বেদের উৎপত্তি - VedasBD.com

Breaking

Monday, 5 November 2018

বেদের উৎপত্তি


আজকের বর্তমান যুগ হলো জ্ঞান বিজ্ঞান এর যুগ। এই সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সংসার ঈশ্বরের সৃষ্টি। এই সংসারের রচনা কোনো একদেশী সত্তা দ্বারা হয়েছে এটা কখনোই সম্ভব নয়। বেদ হলো জ্ঞান বিজ্ঞানের সাগর। বেদের এক একটা অক্ষর সত্য। বেদ পূর্ণ সত্য গ্ৰন্থ এবং ঈশ্বরীয় জ্ঞান কেননা কোনো মানুষের এতটাও ক্ষমতা নেই যে, এই সংসারের সমস্ত সত্য বিদ্যার একটা গ্ৰন্থ তৈরী করতে পারে। বেদে যেভাবে ঈশ্বর এবং সৃষ্টির রহস্যের বর্ণনা আছে তা অন্য কোনো মত বা সম্প্রদায়ের গ্ৰন্থে নেই। সুতরাং বেদ অপৌরুষেয় গ্ৰন্থ।সর্ব মান্য তথ্য এটাই যে চার বেদ হলো সংসারের সর্ব প্রাচীন ধর্ম গ্ৰন্থ। বেদের পাঠ, এবং বেদের অনুকূলে জীবনযাপন করাই হচ্ছে বৈদিক ধর্ম। বেদের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা রেখে, বেদের অনুকূলে জীবন যাপন করলেই মানব জীবন সার্থক হবে।
কেনোপনিষদ(২.৫) এ বলা হয়েছে➔ ইহ চেদবেদীদথ সত্যমস্তি ন চেহিদাবেদীন্মহতী বিনষ্টিঃ।
অর্থাৎ এই মানব শরীরে যদি পরমতত্ত্বের বোধ এসে যায় তবে মানব-শরীর সার্থক হবে অন্যথায় মেনে নিতে হবে মহা বিনাশ বা সর্বনাশ হয়ে গেছে।

ঋকবেদ (১.১৬৪.৪৫) অনুসারে বেদ পরমেশ্বর থেকে উৎপন্ন এবং অনাদি নিত্য অপৌরুষেয়। মহা পন্ডিত সায়ণাচার্য তাঁহার বেদের ভাষ্যের প্রারম্ভে বলেছেন➡
“যস্য নিঃশ্বাসিতং বেদা যো বেদেভ্যোহখিলং জগৎ।
নির্মমে তমহং বন্দে বিদ্যাতীর্থ-মহেশ্বরম্।।

অর্থাৎ যে চারিবেদ হইতে নিখিল বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে, সেই বেদ-চতুষ্টয় যাহার নিঃশ্বাস-স্বরূপ এবং যিনি সববিদ্যার আধার সেই মহেশ্বরকে আমি বন্দনা করি।

বেদের প্রাদুর্ভাব  
বেদের প্রাদুর্ভাব কিভাবে হয়েছিল তার প্রমাণ বেদেই আছে। যেমন
১. তস্মাদ্দ্যজ্ঞাত্সর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।
ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্দ্যজুস্তস্মাদজায়ত।।(যজুর্বেদ ৩১.৭)
ভাবার্থ ➨ হে মনুষ্য! যেই পরমাত্মা থেকে ঋকবেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে সেই পরমাত্মার উপাসনা করো।

