ইসলামী সেক্স আইন - VedasBD.com

Breaking

Thursday, 20 December 2018

ইসলামী সেক্স আইন


সহি বুখারিঃ ভলিউম-৭, বুক নং-৬২, হাদিস নং-১৬ঃ
জাবের বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিতঃআমরা একবার নবীর সাথে একটি ‘গাজওয়া’ (বিধর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে গাজওয়া বলা হয়) হতে ফিরছিলাম। আমি আমার উটটিকে খুব দ্রুত চলনা করতে চাইলাম। এটি ছিল অত্যন্ত অলস একটি উট। সুতরাং আমার পেছন হতে একজন আরোহী এসে তার হস্তস্থিত বর্শা দ্বারা খোঁচা মারতেই আমার উটটি এত দ্রুত ছুটতে শুরু করলো যে মনে হবে এর চেয়ে দ্রুতগামী উট আর নেই। দেখ! আরোহীটি ছিলেন স্বয়ং নবী। তিনি বললেন – ‘এত তাড়া কীসের তোমার’? আমি বললাম – আমি নূূতন বিয়ে করেছি। তিনি বললেন – ‘তোমার বউ কুমারী না মেট্রন (বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা)’? আমি বললাম – সে একজন মেট্রন। তিনি বললেন – ‘কচি মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে তুমি তার সাথে খেলতে পারতে এবং সে তোমার সাথে খেলতে পারত’। যখন আমরা (মদীনায়) প্রবেশ করতে যাচ্ছি, নবী বললেন – ‘অপেক্ষা করো যেন তুমি রাত্রিবেলা (মদীনায়) প্রবেশ করতে পার। তাহলে মহিলা তার অবিন্যস্ত চুল আঁচড়িয়ে নেয়ার অবকাশ পাবে এবং যে নারীর স্বামী অনেকদিন অনুপস্থিত ছিল সে তার যৌনকেশ শেভ করার অবকাশ পাবে’।

সহি বুখারিঃ ভলিউম-৩, বুক নং-৩৮, হাদিস নং-৫০৪ঃ
জাবের বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিতঃ
আমি নবীর সাথে এক অভিযান থেকে ফিরছিলাম। আমার সওয়ারি উটটি ছিল মন্থর গতিসম্পন্ন এবং সবার পেছনে। [...] যখন আমরা মদীনার সমীপবর্তী হলাম, আমি (দ্রুত) আমার (বাড়ীর) পথ ধরলাম। নবী বললেন – ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ’? আমি বললাম – ‘আমি একজন বিধবাকে বিয়ে করেছি’। তিনি বললেন – ‘তুমি কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তাহলে তোমরা একে অপরের সাথে রঙ্গরস করতে পারতে’। [.....]

সহি মুসলিমঃ বুক নং-০০৮, হাদিস নং-৩৫৪৯ঃ
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
.....আল্লাহর রসুল (দঃ) আমাকে বললেন – ‘তুমি কি বিয়ে করেছো’? আমি বললাম – হ্যাঁ । তিনি বললেন – ‘সে কি কুমারী না পূর্ব-বিবাহিতা (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা)’? আমি বললাম – পূর্ব-বিবাহিতা। তখন তিনি বললেন – ‘কুমারীর সাথে মজা করার স্বাদ থেকে বঞ্চিত রইলে কেন’? শু’বা বলেন – এই ঘটনার কথা আমি আমর বিন দিনারের কাছে উল্লেখ করলে আমর বলেছিলেন – আমিও জাবেরের মুখে বর্ণনাটি শুনেছি। (আল্লাহর রসুল) তাকে বলেছেন – তুমি একজন বালিকা বিয়ে করলে না কেন? তা’হলে তুমিও তার সাথে খেলতে পারতে, সেও তোমার সাথে খেলতে পারত।
.
উপরের হাদিস তিনটি ভালভাবে পাঠ করুন পাঠক। কী মনে হয় আপনার? কেউ একজন দয়া পরবশ হয়ে বিধবা বিয়ে করলো, মোহম্মদের (দঃ) প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তার অবস্থাটা কী দাড়ালো তা’হলে? তার বিধানকে ফলো করে কেউ যদি অতি অল্পবয়েসী মেয়েকে বিয়ে করার জন্যে ক্ষেপে উঠে, তাকে খুব একটা দোষ দেয়া যায় কি? যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে গণ্য করাও মুশকিল, কারণ সে আল্লাহর রসুলের (দঃ) নির্দেশ পালন করেছে মাত্র। স্বয়ং রসুলের (দঃ) হেরেমে এরূপ একজন কুমারী ছিল। তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিলেন যে কম বয়েসী কুমারীর সাথে সহবাসে মজাই আলাদা। বালিকা শিশুদের সাথে সহবাসে আল্লাহপাকেরও নিশ্চয়ই সম্মতি রয়েছে। কোরাণে আছে – আল্লাহ তার বিশ্বাসী বান্দাদের মনোরঞ্জনের জন্যে অক্ষতযোনী কুমারীদের অক্ষয় ভাণ্ডার রেডী করে রেখেছেন। প্রমান স্বরূপ কোরাণ পাকের গোটাকয়েক আয়াত এখানে উদ্ধৃতি দেয়া গেল। মেয়েদের কুমারিত্বের প্রতি আল্লাহপাকের কতটুকু মোহ এ থেকে মোটামোটি তার একটি চিত্র পাওয়া যাবে।
.
সুরা দুখান (৪৪) ৫১-৫৪ঃ “নিশ্চয়ই খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে, উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণী সমূহে। তারা ব্যবহার করবে পাতলা ও কিংখাবখচিত রেশমী বস্ত্র, পরস্পর মুখোমুখী হয়ে বসবে। এরূপই হবে এবং তাদের জন্যে রয়েছে আয়তলোচনা স্ত্রীগণ”।
.
সুরা আর-রহমান (৫৫)৫৪-৫৮: “তারা সেথায় রেশমের আবরণবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় জান্নাতের ফল ঝুলবে তাদের সামনে। অতএব তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে? তথায় থাকবে আয়তলোচনা রমণীগণ, কোন মানব ও জ্বিন পুর্বে তাদেরকে ব্যবহার করে নাই।....প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ”।
.
৭০-৭৪ঃ “সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। অতএব তোমাদের পলনকর্তার কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে? তাবুতে উপবেশকারী হুরগণ।....কোন মানব ও জ্বিন পুর্বে তাদেরকে স্পর্শ করেনি”।
.
সুরা ওয়াক্কিয়া (৫৬)ঃ ৩৫-৩৮ঃ “আমি জান্নাতের রমণীদিগকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডান দিকের লোকদের জন্যে”।
.
সুরা আন্‌-নাবা (৭৮)ঃ ৩১-৩৪ঃ “পরহেজগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য, উদ্যান, আঙ্গুরবীথি। সমবয়স্কা, ইন্দ্রিয়তৃপ্তিকারী তরুণী এবং পূর্ণ পানপাত্র”।
.
উপরের আয়াতগুলি পড়লে বুঝা যায়, কেন অল্পবয়স্কা কুমারী বিয়ে করা উত্তম। কারণ আল্লাহপাক অল্পবয়েসী কুমারী মেয়ে পছন্দ করেন, তাই তিনি তার প্রিয় বান্দাদের মনোরঞ্জনের জন্যে বেহেশতে তার অঢেল সরাবরাহ নিশ্চিত করেছেন। এজন্যেই বোধ হয় পরস্যের দার্শনিক-কবি উমর খৈয়াম গেয়েছিলেন-“স্বর্গপুরের হর্মে নাকি দেদার হুরি বসত করে, সেথায় দেখ অঢেল সুরার উর্মিমুখর ঝর্ণা ঝরে”। আল্লাহর পাক কালামেও ঠিক অনুরূপ বিবরণই রয়েছে।

