিক পুরাণ অনুসারে পৃথিবীর স্থলভাগ(দ্বীপ) কে সপ্তদ্বীপে ভাগ করা হয়েছিলো যথা – “জম্বু(বর্তমানে ভারত), প্লক্ষ, শাল্মল, কুশ, ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুস্কর”। কিন্তু সেই পুরাণে প্রতিটা দ্বীপের বর্ণনাও দেওয়া আছে, এখানে শাল্মলদ্বীপের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে এখানে - ৭টি পর্বত ও ৭টি নদী আছে, এখানে বর্ণশ্রম ব্যাবস্থাও প্রচলিত, এখানকার মানুষেরা যাগ যজ্ঞ করে, এখানে বৃহৎ শিমূলগাছ আছে যাতে দেবতারা তৃপ্তিলাভ করে।এখন প্রশ্ন হল নবী মুহাম্মাদের জন্মের সময় মক্কা শহরে কি সেই রকম কিছু ছিলো সেখানে? 


(বিষ্ণুপুরাণের দ্বিতীয় অধ্যায়ের স্কিনশট)

এই শাল্মল দ্বীপ একটি মহাদেশীও স্থলভাগ কে চিহ্নিত করে যেখানে শম্ভল মহাদেশীও একটি নির্দিষ্ট স্থান কে চিহ্নিত করে, এই দুটো কোনো ভাবে এক জিনিস নয়।


২. অশ্বারোহন ও খড়গ ধারণ করার নামে মিথ্যাচার
বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
এবার উনারা ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৯ থেকে দেখাতে চান কল্কি দ্রুতগামী অশ্বের উপর আসীন থেকে তরবারি হাতে দুষ্টদের দমন করবেন, যা নবী মুহাম্মাদের সাথে মিলে যায়।
কিন্তু সেই ভাগবত পুরাণ ১২.২.১৭ তে বলা হচ্ছে স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু অবতার হিসাবে জন্মগ্রহণ করবেন, শ্রীবিষ্ণু সম্পর্কে সেই শ্লোকে বলা হচ্ছে তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্ব্ব্যাপী ও জগদগুরু। আগেই বলেছি তারা পুরাণের সম্পূর্ণ বর্ণনা কে ঠিকভাবে তুলে ধরে না, বা গ্রহণ করে না, বা নিজের ইচ্ছা মতো কিছুটা মেনে নেয় আবার কিছুটা প্রকাশ করে না, আবার কিছুটা ভ্রান্ত ধারণা ঢ়ুকিয়ে দেয়


(ভাগবত পুরাণের স্কিনশট)

অবতার থিওরীতে পরমেশ্বর মানব শরীর ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং হিন্দুগ্রন্থ হোক সেটা বৈদিক বা পৌরাণিক প্রতি ক্ষেত্রে  বিষ্ণু হল পরমেশ্বরের আরেক নাম। ইসলামি ভাষাই পরমেশ্বর হল “আল্লা”

তবে কি তামাম মুসলিম সমাজ এটা মানে নবী মুহাম্মাদই হল আল্লা? এছাড়া ইসলামি কোরআনে মহান আল্লা নিজের জন্য “সর্বশক্তিমান” বিশেষণটি ব্যাবহার করেছেন, নবী মুহাম্মাদের জন্য নয়!

সবচেয়ে মজার বিষয় এখানে বলা হচ্ছে কল্কি অশ্বে বসে তরবারি হাতে দুষ্টদের দমন করবে, আর কোথাই নবী মুহাম্মাদ বোরাক নামে এক জীবের পিঠে চড়ে রাত্রের অন্ধকারে মক্কা থেকে জেরুজালেম বেড়াতে গিয়েছিলোও লাইলাতুল মেরাজের নামে আল্লার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো সাত আসমান পাড় করে। দুটো কি কোনো ভাবে এক জিনিস ?