২. য়স্মাদৃচো অপাতক্ষন্ যজুর্য়স্মাদপকশন।
সামানি য়স্য লোমানী অথর্বাগিরসো মুখং।
স্কম্ভং তং ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।(অথর্ববেদ ১০.৭.২০)
শব্দার্থ ➠ (য়স্মাত্) যার থেকে (ঋচঃ) ঋচাগুলো-বিজ্ঞান প্রতিপাদক মন্ত্র (অপাতক্ষণ) বলা হয়েছে,(য়স্মাত)যার থেকে (য়জুঃ) যজুর্মন্ত্র- কর্ম প্রতিপাদক মন্ত্র (অপাকষন) নির্মিত হয়েছে। (সামানি) সামমন্ত্র- উপাসনা প্রতিপাদক মন্ত্র (য়স্য)যার (লোমানি) লোমতুল্য তথা (অথর্ব-অঙ্গিরসঃ) অঙ্গিরা ঋষির হৃদয়ে প্রেরিত অথর্ববেদের মন্ত্র (মুখম্) যার মুখের তুল্য।(তম্) সেই (স্কম্ভম্) সর্বাধার প্রভুর স্তবন করো।
.
ভাবার্থ ➨ যিনি সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর, তাঁর থেকেই (ঋচঃ) ঋকবেদ (য়জুঃ) যজুর্বেদ (সামানি) সামবেদ (অঙ্গিরসঃ) অথর্ববেদ,এই চারটি উৎপন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রুপক এর মাধ্যমে বেদের উৎপত্তি ঈশ্বর করেছেন, অথর্ববেদ আমার মুখের সমতুল্য, সামবেদ লোমের সমান, যজুর্বেদ হৃদয়ের সমান এবং ঋকবেদ প্রাণের সমান।(ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ) চারবেদ যার থেকে উৎপন্ন হয়েছে তিনিই সমস্ত জগতের ধারণকর্তা পরমেশ্বর তার নাম স্কম্ভ, তাঁকেই তুমি বেদের কর্তা বলে জানিও।

৩. বৃহস্পতে প্রথমং বাচো অগ্ৰং য়ত্প্রৈরত নামধেয়ং দধানাঃ।
য়দেষাং শ্রেষ্ঠং য়দরিপ্রমাসীত্প্রেণা তদেষাং নিহিতং গুহাবিঃ।।(ঋকবেদ ১০.৭১.১)
শব্দার্থ ➠ বৃহস্পতে=সেই জ্ঞানের স্বামীর প্রথমম্= অত্যন্ত বিস্তারিত বাচঃ অগ্ৰম্=বাণীর অগ্ৰস্থানে স্থিত এই বেদজ্ঞান।নামধেয়ং দধানাঃ=প্রভুর নাম হৃদয়ে ধারণ করে অনান্য ঋষিগণ এবং বিচারশীল ব্যাক্তিরা য়ত্=সেই বেদজ্ঞান প্রৈরত= নিজের মধ্যে প্রেরণ করলেন। এষাম্=সৃষ্টির প্রারম্ভে উৎপন্ন সেই সমস্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে য়ত্=যে শ্রেষ্ঠম= সর্বোত্তম ছিল য়ত=যে অরিশম্=একেবারে নির্দোষ ছিল,যার বুদ্ধি এবং মন সর্বাধিক পবিত্র আসীত্=ছিল তত্=সেই এষাম্=শ্রেষ্ঠ গুহা=হৃদয়রুপ গুহায় প্রেণা=প্রভুর প্রেমের জন্য নিহিতম্=এই বেদ জ্ঞান স্থাপিত হয়েছে এবং আবিঃ=প্রকট হয়েছে।

ভাবার্থ ➨ প্রভুর দেওয়া বেদবাণী এই সৃষ্টির প্রারম্ভিক শব্দ ছিল। সর্বশ্রেষ্ঠ হৃদয়ে এই বেদবাণীর প্রকাশ ঘটেছিল এবং তাদের দ্বারা বিস্তার হয়েছিল।
বেদ বাণী অনাদি অনন্ত এবং সনাতন। বেদ কে ঈশ্বরীয় জ্ঞান রুপে ঋষি মহর্ষিরা নিজেদের অন্তরে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তারপর প্রকট করেছেন।
“ঋষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টারো ন তু বেদস্য কর্তারঃ।
ন কশ্চিদ্বেদ কর্ত্তা চ বেদস্মর্তা চতুর্ভুজঃ।।
যুগান্তেহন্তর্হিতান্ বেদান্ সেতিহাসান্মহর্ষয়ঃ।
লেভিরে তপসা পূর্বমনুজ্ঞাতাঃ স্বয়ম্ভূবা।।
                                 — মহাভারত শান্তিপর্ব ২১০.১৯
ঋষিরা বেদ মন্ত্র দ্রষ্টা।
কয়েকজন মন্ত্র দ্রষ্টা ঋষি হলেন- গৃত্সমদ, বিশ্বামিত্র,বামদেব,অত্রি,বশিষ্ঠ তথা ভরদ্বাজ এবং অন্যান্য। কিছু মহিলা ঋষি হলেন ঘোষা, লোপামুদ্রা,অপালা,বিশ্ববারা, এবং অন্যান্য। বেদ অনন্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনাদি ও বটে এই জন্য বলা হয় ঈশ্বরীয় জ্ঞান হওয়ার জন্য বেদ কখনোই বিনাশ হয় না, কেননা নিত্য অনাদি পরমেশ্বর এর জ্ঞান কখনো নাশ হয়না। আরোও জানার জন্য পূর্ববর্তী পোস্ট পড়ুন।