এক রাত্রির খেলঃ
কথায় আছে, লাখ কথা খরচ করে একটি বিয়ে হয়। বিয়েতে শুধু যে লাখো কথা আর সুদীর্ঘ সময় লাগে তাই নয়, দেন মোহরের বোঝাটাও কম ভারী নয়। এতসব ঝামেলা এড়াতে অনেককে তাই ‘কুইক সেক্সের’ শরণ নিতে দেখা যায়। পৃথিবীর প্রাচীনতম এই পেশাটিতে রমণীর অভাব কোনকালে ছিল না। এক রাত্রির অতিথিদের আনন্দ দিতে তারা এক পায়ে খাড়া। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় এই সেক্সের নাম “এক রাত্রির খেল্‌” – ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এই সহজ উপায়টির সমতুল্য বিধান পবিত্র ইসলামেও আছে!
.
এক রাত্রির খেলার ইসলামি পারিভাষিক নাম – ‘মু’তা’। মু’তা ম্যারেজ। এই বিয়ের নিয়মানুযায়ী একজন পুরুষ কোন মেয়ের সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে বিয়ের চুক্তি করে অনায়াসে তার সাথে সহবাস করতে পারে। যদিও সুন্নী সমাজে এই ধরণের বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, শিয়াদের মাঝে এখনও তা চালু আছে। মু’তা বিয়ের মাধ্যমে সন্ধ্যেবেলায় একটি মেয়েকে বিয়ে করে সকালবেলায় কিক আউট করা খুবই সম্ভব। তালাক-ফালাকের কোন ঝামেলা নাই। মু’তা বিয়ে এক সাথে ঘুমানোর একটি চুক্তি মাত্র, এর বেশী কিছু নয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এক সাথে চার জনের বেশী বউ রাখা যদিও শরীয়তে নিষিদ্ধ, তবে মু’তা বা টেম্পোরারী বিয়ের ক্ষেত্রে এই বিধি প্রযোজ্য নয়। কোন বিশেষ সময়ে একজন মুসলমান কত জন অস্থায়ী বউ রাখতে পারবে, তার নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নাই। আধুনিক ভাষায় এরই নাম ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’। মু’তা বিয়ের কোন টাইম লিমিট নাই। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ‘এক রাত্রির খেল্‌’ প্রথাটি পুরোপুরি ইসলাম সম্মত। মু’তা বিয়ের মাধ্যমে একজন মুসলমান ইচ্ছে করলে যে কোন সংখ্যক নারীর সাথে দিনরাত সঙ্গমসুখ উপভোগ করতে পারে। কথিত আছে যে নবীর (দঃ) দৌহিত্র হযরত হাসানের (রাঃ) বৈধ স্ত্রীদের অতিরিক্ত তিন শ’ জন সেক্স পার্টনার ছিল (ইসলামী পরিভাষায় অস্থায়ী স্ত্রী)। এদিক বিবেচনা করলে হযরত হাসানকে সে যুগের ইসলামী প্লেবয় আখ্যা দেয়া যেতে পারে। আমার বর্ণনায় আপনার সন্দেহ হচ্ছে? তাহলে নীচের সহি হাদিসটি লক্ষ্য করুন, দেখুন এক রাত্রির খেলের জন্যে সঙ্গিনী বা উপপত্নী যোগাড় করার ইসলামি নিয়ম কী?

সহি মুসলিমঃ বুক নং-০০৮, হাদিস নং-৩২৫৩ঃ
রাবি বিন ছাবরা হতে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের সময় তার পিতা রাসুলুল্লাহর (দঃ) সাথে এক যুদ্ধে শরীক হয়। ‘আমরা সেখানে পনের দিন অবস্থান করি। আল্লাহর রসুল (দঃ) আমাদিগকে অস্থায়ী বিয়ের অনুমতি দেন। সুতরাং আমি আমার গোত্রেরই এক লোকের সাথে (মেয়ে খুঁজতে) বেরিয়ে পড়ি। আমার সঙ্গীর চেয়ে আমি দেখতে সুন্দর ছিলাম, পক্ষান্তরে সে দেখতে ছিল প্রায় কদাকার। আমাদের উভয়েরই পরণে ছিল একটি করে উত্তরীয় (cloak)। আমার উত্তরীয়টি ছিল একেবারেই জীর্ণ, আমার সঙ্গীরটি ছিল আনকোরা নূতন ।..শহরের একপ্রান্তে একটি মেয়ে দৃষ্টিগোচর হলো আমাদের। অল্পবয়েসী চমৎকার একটি মেয়ে, ঠিক যেন মরাল গ্রীবা চটপটে এক মাদী উট। আমরা বললাম – আমাদের মধ্যে একজন তোমার সাথে অস্থায়ী বিয়ের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে চাই, তা কি সম্ভব? সে বলল – দেনমোহর বাবদ তোমরা আমাকে কী দিতে পার? আমরা উভয়েই তার সামনে আমাদের স্ব স্ব উত্তরীয় মেলে ধরলাম। সে আমাদের উভয়ের উপর দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। আমার সঙ্গীও মেয়েটির উপর দৃষ্টি বুলিয়ে নিল এবং বলল – ওর উত্তরীয় ছিড়ে গেছে, পক্ষান্তরে আমার উত্তরীয়টি একেবারে নূতন । মেয়েটি অবশ্য বলল – এই উত্তরীয়টি (পুরাতনটি) গ্রহন করায় ক্ষতি নাই। কথাটি সে দু’তিনবার বলল। সুতরাং আমি তার সাথে অস্থায়ী বিয়ে সম্পন্ন করে ফেললাম এবং যে পর্যন্ত আল্লাহর রসুল প্রথাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা না করেন, সে পর্যন্ত এই সম্পর্ক আমি ছিন্ন করিনি।
.
মু’তা’র শাব্দিক অর্থ উপভোগ। (ডিকশনারী অব ইসলাম – টি.পি.হাফস্‌, পৃঃ-৪২৪)। প্রায়োগিক অর্থ – কিছু অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্যে অস্থায়ী বিবাহ। এই ধরণের বিয়ে ইরানে শিয়াদের মাঝে এখনও প্রচলিত আছে (ম্যালকম’স পারশিয়া, ভলিউম-মম, পৃঃ-৫৯১), তবে সুন্নীরা এই ধরণের বিয়েকে অবৈধ বলে থাকে। আওতাস (Autas) নামক স্থানে নবী এই ধরণের বিয়ে করতে অনুমতি দিয়েছিলেন যা নাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের নৈতিক মর্যাদার উপর নিঃসন্দেহে এক গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সুন্নীদের দাবী পরবর্তীতে খায়বার নামক স্থানে প্রথাটি বাতিল করে দেন নবী। (মেশকাত, বুক নং-xii, চ্যাপ্টার-iν৯৫৭;) ।
.
যৌন বিকৃতি/ অন্ধ-মোহগ্রস্থতাঃ
ধরুন রাস্তায় আপনি একটি মেয়ে দেখলেন। অপরূপ সুন্দরী, পুর্ণ যৌবনবতী, সেক্সি। মেয়েটিকে দেখে আপনি দারুণভাবে কামোত্তেজিত হয়ে পড়লেন। কী করবেন আপনি? এই অবস্থায় ইসলামী সমাধান চটপট ঘরে ফিরে গিয়ে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করুন। বর্তমান যুগে রাস্তা-ঘাট অফিস-আদালত সর্বত্র পর্ণগ্রাফি তথা কামোত্তেজক জিনিসের ছড়াছড়ি। ম্যাগাজিনের শোভন মলাটে নগ্ন নারীমুর্তি দেখে কতবার যে আপনাকে ঘরে দৌড়াতে হয় কে জানে? এ প্রসঙ্গে যে হাদিসটি আছে তার বিবরণঃ

সহি মুসলিমঃ বুক নং-৮, হাদিস নং-৩২৪০ঃ
জাবির হতে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসুল (দঃ) একবার একজন স্ত্রীলোক দেখতে পেলেন। সুতরাং তিনি তাড়াতাড়ি তার স্ত্রী জয়নবের নিকট গেলেন এবং তার সাথে সঙ্গমে মিলিত হলেন। জয়নব তখন একটি চামড়া ট্যান করছিলেন। সঙ্গম শেষে রাসুল সাহাবীদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন – সাক্ষাৎ শয়তান মেয়ের রূপ ধরে আমার কাছে আসল। সুতরাং তোমরা কেউ যদি এরূপ মেয়ের মুখোমুখী হও, তৎক্ষনাৎ নিজের স্ত্রীর নিকট চলে যাবে। এভাবেই কেবল অন্তরের কু-বাসনার নিবৃত্তি সম্ভব।
.
ফরজ গোসলঃ
যদি কোন ব্যক্তি যৌন বিষয়ক চিন্তার প্রকোপে অত্যাধিক কামোত্তেজিত হয়ে পড়ে তাকে ফরজ গোসল করে পাক-পবিত্র হতে হবে (যৌন সঙ্গমের পর বাধ্যতামুলকভাবে সর্বাঙ্গ ধৌত করার ইসলামী নাম ফরজ গোসল)। একবার ভাবুন, এই নিয়ম ফলো করতে হলে দিনে কতবার আপনাকে ঘরে দৌড়াতে হবে এবং স্ত্রীর যৌনাঙ্গর সাথে আপনার খৎনা করা প্রত্যঙ্গটিকে মিলাতে হবে? যৌনমিলনের পর কীভাবে নিজকে পাকপবিত্র করতে হয়, সে সম্পর্কে একটি হাদিসঃ
.
সহি মুসলিমঃ বুক নং-৩, হাদিস নং-০৬৮৪ঃ
আবু মুসা হতে বর্ণিতঃ এক দল মুহাজির এবং এক দল আনসারের মধ্যে একবার মতবিরোধ দেখা দেয়। (মতবিরোধের কারণ ছিল এই যে) জনৈক আনসার বলেছিল – গোসল ফরজ হবে কেবলমাত্র তখনই যদি (যৌন সঙ্গমের ফলে) বীর্য বেরিয়ে আসে। কিন্তু মুহজিরগণ বলেন যে মেয়েলোকের সাথে সঙ্গমে মিলিত হলেই গোসল ফরজ হয়ে যায় (বীর্যপাত ঘটুক আর নাই ঘটুক, তাতে কিছু এসে যায় না)। আবু মুসা বললেন – ঠিক আছে, আমি তোমাদেরকে এ বিষয়ে সঠিক নিয়ম বাৎলে দেব। তিনি (আবু মুসা) বলেন – আমি সেখান থেকে উঠে আয়েশার নিকট গেলাম এবং তার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থণা করলাম। অনুমতি মিলল এবং আমি তাকে প্রশ্ন করলাম – উম্মুল মোমেনীন, আমি আপনাকে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই যা বলতে আমারই লজ্জা লাগছে। তিনি বললেন – যে কথা তুমি তোমার জন্মদাত্রী মাকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পেতে না, আমাকেও তুমি তা জিজ্ঞেস করতে পার, আমি তোমার মায়ের মতোই। এ কথার পর আমি তাকে বললাম – একজন পুরুষের উপর গোসল ফরজ হয় কখন? উত্তরে তিনি বললেন – তুমি ঠিক জায়গায়ই এসেছ। রসুলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন – কোন ব্যক্তি যদি (স্ত্রীলোকের) চারটি প্রতঙ্গের উপর সওয়ার হয় এবং খৎনা করা অঙ্গগুলি পরস্পর স্পর্শ করে, তখনই গোসল করা ফরজ হয়ে দাঁড়ায়।
.
পুরুষটির চরম তৃপ্তি হলো কিন্তু সঙ্গিনীর হলো না (কিংবা বিপরীত ঘটলো-- মেয়েটির অর্গাজম হলো, পুরুষটির হলো না)।
.
অসমাপ্ত যৌনতৃপ্তির ক্ষেত্রে ইসলামী সমাধান কী, নীচের হাদিস দু’টি হতে তার উত্তর পাওয়া যেতে পারে। পাঠক, হাদিস দু’টি পাঠ করুন এবং আপনার বেড রুমেও কোনদিন এরূপ সমস্যার মুখোমুখী হয়ে থাকলে তার সাথে মিলিয়ে নিন।