অনেক ইসলামি বিজ্ঞ বলে সেই রাত্রে নাকি উনি উম্মে হানীর ঘরে হানা দিতে গিয়েছিলো, যদিও এই নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে।
.
৩. জগৎগুরুর নাম ভাঙিয়ে ভন্ডামি
বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
পুস্তকে লিখিত অংশ- “ভাগবত পুরাণে কল্কি অবতারকে জগৎ পতি বলা হয়েছে। যিনি উপদেশাবলী দ্বারা অধঃপতিত পৃথিবীকে উদ্ধার ও রক্ষা করেন, তাঁকে জগতপতি বলা হয়। তিনি নির্দিষ্ট কোনো জাতির গুরু নহেন। তিনি হলেন সমগ্র বিশ্বের গুরু”

যদিও জগৎগুরু কে এই নিয়ে এক এক জনের ভিন্ন দৃষ্টিকোন থাকে। বেদপ্রকাশ মহাশয় এখানে ভাগবত পুরাণের ভিত্তিতে মুহাম্মাদ কে জগৎগুরু্র খেতাব দিয়েছেন। বাস্তবে এখানে শ্রীবিষ্ণু উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্ব্ব্যাপী ও জগদগুরু। এখানে ভাগবত পুরাণের সঙ্গে যদি সামঞ্জস্য রেখে উনা্র সমীকরণটা বানাই তবে দাঁড়াবে এই রকম “নবী মুহাম্মাদই সর্বশক্তিমান, সর্ব্ব্যাপী, জগদগুরু এবং তিনিই আল্লা যিনি মানব রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন"। এই সমীকরণটা তামাম মুসলিম সমাজ মানতে কি প্রস্তুত?


৪. কল্কির খৎনা করানোর চেস্টা
বই এর অংশ



অংশের বিশ্লেষণ
বেদপ্রকাশ মহাশয় ভাগবত পুরাণ ১২.২.২০ থেকে দেখাতে চান- বেগবান অশ্ব দ্বারা বিচরণকারী অপ্রতিম কান্তিময়, লিঙ্গের অগ্রভাগে ছেদিত, রাজার বেশে গুপ্ত অগণিত দস্যুগণকে সংহার করবেন।

যেহেতু উনি সংস্কৃতে অভিজ্ঞ তাই উনি এখানে শব্দের অর্থের হেরফের করে শ্লোকের অর্থের কিছু বিকৃতি করেছেন এবং উনি এখানে এই শ্লোকের পূর্ব ও পশ্চাৎ শ্লোকের ও হিন্দুরীতি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে,শুধুমাত্র কল্কিকে মুহাম্মাদ বানানোর জন্য নিজের মতো করে এক অনুবাদ করেছেন।

নৃপলিঙ্গচ্ছদো = (নৃপ)রাজ+(লিঙ্গ)জ্যোতিচিহ্ন/লক্ষণ+(চ)সহিত+(ছদ)আবৃত/বেষ্টিত = রাজার লক্ষণাদি বৈশিষ্ট্যগুলো দ্বারা আবৃত

প্রমাণ স্বরূপ নৃপলিঙ্গচ্ছদো এর অর্থ নিচের কয়েকটি অনুবাদে Underline করে দেওয়া হল, দেখুন উনারা কেউ কল্কির খৎনা করানোর চেস্টা করেছে কি না।


অনুবাদ- International Gita Society
অনুবাদ - গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর বাংলা অনুবাদ

............. গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর হিন্দি অনুবাদ..…......




অনুবাদ- শ্রীযুক্ত আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ মহাশয়

এখানে কোনো অনুবাদে 'নৃপলিঙ্গচ্ছদো' এর অর্থগত দিক থেকে 'লিঙ্গের অগ্রভাগে ছেদিত' কেউ উল্লেখ করে নাই,এক ওই স্বার্থবাদী পন্ডিত বেদপ্রকাশ ছাড়া! 

পন্ডিত বেদপ্রকাশ নিজের জ্ঞান কে যেহেতু হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মান্তকরণে কাজে ব্যাবহার করেছিলো তাই মুসলিমদের কাছে উনি অনেক খেতাব পেয়ে থাকেন, এই যেমন – ধর্মাচার্য, পণ্ডিত, মহাজ্ঞানী, শাস্ত্রবিদ ইত্যাদি ইত্যাদি।


৫. কল্কির পরিবার নিয়ে ভণ্ডামি
বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
প্রথমত, এখানে স্পষ্ট বলা হচ্ছে কল্কি এক ব্রাহ্মণ ঘরে জন্মগ্রহণ করবে, অর্থ্যাৎ যে ঘরের মানুষেরা দশম সংস্কার পালনকারী, চার বেদের অধ্যায়ণ করে ও বেদের জ্ঞান কে রক্ষা করে। এটা আমি নয় কল্কির পিতা বিষ্ণুযশা নিজেই বলেছে-কল্কিপুরাণের ২.৩৮ তে।
(উক্ত স্কিনশট)