⏩ চার বেদ  ➤
ঋকবেদে স্তুতি, যজুর্বেদে যজ্ঞ, সামবেদের সঙ্গীত এবং অথর্ববেদে আয়ুর্বেদ, অর্থশাস্ত্র, রাষ্ট্রীয় সংগঠন তথা দেশপ্রেমের ভাবনা জাগে। এই চার বেদের আবার চার উপবেদ আছে- ঋকবেদের উপবেদ স্থাপত্যবেদ, যজুর্বেদ এর ধর্নুবেদ,সামবেদের গান্ধর্ববেদ এবং অথর্ববেদের উপবেদ হলো আয়ুর্বেদ।বেদে কর্মকাণ্ড, উপাসনা কাণ্ড, এবং জ্ঞানকাণ্ড বিশেষ রুপে হওয়ায় ইহাকে 'বেদত্রয়ী' বা 'ত্রয়ীবিদ্যা' বলা হয়।
গর্ভাধান থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ১৬টি সংস্কারের কথাও বেদে বলা হয়েছে। গুরুর কাছ থেকে শুনে শুনে মনে রাখতে হতো তাই এর নাম শ্রুতি। শ্রুতি অর্থাৎ শ্রবণ করা জ্ঞান।

⏩ বেদের গাঠনিক বিভাজন  ➤
সংহিতা , ব্রাহ্মণ , আরণ্যক ও উপনিষদ - (১) সংহিতা- এতে বেদ মন্ত্র আছে (২) ব্রাহ্মণ- এতে যজ্ঞ-অনুষ্ঠানের পদ্ধতি এবং ফলপ্রাপ্তির বর্ণনা আছে (৩) আরণ্যক- বানপ্রস্থ আশ্রমে ইহার অধ্যায়ন করে মানুষকে সাংসারিক বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার বিধান রয়েছে (৪) উপনিষদ- আধাত্ম চিন্তনের প্রধানতা রয়েছে।
বেদের বিষয় মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিক্ষণ কখন কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়, সকালে ওঠার পর থেকে রাত্রিতে শয়নের পর্যন্ত সমস্ত ক্রিয়া-কলাপ বিধান বেদে বর্ণিত আছে। মনিষীরা বেদকে অক্ষয় জ্ঞানের ভান্ডার বলেছেন। সৃষ্টি রচনার মতো গুঢ় রহস্য আমরা বেদের নাসদীয়সুক্তে দেখতে পাই। কর্মফলের প্রাপ্তির জন্য পূনর্জন্মের প্রতিপাদন, আত্মোপলব্ধির জন্য সংস্কারের ব্যবস্থা, সমুচিত জীবন যাপনের জন্য বর্ণাশ্রম এর ব্যবস্থা এবং জীবনের পবিত্রতার জন্য কি খাওয়া উচিত কি খাওয়া উচিত নয় সমস্তকিছু বেদে বর্ণিত হয়েছে।

⏩ বেদে ঈশ্বরের স্বরুপ  ➤
1. সূর্য়াচন্দ্রমসৌ ধাতা য়থাপূর্বমকল্পয়ত্।
দিবং চ পৃথিবীং চান্তরিক্ষমথো স্বঃ।।(ঋকবেদ ১০.১৯০.৩)

ভাবার্থ ➨ বিধাতা অর্থাৎ ঈশ্বর সূর্য,চন্দ্র, পৃথিবী, অন্তরীক্ষ এবং অন্য সমস্তলোককে পূর্বের ন্যায় সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ ঈশ্বর কল্প কল্পান্তরে এভাবেই সৃষ্টির রচনা করেন। ঈশ্বর অনাদি এবং অনন্ত। 

2. য়ঃ পৃথিবীং ব্যথমানামদ্দ্ংহদ্য়ঃ পর্বতান্প্রকুপিতাঁ অরম্ণাত্। য়ো অন্তরিক্ষং বিমমে বরীয়ো য়ো দ্দামস্তভ্নাত্স জনাস ইন্দ্রঃ।।(ঋকবেদ ২.১২.২)