সহি মুসলিমঃ বুক নং-৩, হাদিস নং-০৬৭৭ঃ
উবেই ইবনে ক্কাব হতে বর্ণিতঃ আমি একজন লোক সম্পর্কে রাসুলুল্লাহর (দঃ) কাছে জিজ্ঞেস করি। লোকটি স্ত্রীর চরম তৃপ্তির আগেই উঠে পড়তো। এ কথা শুনে তিনি (নবী) বললেন – তার উচিৎ স্ত্রীর (যৌনাঙ্গ হতে নিঃসৃত) ক্ষরণ ধুয়ে ফেলা, অতঃপর অজু করে নেয়া ও নামাজ পড়া।

সহি মুসলিমঃ বুক নং-৩, হাদিস নং-০৬৮০ঃ জায়িদ বিন খালিদ বলেছেন যে তিনি উসমান ইবনে আফফানকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেছিলেন – একজন লোক স্ত্রীর সাথে সঙ্গমে মিলিত হলো, কিন্তু স্ত্রী চরম তৃপ্তি পর্যøন্ত পৌছুতে পারল না। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? উসমান বললেন – নামাজের জন্যে সে যেভাবে অজু করে এক্ষেত্রেও তার তাই করা উচিৎ, এবং নিজের যৌনাঙ্গটিও ধুয়ে ফেলা উচিৎ। উসমান আরও বলেন – আমি এ কথা রসুলুল্লাহর (দঃ) মুখ থেকে শুনেছি।
.
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,দ্বিতীয় অধ্যায়,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

নারীদেহ ভোগের জন্যে, নিশ্চিন্তে চালিয়ে যানঃ
ইসলামে সেক্স শব্দটির অর্থ হলো নারীদেহ ভোগ। সেক্স যে নর এবং নারী এই উভয় প্রজাতির জন্যেই চরম আনন্দদায়ক একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে সে ধারণা ইসলামী কামশাস্ত্রে অনুপস্থিত। ইসলামী প্রথামতে পুরুষটিই এই খেলার একমেবাদ্বিতীয়ম খেলোয়াড়। খেলাটি কীভাবে চলবে তা স্থির করবে পুরুষটি, নারীর কোন ভুমিকা সেখানে নেই। ইসলামী রতিক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের নিয়ম নেই। সে পুরুষের রতিখেলার একজন নিষ্ত্র্নিয় সহযাত্রী মাত্র; পুরুষটিকে যৌনতৃপ্তি দেয়ার মামুলি যন্ত্রবিশেষ। ইসলামী আইনসমুহের ভিত্তি বলে পরিচিত কোরাণ এবং হাদিসশাস্ত্র নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করার পর আমার অন্ততপক্ষে তাই মনে হয়েছে।
.
ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী দৈহিক/জৈবিক আনন্দলাভের এই প্রক্রিয়া আর দশটা বাণিজ্যিক অথবা ব্যবসায়িক লেনদেন প্রক্রিয়ার মতোই। একজন প্রাপ্তবয়স্কা নারীরও নিজের পছন্দানুযায়ী বর নির্বাচনের অধিকার নাই ইসলামে, বর নির্বাচনে তাকে অভিভাবকের পছন্দের উপর নির্ভর করতেই হবে। বিবাহ কিংবা যৌনসম্পর্কিত যে কোন কর্মকাণ্ডে নারীর অস্তিত্ব শুধুমাত্র একটি যৌনতৃপ্তি প্রদায়ী বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। নারী একটি সেবা প্রদানকারী মেশিন (সার্ভিস প্রভাইডিং অবজেক্ট); সেবার বিনিমিয়ে সে কিছু অর্থমূল্য পাবে। ইসলামী পরিভাষায় এই বিনিময় মূল্যের নাম দেনমোহর, সংক্ষেপে মোহরানা। বিয়ের পুর্বে একজন মুসলমান পুরুষকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানে স্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে হবে। এই অর্থ সে তাৎক্ষণিকভাবেও পরিশোধ করতে পারে, কিংবা পরবর্তীতে পরিশোধ করবে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাকীতেও সার্ভিস ক্রয় করতে পারে। মোহরানা প্রদানের চুক্তি ছাড়া কোন বিয়েই ইসলামী আইনানুযায়ী বৈধ নয়। দেনমোহর আসলে যৌনসম্ভোগের জন্যে একটি নারীদেহের অধিকার লাভ করার বিনিময় মুল্য ছাড়া আর কিছু নয়। মোহরানার এই সংজ্ঞা আপনার কাছে অমার্জিত বলে মনে হতে পারে; তবে শারিয়া সম্পর্কিত যে কোন আইন বই ঘাটলেই আমার বক্তব্যের যথার্থতার প্রমাণ পেয়ে যাবেন আপনি। মনে রাখবেন শারিয়া আইন মুসলিম সমাজে অবশ্য প্রতিপাল্য, স্বয়ং আল্লাহপাক নিজ হাতে মুসলমানদের জন্যে এই আইন তৈরী করে দিয়েছেন। অত্র প্রবন্ধের পরিশিষ্টে উল্লেখিত ৮নং রেফারেন্সটি ইসলামী সমাজে অত্যন্ত প্রামাণ্য শরিয়া গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। আপনার তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্যে আমি সেখান থেকে একটিমাত্র রেফরেন্স উল্লেখ করছি এখন (রেফারেন্স-৮, পৃষ্ঠা-৫২৬)।
.
স্ত্রীদেহের একচ্ছত্র মালিকানা পুরুষের, স্ত্রীদেহকে সে যেভাবে ইচ্ছে ভোগ করতে পারে, প্রয়োজন পড়লে প্রহারও করতে পারেঃ
স্বামীর অধিকারঃ স্ত্রীর শরীর (মাথা হতে পায়ের পাতা পর্যন্ত) ইচ্ছেমতো ভোগ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে স্বামীর, তবে কথা থাকে যে এরূপ ভোগপ্রক্রিয়ায় স্ত্রী যেন শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। স্ত্রীর পায়ুপথ দিয়ে সঙ্গম করা সম্পূর্ণভাবে হারাম (নমঢ়ঃহ৭৫.২০) । ভ্রমণকালে স্বামী ইচ্ছে করলে স্ত্রীকে সাথে বহন করতে পারে।
.
এবার আমরা ইসলামী আইনের (ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স) উপর আরেকটি প্রামান্য গ্রন্থের কিছু অংশ আলোচনা করব। হানাফি আইনের টেক্সট বই হিসেবে বৃটিশ আমলে এটির বহুল ব্যবহার ছিল ভারতবর্ষে (রেফারেন্স-১১)। ইসলামী আইনের ব্যখ্যায় শারিয়াবিদগণ প্রায়শই এই বইয়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। বইটির ৪৪নং পৃষ্ঠায় লেখা আছেঃ
.
নারীদেহের ‘বোজা’ ((Booza)  প্রদানের পর পুর্ণ মোহরানা প্রদান করা আবশ্যিক। বোজা শব্দের ল্যাটিন প্রতিশব্দ  Genetalia arvum Mulierist.
.
স্ত্রী কর্তৃক পূর্ণ দেনমোহর প্রাপ্যতার শর্তঃ যৌনমিলনের মাধ্যমে বিবাহ পুর্ণাঙ্গ করণ অথবা স্বামীর মৃত্যু।- - কেউ দশ দিরহাম কিংবা তদূর্ধ্ব কোন অঙ্কের দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করল। অতঃপর সে যৌনমিলনের মাধ্যমে বিয়েকে পূর্ণাঙ্গ করল কিংবা মৃত্যু বরণ করল। এই উভয় ক্ষেত্রেই স্ত্রী পূর্ণ মোহরানা পাওয়ার অধিকারী। কারণ প্রথম ক্ষেত্রে দেনমোহরের বিনিময় হিসেবে স্ত্রী তার ‘বোজা’ বা স্ত্রী-অঙ্গ প্রদান করার শর্ত প্রতিপালন করেছে, সুতরাং তার দেনমোহর পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুতে বিবাহ পুর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে বলে বিবেচ্য, সুতরাং বিবাহ সংক্রান্ত সমুদয় শর্তাদি পালনযোগ্য।
.
হ্যাঁ পাঠক, ‘বোজা’র ল্যাটিন প্রতিশব্দ Genetalia arvum Mulierist। বাংলায় স্ত্রীযোনি, ইংরেজীতে vagina । উপরের বাক্য ক’টি হতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে ইসলামী বিয়ে মানে দেনমোহরের বিনিময়ে স্ত্রীযোনি বিক্রি করা। এতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ আছে কি?
.
সেক্স বলতে এ রকমটিই বুঝায় ইসলামে। দেনমোহর প্রদান করে স্ত্রী-অঙ্গ ক্রয় করা এবং তা ভোগ করা। যৌনমিলনে স্ত্রী যৌনসুখ পেলো কিনা, ইসলামী বিবেচনায় তা একেবারেই অবান্তর। নগদ অর্থে মোহরানা প্রদান করে (কিংবা পরবর্তীতে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে) বিয়ের চুক্তির মাধ্যমে স্ত্রীকে ঘরে আনার পর পুরুষটির চরমতৃপ্তিই মূল বিবেচ্য বিষয়। যদি কেউ মনে করে থাকেন যে আমি বেশী বেশী বলছি কিংবা প্রসঙ্গহীন বক্তব্য রাখছি তাদের জন্যে আইনটি আরেকটু বিশদভাবে বিবৃত করা দরকার আছে বলে মনে করি। পাঠক, ‘পজেশন অব অবজেক্ট অব কন্ট্রাক্ট’ এই লিগাল টার্মটির নাম শুনেছেন কখনও? নিশ্চয়ই শুনেন নি। এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘চুক্তিকৃত বস্তুর উপর অধিকার’। বিয়ের কন্ট্রাক্টও একটি চুক্তি এবং চুক্তিকৃত বস্তুটি আপনার স্ত্রী। দেনমোহর দিয়ে চুক্তিকৃত এই বস্তুটির উপর আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে তা জানেন? ইসলামি আইনানুযায়ী রতিক্রিয়া বা উপভোগের মাধ্যমে এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। নারী তার যোনিটি স্বামীর কাছে ডেলিভারি দিলে তবেই তার মোহরানা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়, নচেৎ নয়! নীচের আইনটি লক্ষ্য করুনঃ