কিন্তু এইসব মুসলমানরা ভাবে যে, যারা শুধু হিন্দু সমাজে পূজাঅর্চনা করে সেই ব্রাহ্মণ। তার জন্য কাবাঘরের মূর্তির পূজাঅর্চনাকারী নবী মুহাম্মাদের পিতৃবংশ কে এরা ব্রাহ্মণ বলে চালিয়ে দিচ্ছে, ব্রাহ্মণের বাকি গুণ গুলো আর দেখার প্রয়োজন বোধ করে না।

দ্বিতীয়ত, কল্কি পুরাণের ২.৪ তে কল্কির যে বাবার নাম পাওয়া যায় তা হল “বিষ্ণুযশা” এবং মায়ের নাম “সুমতি”। 
(স্কিনশট)

আশ্চর্যব্যাপার হচ্ছে যেখানে “বিষ্ণুযশা” ও “সুমতি” দুটি স্পষ্ট হিন্দুয়ানি না্মের উল্লেখ আছে, সেখানে মুসলিম তোষণের জন্য এর অর্থগত বিশ্লেষণ করে এদের আরবি “আমিনা” “আবদুল্লাহ” বানাতে যাবো কেনো?? যাইহোক এটার জবাব উপরে দিয়ে আসা হয়েছে।

এইভাবে অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখতে গেলে প্রতিটা হিন্দু ঘরে থেকে একটি না একটি - দেবতা, দেবী ও অবতার জন্মের কথা এবং মুসলমান ঘর থেকে মুহাম্মাদ, নবীর বংশের ও নবীর ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত বহু সাহেবীর জন্মের কথা পাওয়া যাবে। অনেক মুসলমান তার ছেলের নাম “আবদুল্লাহ” রাখে, তাহলে সে কি নবী মুহাম্মাদের বাবা হয়ে যাবে ?

এই রকম শব্দের খেলা যদি আমি খেলি তবে আমিও চৈতন্যমহাপ্রভুকে মুসলমানদের শেষ ইমাম, মেহেদি বানাতে পারি! ইমাম শব্দের অর্থ বলতে সেই পণ্ডিত ব্যাক্তিকে বোঝাই যে নামাজের পরিচালনা করে অর্থ্যাৎ যে পণ্ডিত ব্যাক্তি উপাসনার পরিচালনা করে এবং মেহেদি শব্দের অর্থ সুপথের সন্ধান প্রাপ্ত। শ্রীচৈতন্য কে-মহাপ্রভু ও কৃষ্ণনাম কীর্তনের পরিচালক হিসাবে ভূষিত করা হয়(ইমাম) এবং তিনি হরেকৃষ্ণ নামের মাধ্যমে মানুষের সুপথ সন্ধান করেছেন(মেহেদি)এরসঙ্গে তিনি শান্তির বাণীর প্রচারক(ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি)। তাহলে অর্থগত বিশ্লেষণ করে দাঁড়ালো চৈতন্যমহাপ্রভুই সেই ইমাম মেহেদি! আশা করি আমার এই শব্দের খেলা মুসলমানেরা মেনে নেবে!



৬. অন্তিম বা শেষ অবতার
বই এর অংশ
অংশের বিশ্লেষণ
স্পস্টত নবী মুহাম্মাদ আব্রাহামিক ধর্মের শেষ নবী এবং পৌরানিক ধারণা অনুসারে কল্কি অবতার আসবে কলির শেষ ভাগে, যে সময় এখনো উপস্থিত হয়নি। তবে আগাম কল্কি মুহাম্মাদ হিসাবে জন্ম নেই কি করে?
(স্কিনশট ভগবত পুরাণ ১২.২.১৬)
বি
শেষভাবে এখানে দেখুন কল্কি আসবে ধর্মরক্ষার জন্য অর্থ্যাৎ আগে যে সনাতন ধর্ম ছিলো তারই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন তিনি, কিন্তু মুহাম্মাদ এসেছে ইসলাম নামে এক নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। এমনকি এটা আরো স্পস্ট করা হয়েছে কল্কির অবতরণের সাথে সত্যযুগের শুরু হবে অর্থ্যাৎ সত্যযুগের ন্যায় সনাতন ধর্ম আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।



(স্কিনশট ভগবত পুরাণ ১২.২.২৩)

এখানে আবার কিছু কিছু মুসলমান আছে যারা পুরাণের ৪ যুগ কে মানে না, কিন্তু পুরাণের কল্কি কে মুহাম্মাদ বানানোর তামাম তথ্য যা ওরা পুরাণ থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো কে ঠিক মানে।