শব্দার্থ ➠ হে (জনাসঃ) বিদ্বানগণ! (য়ঃ) যিনি (ব্যথমানাম) ঘূর্ণায়মান (পৃথিবীম্) পৃথিবীকে (অদৃংহত্) ধারণ করে আছেন (য়ঃ) যিনি (প্রকুপিতান্) অত্যন্ত কোপযুক্ত শত্রুদের সমান বর্তমান (পর্বতান) মেঘকে (অরম্ণাত্) ছিন্ন ভিন্ন করেন (য়ঃ) যিনি (বরীয়ঃ) অত্যন্ত বিস্তারিত (অন্তরিক্ষম্) অন্তরীক্ষের (বিমমে) বিশেষতা অনুমান করেন (য়ঃ) যিনি (দ্দাম্) প্রকাশকে (অস্তভ্নাত্) ধারন করেন (সঃ) তিনি (ইন্দ্রঃ) ঐশ্বর্যশালী।

3. 
ত্রাতা নো বধি দদৃশান আপিরভিখ্যাতা মর্ডিতা সোম্যানাম্। সখা পিতা পিতৃতমঃ পিতৃণাং কর্তেমু লোকমুশতে বয়োধাঃ।।(ঋকবেদ ৪.১৭.১৭)
শব্দার্থ ➠ (নঃ) আমাদের বা আমাদেরকে (ত্রাতা) রক্ষাকারী (দদৃশানঃ) উত্তম প্রকার দর্শনকারী (আপিঃ) ব্যপ্ত (অভিখ্যাতা) সম্মুখ অন্তর্যামী উপদেশ দানকারী (মর্ডিতা) সুখদাতা (সখা) মিত্র (পিতা) পালক (পিতৃতমঃ) সংসারের যিনি রক্ষক তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষক (কর্তা) তিনিই কর্তা (ঈম্ উ) নিশ্চিত রুপে (উশতে) ভক্তের জন্য (বয়োধাঃ) দীর্ঘ জীবন এবং সম্পত্তি দাতা।

4. 
স পর্য়গাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরং শুদ্ধমপাপ বিদ্ধম্।
কবির্মনীষী পরিভুঃ স্বয়ংভুর্য়াথাতথ্যতোর্থান্ব‍্যদধাচ্ছাশ্বতীভ্যঃ সমাভ্যঃ।।”(যজুর্বেদ ৪০/৮)

শব্দার্থ➠ (স পরি-অগাত্) ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান (শুক্রম)স্বচ্ছ এবং নির্মল (অকায়ম্) নিরাকার (অব্রণম্) ত্রুটিরহিত (অস্নাবিরম্) নাড়ীর বন্ধনে আসেন না। অর্থাৎ যেভাবে জীব শরীর ধারন করে নাড়ীর বন্ধনে আসে, ঈশ্বর কখনোই সেভাবে শরীর ধারন করে না। (শুদ্ধম্) ঈশ্বর শুদ্ধ (অপাপবিদ্ধম্) পাপ যাকে কখনোই বাঁধে না, (কবিঃ) জ্ঞানবান (মনীষী) ভাবনাকারী (পরিভুঃ) সমস্ত সংসারকে ঘিরে রেখেছেন, (স্বয়ম্ভূঃ) স্বয়ম্ভূ (শাশ্বতীভ্যঃ সমাভ্যঃ) শাশ্বত, নিত্য,অজর,অমর, তিনি প্রজাদের জন্য (ব্যদধাত্) বিধান তৈরি করেছেন (য়াতাতথ্যতঃ) যেরকম হওয়া উচিত ঠিক সেরকম। 
.
এই মন্ত্রানুসারে ঈশ্বর একজনই, তিনি সর্বত্র বিরাজমান,স্বচ্ছ, নির্মল, নিরাকার, ত্রুটিরহিত,অজন্মা,শুদ্ধ,অজর,অমর, নিত্য, শাশ্বত।  আরোও জানার জন্য পূর্ববর্তী পোস্ট পড়ুন।


 কেবলমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা করা উচিত 
যে ঈশ্বরের সৃষ্টির নিয়মের নিরীক্ষণ করে না বা বিজ্ঞানকে অবহেলা করে সে কখনোই সেই ঈশ্বরকে জানতে পারেন না, কেননা সে ঈশ্বরের নিয়ম জানেনা। সে কেবলমাত্র শোনা কথার উপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের কল্পনা করে ঈশ্বরকে কল্পিত স্বরুপ মনে করে।কেউ গাছকে ঈশ্বর ভেবে তাঁর পূজা করে,কেউ মানুষকে,কেউ পাথরকে। বেদের মন্ত্রানুসারে সেই ঈশ্বরকে সেই জানে যে সায়ংসজ্ঞ, সায়ংসজ্ঞ সেই যে ব্রহ্মবিত্ত, এবং সত্যিকারের ব্রহ্মবিত্ত সেই যে বিজ্ঞানবিত্ত।

“বিষ্ণোঃ কর্মাণি পশ্যত য়তো ব্রতানি পস্পশে।
ইন্দ্রস্য য়ুজ্যঃ সখা।।(ঋকবেদ ১.২২.১৯)

ভাবার্থ ➨ ঈশ্বরের কর্ম অর্থাৎ নিয়মকে দেখো। তাঁকে দেখেই তুমি নিজের কর্তব্যকে ঠিক বুঝতে পারবে। ঈশ্বরের উপাসনাকারীদের সংখ্যা সংসারে খুবই কম। ঈশ্বরের স্থানে মানুষ, ইঁট, পাথর, নদী, পাহাড় ইত্যাদিকে পূজা করে। যার জন্য মানুষ দুঃখ কষ্ট প্রাপ্ত হয়।
বেদে স্পষ্ট লেখা আছে ঈশ্বর ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে পূজা করো না⤑

“মা চিদন্যদ্বি শংসত সখায়ো মা রিষণ্যত। ইন্দ্রমিত্স্তোতা বৃষণং সচা সূতে মূহুরুক্থা চ শংসত।।(ঋকবেদ ৮.১.১)

অর্থাৎ⟶ অন্য কারোর স্তবন করোনা। সদা প্রভুর স্তবন করে তুমি কাম-ক্রোধ ইত্যাদির থেকে মুক্ত থাকো।হৃদয়ে যখন প্রভুর অধিষ্ঠান হয় তখন সেখানে কোনো বাসনা প্রবেশ করে না। কেবলমাত্র সেই পরমৈশ্বর্যশালী প্রভুর স্তুতি করো যিনি এই জগতের স্রষ্টা।
আমাদের উচিত সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বরের আরাধনা করা⟶

“য়ুক্তেন মনসা বয়ং দেবস্য সবিতুঃ সবে। স্বর্গায় শক্ত‍্যা।।(যজুর্বেদ ১১.২)

অর্থাৎ আমাদের মন যেন নিরন্তর ঈশ্বরের আরাধনা করে এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করে।
আত্মবিকাশের জন্য ঈশ্বরের কৃপাকে সাধ্য এবং সাধন মনে করে তাকে পথপ্রদর্শক,আত্মবলদায়ক এবং প্রেরণাদায়ী স্তোত্র মনে করে বেদ মন্ত্রের প্রার্থনা করতে হবে⟶

“নহ্যান্যং বল্লাকরং মর্ডিতারং শতক্রতো।ত্বং ন ইন্দ্র মৃল্লয়।(ঋকবেদ ৮.৮০.১)

হে প্রভু! আপনি ছাড়া অন্য কেউ সুখদাতা নয়, তাহলে আমরা অন্যত্র কেন যাবো। হে সুখস্বরুপ! সত্যতঃ আপনিই সমস্ত সুখের মূল স্তোত্র। আমরা শুধু সেই সুখ চাই যা সাক্ষাত আপনার থেকেই প্রাপ্ত। সেই সুখেই আমাদের চিত্ত তুষ্ট হবে।
 আমাদের উচিত অনন্য একগ্ৰতার সহিত ঈশ্বরের উপাসনা করে যেন ঈশ্বরকে প্রসন্ন করতে পারি⟶

“নু অন্যত্রা চিদদ্রিবস্ত্বন্নো জগ্মুরাশসঃ।মঘবঞ্ছগ্ধি তব তন্ন ঊতিভিঃ।।(ঋকবেদ ৮.২৪.১১)
.সংসারকে ধারনকারী হে ঈশ্বর! আমাদের অভিলাষা আপনাকে ছেড়ে অন্যত্র কখনোই কোথাও যায়নি। আপনি আপনার কৃপাদ্বারা আমাদের সমস্ত প্রকার সামর্থ দ্বারা সম্পন্ন করুন।
 দূর্বল মানসিকতার মানুষ সৎ কর্ম ছেড়ে অসৎ কর্মে লেগে যায় যার জন্য সে দুঃখ প্রাপ্ত হয়।