‘খাওলাত সহিহ্‌’ বা শয্যা-সংক্রান্ত উদাহরণঃ একজন লোক স্ত্রীর সাথে শয্যায় গেল। রতিক্রিয়া করার পথে তাদের সামনে কোন আইনগত কিংবা প্রাকৃতিক বাধা নেই। এরপর স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেয়- সেক্ষেত্রে পূর্ণ মোহরানা পাওয়ার অধিকার রয়েছে স্ত্রীর। ইমাম শাফেয়ীর মতে – এক্ষেত্রে স্ত্রী ধার্যকৃত দেনমোহরের অর্ধেকের বেশী দাবী করতে পারে না। কারণ রতিক্রিয়া ব্যতিরেকে চুক্তিকৃত বস্তুর উপর স্বামীর অধিকার পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে – এমত বলা যাবে না। স্ত্রীর দেহ উপভোগ না করা পর্যন্ত দেনমোহর পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ প্রসঙ্গে আমাদের ডাক্তারদের যুক্তি- যেহেতু স্ত্রী তার দেহ নিবেদন করে এবং সাধ্যমতো সমুদয় বাধা অপসারিত করে তার তরফের চুক্তি পরিপূর্ণরূপে পালন করেছে; সুতরাং তার বিনিময় মূল্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে; ঠিক সেইভাবে যেভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। একজন বিক্রেতা একটি পণ্য বিক্রি করে ক্রেতার কাছে ডেলিভারি দিল, এবং ক্রেতা কতৃক পন্যটি ভালভাবে যাচাই করে নেয়ার পথে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করল না, এবং ক্রেতা অবহেলাবশত পন্যটি সঠিকভাবে যাচাই করল না, এক্ষেত্রে আইনের দৃষ্টিতে ক্রেতা পণ্যটি যথাযথভাবে যাচাই করে নিয়েছে বলে গন্য করা হবে, এবং ক্রেতার উপর পণ্যের মূল্য পরিশোধ বাধ্যতামুলক। (রেফ-১১, পৃ-৪৫-৪৬)।
.
পুরুষের যৌনতৃপ্তি বিষয়ক এই আইনি পদ্ধতিগুলোর দৃষ্টিতে স্ত্রী-প্রজাতিটির (হোক সে বউ, যৌনদাসী কিংবা যুদ্ধ-বন্দিনী) ভূমিকা একেবারেই নৈর্বøক্তিক। সে একজন চাকরানীর চেয়ে বেশী কিছু নয়, যার একমাত্র কাজ স্বামীকে যৌনতৃপ্তি দেয়া। আপনি হয়তো বলবেন – এরকম হতেই পারে না। ইসলাম চিরদিনই নারীজাতিকে তার যোগ্য সম্মান দিয়ে আসছে। সেই যোগ্য সম্মান কী এবং ইসলামি আইনে আপনার যৌন-সহচরীটির লিগাল ষ্ট্যাটাস কী তার স্বরূপ আরেকটু ভালভাবে জেনে নিন। স্ত্রী সেবিকা, স্বামী সেবা গ্রহনকারী পাত্র’। (প্রাগুক্ত পৃ-৪৭)।
.
বৈবাহিক সম্পর্কিত বিষয়াদিতে স্বামী কতৃক সেবা প্রদানের শর্ত।.......স্বামী যদি একজন স্বাধীন পুরুষ হয় (যদি ক্রীতদাস না হয়), তবে তার নিকট হতে সেবা (সার্ভিস) গ্রহণ করা স্ত্রীর জন্যে অবৈধ, কারণ তা পরস্পরের নির্ধারিত অবস্থানের বরখেলাফ, এই জন্যে যে বিয়ের অন্যতম পুর্বশর্ত হলো স্ত্রী সেবিকা (servant) এবং স্বামী সেবা গ্রহণকারী পাত্র  (person served); কিন্তু যদি এরূপ হয় যে, দেনমোহর বাবদ প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে স্বামী স্ত্রীকে সেবা করে, এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে স্বামী সেবক এবং স্ত্রী সেবা গ্রহণকারী পাত্র, যা বিয়ের মৌলিক শর্তের বরখেলাফ সুতরাং অবৈধ; তবে যদি স্বামী তদ্‌পরিবর্তে অপর কোন স্বাধীন পুরুষ দ্বারা উক্ত সেবা প্রদান করে তবে তা বৈধ বলে বিবেচ্য কারণ তা চুক্তির শর্তের পরিপন্থী নয়; এবং ক্রীতদাস দ্বারা প্রদত্ত সেবাও বৈধ, কারণ ক্রীতদাস কর্তৃক তার স্ত্রীকে প্রদত্ত সেবা প্রকৃতপক্ষে মনিবের সেবা করার নামান্তর এবং মনিবের সম্মতিক্রমেই সে এই সেবা প্রদান করছে; এবং মেষ পালন দ্বারা সেবা প্রদান গ্রহণীয়, কারণ মেষ পালন এমন একটি সার্ভিস যা চিরস্থায়ী প্রকৃতির, সুতরাং স্ত্রীর জন্যে এই সার্ভিস প্রদান করা বিয়ের শর্ত লঙ্ঘন করে না; কারণ দেনমোহর পরিশোধের জন্যে স্বামী কতৃক স্ত্রীকে সেবা করা নিষিদ্ধ যেহেতু তা স্বামীর মর্যাদার পরিপন্থী; কিন্তু মেষ পালন কোন অসম্মানজনক পেশা নয় বিধায় তা স্বামীর মর্যাদার পরিপন্থী নয়। এবার পরিষ্কার হয়েছে তো পাঠক? ইসলামি বিয়ের মর্মবাণী হৃদয়ঙ্গম হয়েছে আপনার? প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দৃষ্টিতে সেক্স হচ্ছে প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্কমাত্র, এ এমন এক সম্পর্ক যার মাধ্যমে একজন পুরুষ দেনমোহরের বিনিময়ে নারীদেহ ক্রয় করে।
.
এর পরেও যদি কেউ আপত্তি তুলেন যে উপরোক্ত শারিয়া আইন বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাদেরকে আমি নিম্ন বর্ণিত হাদিসগুলি পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম করতে হলে পুরুষকে অবশ্যই মোহরানা প্রদান করতে হবে। অমুসলিম দেশগুলিতে প্রচলিত পতিতাবৃত্তি ও নির্বিচার যৌনাচার সম্পর্কে ইসলামপন্থীরা খুবই উচ্চকণ্ঠ। এই হাদিসগুলি সম্পর্কে তারা কী বলবেন? এগুলি পড়লে স্পষ্ট বুঝা যায় যে দেনমোহর আর কিছুই নয়, একটি মেয়ের সাথে যৌনসঙ্গমের বিনিময়মূল্য মাত্র।
.
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২০৭৮ঃউম্মুল মোমেনীন আয়েশা হতে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসুল (দঃ) বলেছেন – কোন মেয়ে যদি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করে, তবে সে বিয়ে বাতিল। তিন বার (এই কথাটি উচ্চারণ করেন তিনি)। যদি তাদের মধ্যে সহবাস হয়ে গিয়ে থাকে, তা’হলে স্বামী যেহেতু মেয়েটির সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়েছে সুতরাং মেয়েটি দেনমোহর পাবে। এক্ষেত্রে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, সুলতান (কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি) হবেন তার অভিভাবক যার কোন অভিভাবক নেই।
.
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২০৪৪ঃ
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে বর্ণিতঃ একজন লোক রাসুলুল্লাহর (দঃ) কাছে আসল এবং বলল – এক ব্যক্তি আমার স্ত্রীর কাছে আসে এবং তাকে স্পর্শ করে, কিন্তু আমার স্ত্রী তাকে বাধা দেয় না। তিনি (নবী) বললেন – তাকে তালাক দাও। সে তখন বলল – আমার অন্তরাত্মা তাকে প্রবলভাবে কামনা করে বলে ভয় করি। তিনি বললেন – তা’হলে তাকে ভোগ কর।
.
সেক্স সম্পর্কে ইসলামের ধারণা কী, উপরোক্ত প্রামাণ্য সূত্রগুলো অধ্যয়ন করলে তার পুর্ণাঙ্গ চিত্র মেলে। সেক্স নর এবং নারী এই উভয় প্রজাতির দৈহিক তৃপ্তির চরমতম উপায়, এই ধারণা ইসলামে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এখানে সেক্সকে শুধুমাত্র পুরুষ জাতির দৃষ্টিভঙ্গী হতে বিচার করা হয়, সেক্স যেন শুধুমাত্র একটি সেবা বা পণ্য। এই সেবা আহরণ করতে কিংবা পণ্যটি (স্ত্রীর যৌনাঙ্গ) হতে ফায়দা লুটতে পুরুষ মেয়েটিকে দেনমোহর প্রদান করে। এ যেন একটি ব্যবসায়িক চুক্তি, যে চুক্তির শর্ত মোতাবেক এককালীন কিছু অর্থমুল্য (মোহরানা) ও পরবর্তীতে প্রদেয় ভরণপোষণের (নাফাক্ক) বিনিময়ে মেয়েটি তার যোনি এবং অন্যান্য প্রজনন যন্ত্র পুরুষটির কাছে বন্ধক রাখে।
.
পবিত্র কোরাণের বিধান মোতাবেক একজন মেয়েকে যে কোন মূল্যে তার পবিত্রতা বজায় রাখতে হয় এবং জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত সব সময় নিজেকে গৃহভ্যন্তরে গুটিয়ে রাখেতে হয়। মেয়েদেরকে গৃহভ্যন্তরে অবরুদ্ধ করে রাখার পেছনে কী কারণ তা কখনও ভেবে দেখেছেন কি? যদি কোন ইসলামপন্থীকে এ ব্যপারে প্রশ্ন করেন সে আপনাকে অনেক চোখা চোখা যুক্তি দেখাবে। বলবে এতে সমাজে ধর্ষণ জাতীয় অপরাধ কমে, যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনা কমে, ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকে না---ইত্যাদি ইত্যাদি।
.
আত্মপক্ষ সমর্থনবাদীদের মনগড়া যুক্তির প্রতি কান না দিয়ে শারিয়া আইন হতে এর আসল কারণটি খুঁজে বার করার চেষ্টা করুন। দেখবেন মেয়েদেরকে গৃহভ্যন্তরে বন্দী করে রাখার পেছনের কারণ একটাই চাহিবামাত্র পুরুষটিকে (স্বামী, মনিব কিংবা বন্দীকর্তা) সেক্স-সার্ভিস প্রদান করা। যদি আপনার বিশ্বাস না হয়,
.
নিচের ইসলামি আইনটি পড়ে দেখুনঃ
মেয়েদের গৃহভ্যন্তরে থাকার একমাত্র কারণ সেক্স (রেফারেন্স-১১, পৃ-৫৪)পক্ষান্তরে, ‘মিহ্‌র মোয়াজিল’ (তরিৎ মোহরানা) সম্পূর্ণভাবে আদায় না করা পর্যøন্ত স্বামীর কোন অধিকার নাই স্ত্রীকে ভ্রমণ হতে বিরত রাখা কিংবা বিদেশ গমন হতে বিরত রাখা কিংবা বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত রাখা; কারণ স্ত্রীর দেহভোগ নিশ্চিত করার জন্যেই স্ত্রীকে গৃহভ্যন্তরে অবরুদ্ধ করে রাখার অধিকার স্বামীকে দেয়া হয়েছে, এবং বিনিময় মূল্য পুরোপুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত ভোগ করার এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।
.
পাঠকদের জন্যে আরও কিছু চমকঃ
.
হাদিস শরীফে বর্ণিত নবীজির শিক্ষা (মিশকাত, আরবী সঙ্কলন; বাব-উন-নিকাহ)ঃ (রেফারেন্স-৬, পৃ-৬৭১)