তাদের পৌরাণিক যুগের হিসাব মানতে হবে না, তারা অন্তত জ্যোতিষ হিসাবটা মানুক! এখন আধুনিক বিজ্ঞান একটি থিওরী আবিস্কার করেছে “মহাকাশের প্রসারন থিওরী” এই থিওরী অনুসারে মহাকাশ সময়ের সাথে সাথে প্রসারিত হচ্ছে। যার জন্য গ্রহ নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েই চলেছে। এরজন্য আপাত দৃষ্টিতে পৃথিবী থেকে বিভিন্ন নক্ষত্র ও গ্রহদের দূরত্ব বেড়ে যায় এবং মনে হয় তারা সময়ের সাথে সাথে গতিশীল। ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.৩১ তে যুগের জ্যোতিষ হিসাবে বলা হয়েছে “সপ্তর্ষি যখন রাশি চক্রের মঘা নক্ষত্রের উপর বিচরণ করে তখন কলিযুগের সূচনা হয়”। এখানে মহাকাশের প্রসারনের জন্য সপ্তর্ষি কে আপাত দৃষ্টিতে পৃথিবী থেকে গতিশীল মনে হয়। এরপর বলা হচ্ছে ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.৩২ তে “যে সময় সপ্তর্ষি মঘা ত্যাগ করে পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রে চলে যাবে তখন কলিযুগের বৃদ্ধির সূচনা হবে” এবং ভাগবত পুরাণ এর ১২.২.২৮ তে বলা হয়েছে “যখন রাশিচক্রে চন্দ্র সূর্য ও বৃহস্পতি এক সময়ে একসঙ্গে পুষ্যা নক্ষত্রে প্রথম পলে প্রবেশ করে ও একই রাশিতে অবস্থান করে তখন সত্যযুগের সূচনা হয়ে যায়”। নবী মুহাম্মাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কখনও এই রকম জ্যোতিষগত অবস্থার সৃষ্টি হয়নি, সুতরাং সত্যযুগ শুরু হয়নি, তাই নবী মুহাম্মাদ কোনো কল্কি অবতার নয়, এক হিসাবে মিটে যাচ্ছে।

অনেক মুসলমান আছে যারা মুহাম্মাদকে বিশ্বনবী, বিশ্বে মানবদের জন্য প্রেরিত অন্তিম নবী হিসাবে মানে। এটা তাদের একটি জাতিগত ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি শব্দের দিক দিয়ে বিচার করি, তবে নবী শব্দের অর্থ ঈশ্বরের বার্তাবাহক রূপে দাঁড়াবে। তাহলে যেসব মুসলমানরা মুহাম্মাদকে বিশ্বের শেষ নবী বলে দাবী তোলে তারা ইসলামের পরে আগত শিখ ধর্মের ১০ গুরুর ব্যাপারে কি বলবে? শিখ ধর্মের ১০ গুরু শিখদের জন্য “ঈশ্বরের বার্তাবাহক” অর্থ্যাৎ নবী!


৭. কল্কির পর্বতে গমন এবং প্রত্যাবর্তনের নামে মিথ্যাচার
বই এর অংশ

অংশের বিশ্লেষণ
যেখানে কল্কি পুরাণে স্পস্ট করে নাম সহ কল্কির  নিজের ৩ বড় ভাইএর কথা বলা হয়েছে, যারা কল্কিকে এই যুদ্ধে সাহায্য করবে, সেখানে সূদুর আরবে কোন মুহাম্মাদের তিনজন সাহবী - আবুবকর, উমর, উসমান কে এখানে টানবো কেনো?  

(কল্কি পুরাণ-৩.১)

তিনি সেখানে ৬৪ কলা কৌশল সহ, বেদ ও বেদের বিভিন্ন শাখা যেমন ধনুর্বেদ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করবেন 

(কল্কি পুরাণ-৩.৬)

এরপরে তিনি তার ব্রহ্মচর্য অংশ শেষ করে আবার নিজ জন্মস্থান শম্ভল গ্রামে ফিরবেন। 

যদি এখানে লেখকের কথা মেনে নিই এবং কল্কিপুরাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখি তবে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে মুহাম্মাদ জিব্রাইলের কাছে থেকে কুরআনের বাণী অবতীর্ণের নাম ভাঙিয়ে গোপনে হেরা পাহাড়ে গুহাতে গিয়ে বেদের অধ্যায়ন করতো! 





2 comments:

  1. How is it possible that your human hand controlled book resembles Islam and Quran.Subhanallaah.
    Many of your points say Muhammad Sallallaahu A'lahi Wa Sallam is not in your books.But can't you see the similarities,,,

    ReplyDelete