“স্বামী স্ত্রীকে ডাকলে সে তৎক্ষণাৎ হাজির হবে যদি সে চুল্লীর মধ্যেও থাকে”।
.
সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার ইমাম গাজ্জালি (রঃ) বিখ্যাত ‘ইয়াহ্‌ইয়া উলুমেদ্দিন’ গ্রন্থে লিখেছেন (রেফারেন্স-৭, পৃ-২৩৫)ঃ
.
“স্ত্রীর উচিৎ স্বামীকে তার নিজ সত্ত্বার চেয়েও উপরে স্থান দেয়া, এমনকি তার সকল আত্মীয়স্বজনের উপরে স্থান দেয়া। সে স্বামীর জন্যে নিজকে সদা-সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন (রেডি) করে রাখবে যেন স্বামী যখন ইচ্ছা তাকে ভোগ করতে পারে.............।”
----

এই হলো ইসলামের দৃষ্টিতে সেক্সের নমুনা। পুরুষের যৌনতৃপ্তিই (অরগাজম) এর প্রাথমিক লক্ষ্য। এক্ষেত্রে মেয়েটি একটি যৌন মেশিনের অতিরিক্ত কিছু নয়। মেশিনটি সব সময় রানিং কন্ডিশনে থাকবে যেন তার মালিক ইচ্ছে হলেই মেশিনের উপর সওয়ার হতে পারে। যে জগতে পুরুষের যৌনতৃপ্তি লাভই একমাত্র বিবেচ্য, সেখানে মেয়েদের স্পর্শকাতরতা বা তাদের পছন্দ-অপছন্দের মূল্যায়ন একেবারেই অবান্তর। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু মেয়েদের জন্যে নয়, পুরুষদের জন্যেও চরম অবমাননাকর। এতে পুরুষজাতি সেক্স-ম্যানিয়াক (যৌনোন্মাদ) হিসেবে চিত্রায়িত হয়, যেন সে যখন তখন সঙ্গম করার জন্যে মুখিয়ে আছে। পুরুষের এই কাম চিত্র একেবারেই বাজে।
.
এই প্রথার শেষ পরিণাম কী? অবশ্যই স্ত্রী প্রজাতিটির অবধারিত গর্ভসঞ্চার এবং ইসলামি পুরুষটির বিবেচনাহীন যৌনাচারের প্রায়শ্চিত্ত করা।

স্বামী ভরণপোষণ দিচ্ছে, এমতবস্থায় স্বামী যদি সেক্স করতে চায় এবং স্ত্রীর তাতে সম্মতি না থাকে তা’হলে অবস্থাটা কী ঁ দাঁড়াবে? আপনার হয়তো বিশ্বাস নাও হতে পারে, তবে ইসলামী আইন এমন ক্ষেত্রে স্ত্রীর উপর বলপ্রয়োগের অধিকার দিয়েছে পুরুষকে। একে কি আপনি ‘ইসলামি স্টাইলে ধর্ষণ’ বলবেন না পাঠক?
.
এ সম্পর্কিত একটি হেদাইয়া (রেফারেন্স-১১, পৃ-১৪১)
স্ত্রীকে বলপ্রয়োগে করা যায় যদি না সে একগুয়ে হয়ঃ
যদি স্ত্রী অবাধ্য ও একগুয়ে হয় এবং স্বামীর সম্মতি ব্যতিরেকে বিদেশ ভ্রমণে যায়, এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারায় যে পর্যন্ত না সে ফিরে আসে এবং স্বামীর নিকট নিজকে সমর্পণ করে, কারণ এ ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বাধা স্ত্রীর তরফ হতে উদ্ভুত হয়েছে; তবে যখন সে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে, তখন পুনরায় পুর্বের ন্যায় ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবে সে। যখন কোন স্ত্রী স্বামীগৃহে অবস্থান করেও স্বামীর দাম্পত্য আলিঙ্গন অস্বীকার করে, সে যেহেতু ভরণপোষণ ভোগ করছে এবং স্বামীর অধিকারে আছে, সুতরাং স্ত্রীর অসম্মতি সত্ত্বেও স্বামী ইচ্ছে করলে তাকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারে।
.
এ বিষয়ে আর আলোচনা নয়, একটি ছোট্ট মন্তব্য রেখেই এ চ্যাপ্টার শেষ করব। ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহযোগ্যা একটি মেয়ে পুরুষের (হোক সে স্বামী, অথবা মনিব অথবা বন্দীকর্তা) আনন্দ উপভোগের উপকরণ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু নয়। যৌনজীবন সম্পর্কে মেয়েদের স্পর্শকাতরতা, তাদের চাওয়া, তাদের আকাংখা, তাদের পছন্দ-অপছন্দ, তাদের প্রেম, তাদের ভালবাসা, তাদের অনুভুতি--এ বিষয়গুলি ইসলাম একেবারেই অস্বীকার করে। ইসলামে সেক্সের জগতটি একচ্ছত্রভাবে পুরুষের করায়ত্ত। পুরুষ সৃষ্টি হয়েছে যৌনসুখ উপভোগ করার জন্যে, মেয়েরা সেই আনন্দ যোগান দেয়ার যন্ত্রমাত্র। পাশ্চাত্যের সেকুøলার সমাজগুলিতে মেয়েদের অবাধ যৌন স্বাধীনতার সমালোচনায় মুখর ইসলামী পণ্ডিতবর্গ। তাদের মতে একেবারেই পঁচা-গন্ধা সমাজ এটি। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর কাকে বলে? উপরে বর্ণিত ঐসব আইনসম্মত যৌন কদাচার সম্পর্কে এইসব ইসলামী পণ্ডিতগণ কী বলেন তা শুনতে বড়ো ইচ্ছে হয়।

গর্ভবতীর সাথে সেক্স–
বিয়ের পর যদি দেখা যায় যে নববধুটি গর্ভবতী তা’হলে উপায় কী? অতীব বিব্রতকর একটি অবস্থা। আধুনিক সমাজে এ ধরণের সিচুয়েশন প্রায় হয় না বললেই চলে। কারণ ছেলেমেয়েরা বহুদিন মেলামেশা, পরস্পর পরস্পরের সঙ্গ করার পরই কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে ধারণা করা যায় যে নবীজির আমলে আনকালচার্ড বেদুঈনদের মধ্যে এ ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে হতেও পারে। একজন পূর্ব-গর্ভিনী মেয়ের সাথে সেক্স করার কথা চিন্তাও করা যায় না, এরূপ অবস্থায় অধিকাংশ লোকই হয়তো বিয়েটি বাতিল করে পারস্পরিক গ্রহনযোগ্য সমাধানে পৌছতে চেষ্টা করবে। তবে ইসলামী দর্শন মোতাবেক এর সমাধান ভিন্নতর। যেহেতু লোকটি অলরেডি মোহরানার টাকা পরিশোধ করে ফেলেছে (কিংবা পরবর্তীতে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে), সুতরাং মেয়েটির যৌনাঙ্গ তার জন্যে হালাল হয়ে গেছে, কিংবা বলা যায় গর্ভবতীর দেহটি ভোগ করা তার উপর ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোগপর্বের পর মেয়েটির কপালে কী ঘটবে? প্রাক-বৈবাহিক যৌনকর্মের শাস্তিবাবদ তার জন্যে জমা আছে এক শ’টি ইসলামিক দোররা। ভাবুন তো একবার, একটু আগে যার সাথে আপনি জীবনের শ্রেষ্ঠতম সুখের মুহুর্তগুলি কাটালেন, তার কুসুম-কোমল পৃষ্ঠদেশ চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত হচ্ছে! নতুন আগন্তুকটির জন্যেই বা কোন্‌ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে? নির্দোষ একটি শিশু, সে হয়ে যাবে আপনার ্লেভ, ক্রীতদাস! হঁ্যা, এই হচ্ছে ইসলামি বিচার। সহজ এবং সরল। এই প্রথার সমর্থনে দু’টি হাদিস-:

সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২১২৬ঃ
বাসরা হতে বর্ণিতঃ
বাসরা নামক জনৈক আনসার বলেনঃ আমি বোরখাধারী একজন কুমারীকে বিয়ে করি। তার সাথে মিলিত হওয়ার পর আমি দেখতে পাই যে মেয়েটি গর্ভবতী। (বিষয়টি নবীকে জানানোর পর) নবী (দঃ) বললেন – যেহেতেু তুমি তার যোনিদেশ তোমার জন্যে হালাল করে নিয়েছ, সুতরাং সে (নির্ধারিত) মোহরানা পাওয়ার অধিকারী। শিশুটি হবে তোমার ক্রীতদাস। (বাচ্চা) প্রসব করার পর তাকে দোররা মার। (আল হাসানের ভার্সন)।
.
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২১৫৩ঃ
রুয়াইফি ইবনে তাবিত আল আনসারি হতে বর্ণিতঃ
হুনায়েনের দিন আল্লাহর রাসুলের (দঃ) মুখ থেকে আমি কি শুনেছি তা তোমাদের বলব কি? (তিনি বলেছেন) যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর বিশ্বাস করে তার উপর বৈধ নয় জল সিঞ্চন করা সেখানে যেখানে অন্য লোক (পূর্বেই) জল সিঞ্চন করেছে (অর্থাৎ গর্ভিনীর সাথে সঙ্গম); যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে তার উপর বৈধ নয় বন্টনের পুর্বেই যুদ্ধলব্ধ মাল বিক্রয় করা।
.
ঋতুমতি মেয়েদের সাথে রতিক্রিয়ার বিধান আছে কি?
বিবি আয়েশার ঋতুকালীন অবস্থায় মহম্মদ (দঃ) তার সংগে কী আচরণ করেছেন নিম্নে হাদিসগুলি হতে সে বিবরণ পাওয় যায়।
.
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১, হাদিস নং-০২৭০ঃ
উম্মুল মোমেনিন আয়েশা হতে বর্ণিতঃ
উমারাহ ইবনে ঘোরাব বলেন যে তিনি তার খুড়ির (paternal aunt) নিকট শুনেছেন যে তিনি (খুড়ি) আয়েশাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – যদি আমাদের মধ্যে কেউ ঋতুস্রাব অবস্থায় থাকে এবং স্বামী-স্ত্রীর একটার বেশী বেড না থাকে, সে অবস্থায় তারা কী করবে? উত্তরে তিনি (আয়েশা) বলেছিলেন – এই অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (দঃ) কী করেছেন আমি তোমাকে তা বলছি। আমার ঋতুকালীন সময়ে এক রাত্রে তিনি আমার ঘরে আসলেন। তিনি নামাজের জায়গায় গেলেন, অর্থাৎ সেই ঘরে নামাজের জন্যে সংরক্ষিত যে জায়গা ছিল সেই জায়গায়। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন; ঠান্ডায় তিনি ব্যথা বোধ করছিলেন। এবং তিনি বললেন – আমার কাছে আস। আমি বললাম – আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। তিনি বললেন – তোমার উরুদ্বয় উন্মুক্ত কর। সুতরাং আমি আমার উরুদ্বয় আবরণমুক্ত করলে তিনি তখন তার চিবুক ও বক্ষ তার মাঝে রাখলেন। আমি তার উপর ঝুকে বসে রইলাম যে পর্যøন্ত না তিনি উষ্ণ হলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন।
----
উপরের কাহিনীটির অনেক ধরণের ব্যখ্যা সম্ভব। নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে বলতে হয় যে ঘটনাটি বরং মহম্মদের (দঃ) মহত্বই প্রতিষ্ঠিত করে। কারণ অন্ততপক্ষে তিনি স্ত্রীলোকের ঋতুস্রাবকে কোন রোগ বলে বিধান দেননি, উপরন্তু ঋতুকালেও আয়েশার সাথে প্রীতি ও ভালবাসাযুক্ত আচরণ করেছেন। প্রাণবন্ত একজন তরুণী আয়েশা, তার ঋতুকালীন অবস্থায় মোহম্মদের (দঃ) এই আচরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

এস্থলে সহি বুখারি থেকে আরও একটি হাদিস উদ্ধৃত করা হলো যা থেকে প্রমাণিত হয় যে মহম্মদ (দঃ) তার প্রিয় স্ত্রী আয়েশার সাথে ঋতুকালেও অত্যন্ত প্রীতিময় আচরণ করতেন। মোহম্মদ আয়েশাকে তার ঋতুকালেও আলিঙ্গন করতেন.........৩.৩৩.২৪৭।

সহি বুখারিঃ ভলিউম-৩, হাদিস নং-২৪৭ঃ
আয়েশা হতে বর্ণিতঃআমার ঋতুকালেও নবী আমাকে আলিঙ্গন করতেন। তিনি যখন ইতিকাফে বসতেন, তখনও তিনি মসজিদ হতে মাথা বাড়িয়ে দিতেন। আমি ঋতুমতী অবস্থায়ই তার মাথা ধুইয়ে দিতাম।
------
এখন প্রশ্ন, ঋতুমতী অবস্থায় স্ত্রী কতটুকু পর্যন্ত হালাল? নীম্নের হাদিসটি হতে এর ইসলামি সমাধান জেনে নিন।
সুনান আবু দাউ দঃ বুক নং-১, হাদিস নং-০২১২ঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ আল আনসারি হতে বর্ণিতঃ
আব্দুল্লাহ আল্লাহর রাসুলকে (দঃ) প্রশ্ন করলেন – যখন আমার স্ত্রী হায়েজ অবস্থায়, তার সাথে কতটুকু পর্যন্ত বৈধ? তিনি উত্তর দিলেন – তার কোমর বন্ধনীর উপরের অংশ তোমার জন্যে হালাল।
.
উক্ত বর্ণনাকারীর পুর্ণাঙ্গ বর্ণনা হতে জানা যায় যে ঋতুকালীন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে এক সঙ্গে খাওয়া –দাওয়া করাও বৈধ।

যদি কেউ দৈবক্রমে ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেই ফেলে, সে ক্ষেত্রেও ডিভাইন সলিউশন রেডি হয়ে আছে।
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২১৬৪ঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিতঃ
রক্ত যাওয়ার সময় যদি কেউ (ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে) সঙ্গম করে ফেলে, তবে তাকে সদকা বাবদ এক দিনার দান করতে হবে। যদি রক্ত বন্ধ হওয়ার পর পরই সে এ কাজ করে, তবে তাকে দিতে হবে অর্ধেক দিনার।
.
সুনান আবু দাউদের ১নং ভলিউমের ০২৬৪নং হাদিসেও ঋতুকালীন সঙ্গমের কাফফারা হিসেবে এই একই বিধান দেয়া আছে।
-------
যদি ঋতুস্রাব অত্যন্ত বেশী হয়, সেক্ষেত্রেও চমৎকার বিধান আছে ইসলামে। সাইয়েদেনা আলী এবং মহম্মদ (দঃ) উক্ত সমস্যার যে প্রতিধিানের কথা বলেছেন, আবু দাউদ ও মুসলিম শরীফের হাদিসে তার তথ্যভিত্তিক বর্ণনা রয়েছে। এই অত্যন্ত সহজ ইসলামি বিধান ফলো না করে আজকালকার মেয়েরা কেন যে গাইনকোলজিষ্টের চেম্বারে ছুটে মরে ভেবে দেখা দরকার।

সুনান আবু দাউদঃ বুক-১, হাদিস-০৩০২ঃ
আলী ইবনে আবি তালেব হতে বর্ণিতঃ যদি কোন স্ত্রীলোকের দীর্ঘ সময়ব্যপী রক্ত যায়, তার উচিৎ প্রতিদিন নিজেকে পরিস্কার করা এবং অতঃপর চর্বি অথবা তেল মিশ্রিত উলের কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করা (অর্থাৎ উক্ত কাপড় দিয়ে যৌনাঙ্গটি বেঁধে রাখা)।সহি মুসলিমঃ বুক-৩, হাদিস-০৬৪৭ এবং সহি মুসলিম বুক-৩, হাদিস-০৬৫৮ঃ
.
উম্মুল মোমেনিন আয়েশার বরাত দিয়ে এই হাদিসদ্বয়। ঋতুকালে কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হয়, কীভাবে রক্তের দাগ মুছতে হয়, কীভাবে মোমের প্রলেপ দেয়া বস্ত্রখণ্ড বাঁধতে হয়, কতদিন নামাজ-কালাম বন্ধ রাখতে হয় এসবের বিস্তারিত বর্ণনা আছে এই হাদিস দু’টিতে।
.
সঙ্গমের পুর্বে যৌনসঙ্গীর সাথে কামকেলি করা বা শৃঙ্গারে রত হওয়া মানব প্রজাতির একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি (এমনকি চতুষ্পদ জন্তুরাও সঙ্গমের পূর্বে কিছুক্ষণ শৃঙ্গার করে)। এটি খুবই আনন্দের বিষয় যে মহম্মদও (দঃ) তার অনুসারীদের সঙ্গমের পুর্বে কিছুক্ষণ শৃঙ্গার করার জন্যে অনুপ্রাণিত করেছেন। কোন প্রকার শৃঙ্গার ছাড়া পশুর মতো সরাসরি স্ত্রীলোকের উপর ঝাপিয়ে পড়ার জন্যে তিনি অনুসারীদের তিরস্কার করেছেন। মহম্মদ (দঃ) এ ব্যাপারে যে সব সুপারিশ করে গেছেন, তার কিছু নমুনা পাওয়া যায় ইমাম গাজ্জালির রচনায় (রেফ-৭, পৃ-২৩৩)।
.
‘পরস্পরের কাছে যাওয়ার আগে তাদের কিছুক্ষণ শৃঙ্গার করে নেয়া উচিৎ; দু’চারটি প্রীতিপ্রদ বাক্য বিনিময়, একটু চুমো দেয়া। নবী বলেছেন – “পশুরা যেভাবে একে অন্যের উপরে লাফিয়ে পড়ে, স্ত্রীদের উপর তোমরা কেউ সেভাবে ঝাপিয়ে পড়ো না। বরং (তার আগে) তাদের মধ্যে একজন বার্তাবাহক (শপঢ়ঢ়পষবপড়) আসতে দাও”। তারা জিজ্ঞেস করল – “হে আল্লাহর রাসুল, এই বার্তাবাহকটি কে”। তিনি বললেন – “চুম্বন এবং প্রীতিময় বাক্য বিনিময়”। অতঃপর যদি তার আগে শেষ হয়ে যায়, তার উচিৎ অপেক্ষা করা যে পর্যন্ত না তার স্ত্রীর শেষ হয়’।
.
এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে মহম্মদ (দঃ) সঙ্গমের পুর্বে শৃঙ্গারের বিধান দিয়েছেন এবং পরস্পরের তৃপ্তিদায়ক যৌনকর্মের পক্ষে সুপারিশ করেছেন।
.
উপবাসের (রোজা) সময় চুমো দেয়া এবং পরস্পরের জিহ্বা লেহন করা

সুনান আবু দাউদ, বুক নং-১৩, হাদিস নং-২৩৮০ঃ
বিবি আয়েশার নিকট হতে আমরা জানতে পারি যে উপবাসরত অবস্থায়ও নবী তাকে চুমো দিতেন এবং জিহ্বা লেহন করতেন।
.
বিবাহ; সেক্স ম্যানিয়াকদের জন্যে আশীর্বাদঃ
যদি কোন স্বামী মৌখিকভাবে তিনবার তালাক শব্দটি উচ্চারণ করে, তবে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী স্ত্রীর উপর অফেরতযোগ্য তালাক (তালাকে বাইন) পতিত হয়। স্ত্রী তখন ঐ স্বামীর জন্যে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ বা হারাম হয়ে যায়। সে উক্ত স্ত্রীকে পুনর্বিবাহ করতে পারবে না যতক্ষন না স্ত্রী অপর কোন ব্যক্তিকে বিয়ে করে, তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করে, অতঃপর উক্ত টেম্পোরারী স্বামী তাকে তালাক দেয়। দ্বিতীয় তালাকের পর স্ত্রী তার ইদ্দতকাল (তিনটি স্রাব, প্রায় তিন মাস) শেষ করলে তবেই কেবল প্রথম স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারে। এই লজ্জাজনক প্রথার পক্ষে ইসলামপন্থীরা এই বলে সাফাই গায় যে, এটা নাকি স্বামীদের জন্যে সতর্কবার্তা, এর ফলে তালাকে বাইন উচ্চারণ করার পুর্বে স্বামীকে এক শ’ বার ভাবতে হবে। ইসলামি পরিভাষায় এই ধরণের বিবাহকে হিলা বিবাহ বলা হয়; পবিত্র কোরাণের ২ঃ২৩০ আয়াতে (সুরা বাকারা) এই প্রকারের বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
০০২-২৩০ঃ অনন্তর যদি সে তালাক প্রদান করে তবে এর পরে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহিতা না হওয়া পর্যন্ত সে তার জন্য বৈধ হবে না, তৎপর সে তাকে তালাক প্রদান করলে যদি উভয়ে মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমাসমূহ স্থির রাখতে পারবে, তখন যদি তারা পরস্পর প্রত্যাবর্তিত হয় তবে উভয়ের পক্ষে কোনই দোষ নেই এবং এগুলিই আল্লাহর সীমাসমূহ, তিনি অভিজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্যে এগুলি ব্যক্ত করে থাকেন।
.
এই উদ্ভট নিয়ম সমাজের কিছু চতুর লোকের সামনে প্রায় বিনে পয়সায় অবাধ সেক্স উপভোগ করার দ্বার অবারিত করে দিয়েছে। কোন কারণে একটি মেয়ে তালাকপ্রাপ্তা হলো। বাস্‌, মধুর ভাণ্ড যেন উপচে পড়লো। তাকে টেম্পোরারীভাবে বিয়ে করার জন্যে তথাকথিত সম্ভ্রান্ত এবং ভাল লোকের অভাব নেই সমাজে। বিয়ের নামে মেয়েটিকে দু’চার রাত উপভোগ করার পর তালাক দিলে তবেই কেবল সে তার পূর্বস্বামীর সঙ্গে ঘর করার লাইসেন্স পাবে, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিয়ের প্রহসন। সুতরাং সেক্স ম্যানিয়াকদের পোয়া বারো, প্রফেশনাল স্বামীর অভিনয় করে মুফতে একটি নারীদেহ ভোগ করা গেল। এই হলো ফ্রি সেক্স করার ইসলামি পথ। ফ্রি বললাম এই কারণে যে এসব বিয়ের বলি মেয়েটি প্রায়শই অসহায়া হয়ে তাকে এবং বিয়েটি হয় খুবই স্বল্প সময়ের জন্যে। সুতারং এ রূপ বিয়ের দেনমোহরের পরিমান দু’ চার শ’ টাকার বেশী হওয়ার কথা নয়। কয়েকটিমাত্র পবিত্র বাক্য উচ্চারণ আর সামান্য কিছু অর্থ, বাস তরতাজা একটি নারীদেহ।
.
এখানে আরেকটি ব্যাপার ভালভাবে পরিষ্কার হওয়া দরকার। কেউ আবার ভেবে বসতে পারেন যে হিলা শুধু নামকা ওয়াস্তে একটি বিয়ে। বিয়েটি নামকা ওয়াস্তে ঠিকই, তবে টেম্পোরারী স্বামীটি যতোক্ষণ না নববধুর সাথে যৌনসঙ্গম করছে, ততক্ষণ পর্যøন্ত মেয়েটি তার পূর্ব স্বামীর জন্যে হালাল হবে না। একেই বলে মধু খাওয়া, যৌনসঙ্গমের মধু। হিলার মাধ্যমে মজা লুটাকে বৈধতা দানকারী গোটা কয়েক হাদিস এখানে উদ্ধৃত করা হলো।

সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১২, হাদিস নং-২৩০২ঃ
উম্মুল মোমেনিন আয়েশা হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসুলকে (দঃ) একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, অতঃপর মেয়েটি অপর একজনকে বিয়ে করলো, কিন্তু সে মেয়েটির সাথে যৌনসঙ্গম না করেই তাকে তালাক দিল। এখন পূবর্ স্বামীকতৃক মেয়েটিকে বিয়ে করা বৈধ হবে কিনা। তিনি (আয়েশা) বলেন – নবী (দঃ) উত্তরে বলেছিলেন – যে পর্যন্ত মেয়েটি অপর স্বামীর মধু আস্বাদন না করে এবং অপর স্বামী মেয়েটির মধু আস্বাদন না করে, সে পর্যন্ত সে পূর্ব স্বামীর জন্য বৈধ নয়।
.
সহি মুসলিমঃ বুক নং-০০৮, হাদিস নং-৩৩৫৪ঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিতঃ
আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন – একবার রিফায়া’র স্ত্রী আল্লাহর রাসুলের (দঃ) কাছে এসে বলল – আমার রিফায়া’র সাথে বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু সে আমাকে অফেরতযোগ্য তালাক (তালাকে বাইন) প্রদান করে। অতঃপর আমি আব্দুর রহমান বিন আল-জুবেইরকে বিয়ে করি, কিন্তু তার কাছে যা আছে তা পোশাকের উপর চকচকে নকশা ছাড়া আর কিছু নয় (অর্থাৎ যৌনকর্মে অসমর্থ)। এ কথা শুনার পর আল্লাহর রাসুল (দঃ) একটু হেসে বললেন – তুমি কি আবার রিফায়া’র কাছে ফিরে যেতে চাও। তবে যে পর্যন্ত তুমি তার মিষ্টত্ব এবং সে (আব্দুর রহমান) তোমার মিষ্টত্ব আস্বাদন না করেছে, সে পর্যন্ত তুমি (করতে) তা পার না। সেই সময় আবু বকর তার (নবীর) কাছে ছিলেন এবং দরজায় ছিলেন খালিদ (বিন সাআদ) ভেতরে ঢোকার অনুমতি প্রাপ্তির অপেক্ষায়। তিনি (খালিদ) বললেন – আবু বকর, মেয়েলোকটি নবীর সামনে উচ্চস্বরে কীসব বলছিল তা কি তুমি শুনেছ?
.
সহি মুসলিমঃ বুক নং-০০৮, হাদিস নং-৩৩৫৭ঃ
আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহকে (দঃ) একজন স্ত্রীলোকের বিষয় জিজ্ঞেস করা হয় এক ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। অতঃপর লোকটি তাকে তালাক দেয় এবং সে (স্ত্রীলোকটি) অপর এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে, যে তার সাথে যৌনসঙ্গম না করেই পুনরায় তাকে তালাক দেয়। এই অবস্থায় প্রথম স্বামীর সাথে (বিবাহ বন্ধনে) আবদ্ধ হওয়া কি তার জন্যে বৈধ। তিনি (নবী) বললেন –- না, যে পর্যন্ত সে (দ্বিতীয় স্বামী) মেয়েটির মিষ্টত্ব আস্বাদন না করে।
.
মালিক মোয়াত্তাঃ বুক নং-২৮, নাম্বার-২৮.৭.১৭ঃ
.....নবীর জীবিতাবস্থায় রিফআ’ ইবনে শিমওয়াল তার স্ত্রী তামিমা বিনতে ওয়াহাবকে তিন তালাক দেয়। সে তখন আব্দুর রহমান ইবনে আজ-জুবায়েরকে বিয়ে করে। এবং সে (আব্দুর রহমান) বিয়ে পূর্ণাঙ্গ না করেই তাকে পরিত্যাগ করে। রিফাআ তাকে (তামিমাকে) আবার বিয়ে করতে চাইলে বিষয়টি নবীর (দঃ) কাছে উত্থাপিত হয়। তিনি (নবী) তাকে বিয়ে করতে নিষেধ করেন এবং বলেন – “যে পর্যন্ত সে (তামিমা) যৌনসঙ্গমের মিষ্টত্ব আস্বাদন না করে, সে পর্যন্ত সে তোমার জন্যে হালাল নয়”।
.
প্রস্রাব/ যৌনসঙ্গম করার পর ফরজ গোসল কি বাধ্যতামুলকঃ
পুর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা জেনেছি যৌনসঙ্গম কিংবা পেশাব করার পর গোসল করা ফরজ (বাধ্যতামুলক)। তবে পরবর্তী হাদিস দু’টি পড়লে পাঠক চরমভাবে বিভ্রান্তিতে পড়বেন, কারণ এমনকি নবী করিম নিজেও সঙ্গমের পর গোসল না করেই নির্বিবাদে নিদ্রা যেতেন।
.
সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১, হাদিস নং-০০৪২ঃ
উম্মুল মোমেনীন আয়েশা হতে বর্ণিতঃ
নবী (দঃ) প্রশ্রাব করছিলেন এবং উমর তার পিছে জলপাত্র হাতে দাড়িয়েছিলেন। তিনি বললেন – এটা কী উমর? উত্তরে তিনি (উমর) বললেন – আপনার জন্য পানি, এদিয়ে আপনি অজু করে নিবেন। তিনি বললেন – প্রতিবার পেশাব করার পর অজু করতে হবে এমন আদেশ আমি পাই নি। যদি আমি তা করি, তবে তা সুন্না বলে পরিগণিত হবে।

সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১, হাদিস নং-০২২৮:
উম্মুল মোমেনীন আয়েশা হতে বর্ণিতঃ রাসুলুল্লাহ (দঃ) যৌনসঙ্গমের পর পানি স্পর্শ না করে নাপাক অবস্থায়ই নিদ্রা যেতেন।
চলবে....


No comments:

Post a comment