⏩ বেদ অপরিবর্তনীয়  ➤
বর্তমানে সমাজে কিছু মানুষ দেখা যায় যারা বলে, অথর্ববেদ এবং ঋকবেদের ১০ম মন্ডল বেদের মধ্যে পরে সংযোজন করা হয়েছে।
বেদের এক একটা অক্ষর, এক একটা মাত্রা অপরিবর্তনীয়। সৃষ্টির প্রারম্ভে যেমন ছিল এখনোও সেভাবে আছে। এমনটা সম্ভব হয়েছে কারণ ঋষিগণ  বিভিন্ন উপায় করে গেছেন।

১. প্রথম উপায়:
আটপ্রকারের ক্রমপাঠে বর্ণনা করেছেন⤑

অষ্টো বিকৃত্যঃ প্রোক্তা ক্রম পূর্বা মনীষিভিঃ।
জটা,মালা,শিখা, লেখা,ধ্বজো,দণ্ডো,রথো,ঘনঃ।।

এই ৮ ক্রম পাঠের মধ্যে জটা এবং দন্ড প্রধান। কেননা জটার পিছনে শিক্ষা চলে এবং দন্ডের অনুসারিনী মালা, লেখা,ধ্বজ এবং রথ।ঘন উপযুক্ত জটা এবং দণ্ডের পিছনে চলে। এই ৮ক্রম পাঠের আবার কিছু ভাগ করে প্রত্যেক মন্ত্রকে ১১টা প্রকার করে পাঠের বিধান রয়েছে। এই পাঠ কাশী,মিথিলা,নদিয়া এবং বোম্বাই তথা মাদ্রাসে আজও পাঠ হয়। বেদের এক একটা শব্দকে যখন ১১-১১বার পড়া হয় তখন কিভাবে সম্ভব বেদের মধ্যে নতুন শব্দ,বাক্য সংযোজন করা। 

২. দ্বিতীয় উপায়:
 চারবেদের ছন্দ সংখ্যা,পদসংখ্যা,মন্ত্র সংখ্যা তথা মন্ত্রানুসারে ছন্দ,ঋষি, দেবতার জন্য “অনুক্রমণী” নামক গ্ৰন্থ তৈরি করা হয়েছিল যা এখনোও পাওয়া যায়। যেমন ঋকবেদের অনুক্রমণীর নাম গুলো হলো—(১) শৌনকানুক্রমণী (২)অনুবাকনুক্রমণী (৩)সুক্তানুক্রমণী (৪)আর্পানুক্রমণী (৫)ছন্দানুক্রমণী (৬)দেবানুক্রমণী (৭)কত্যায়নীয়ানুক্রমণী (৮)সর্বানুক্রমণী (৯)ঋকবিধান,বৃতদেবতা।
যজুর্বেদের —(১) মন্ত্রার্পাধ্যায় (২) কাত্যায়নীয়সর্বানুক্রমণী (৩)প্রাতিশাখ্য সূত্র (৪)নিগম পরিশিষ্ট
সামবেদের — (১)অর্পিয় ব্রাহ্মণ (২) নৈগমেয়ানামৃত্চবার্ঘম্ (৩)নৈগমেয়ানামৃক্ষূ দৈবত্তম্
অথর্ববেদের— বৃহত্সর্বানুক্রমণী

৩. তৃতীয় উপায়:

উপরের অনুক্রমণীর বিদ্বানরা টীকা করে সেগুলোকে আরোও সুরক্ষিত করে গেছেন।

বেদের সার-সর্বস্ব গায়ত্রী মন্ত্র  ➤
গায়ত্রী মন্ত্রকে বেদের সার-সর্বস্ব বলা হয়।
গায়ত্রী মন্ত্রের প্রথমে 'ওঁ' ব্যবহারের বিধান রয়েছে, যাকে প্রণব বলা হয়।প্রণব পরমব্রহ্মের নাম।'ভূঃ ভুবঃ স্বঃ'- ইহা গায়ত্রী মন্ত্রের বীজ মন্ত্র। গায়ত্রী মন্ত্র হল বৈদিক হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে,বেদের অন্যান্য মন্ত্রের মতো গায়ত্রী মন্ত্রও “অপৌরষেয়” (অর্থাৎ,কোনো মানুষের দ্বারা রচিত নয়) এবং এক ব্রহ্মর্ষির কাছে (গায়ত্রী মন্ত্রের ক্ষেত্রে ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র ) প্রকাশিত। এই মন্ত্রটি বৈদিক সংস্কৃত ভাষায় রচিত। এটি ঋগ্বেদের মণ্ডলের (৩.৬২.১০) একটি সূক্ত । গায়ত্রী মন্ত্র গায়ত্রী ছন্দে রচিত। ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।। [ ঋগবেদ ৩.৬২.১০,যজুর্বেদ ৩.৩৫,৩০.২,সামবেদ উত্তরার্চ্চিক ৬.৩.১০] পদচ্ছেদ: ওঁ-পরমাত্মা, ভূঃ-প্রাণস্বরুপ, ভূবঃ-দুঃখনাশক, স্বঃ-সুখস্বরুপ, তত্-সেই, সবিতু-সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা, বরেণ্যম-বরণযোগ্য সর্বোত্তম, ভর্গো-পাপ নাশক, দেবস্য-সমগ্র ঐশ্বর্য দাতা, ধীমহি-ধারণ করি, ধিয়ঃ-প্রজ্ঞাসমূহকে, য়ঃ-যিনি, নঃ-আমাদের , প্রচোদয়াত্-সত্য জ্ঞান প্রদান করুক। অনুবাদ-পরমাত্মা প্রাণস্বরুপ, দুঃখনাশক ও সুখস্বরুপ। সেই জগতসৃষ্টিকারী ও ঐশ্বর্যপ্রদাতা পরমাত্মার বরণযোগ্য পাপ-বিনাশক তেজকে আমরা ধারণ করি। তিনি আমাদের বুদ্ধিকে শুভ গুণ, কর্ম ও স্বভাবের দিকে চালনা করুক।

 বেদ মন্ত্রের মহিমা  ➤
বলা হয় যে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ, তার মধ্যে দেবতা বাস করে। একবার এক রাজকুমার শিকার করতে গিয়ে এক ঋষিকে হরিণ ভেবে বিষৈলা বাণ মেরে দিয়েছিল।'হা হা' আওয়াজ শুনে রাজকুমার বুঝে গেল ব্রহ্মহত্যা হয়েছে। অভিশাপের ভয়ে ভীত হয়ে সে রাজমহলে পৌঁছালো। রাজা যখন সমস্ত কথা শুনলো তখন সে রাজকুমার কে বলল “এটা তুমি ঠিক করোনি আমাদের গিয়ে মুনির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।” রাজা সপরিবারে মুনির আশ্রমে পৌঁছালেন এবং মুনির কাছে ক্ষমা চাইলেন, এবং প্রায়শ্চিত্ত করার বিধান চাইলেন। তখন মুনি বললো প্রায়শ্চিত্তের আবশ্যকতা নেই এখানে কোনো হত্যা হয় নাই। এটা শুনে রাজা বড়ই আশ্চর্য হলেন। মুনি বললেন যদি আমি আশ্রমে বসবাসকারী ব্রহ্মচারীদের ডাকি তাহলে কি রাজকুমার সেই ব্রহ্মচারী কে চিনে নেবেন? রাজকুমারের হ্যাঁ বলায় আশ্রমের সকল ব্রহ্মচারী কে ডাকা হলো। যেই ব্রহ্মচারীর গায়ে বাণ লেগেছিল তাকে রাজকুমার চিনে ফেললেন, কিন্তু আশ্চর্য হলেন এই ব্রহ্মচারীর শরীরে কোনো ক্ষত চিহ্ন নেই। মুনি রাজাকে বললেন আমরা সদা, সর্বদা বৈদিক ধর্মের পথে চলি। বেদের সমস্ত বাক্য পালন করি সুতরাং মৃত্যু দেবতা এখান থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। এটাই হলো বৈদিক মন্ত্রের মহিমা।

⏩ বেদ পাঠের ফল  ➤
 1. পাবমানীর্য়ো অধ্যেত্যৃষিভিঃ সভৃতং রসম্।
তস্মৈ সরস্বতী দূহে ক্ষীরং সর্পির্মধুদকম্।।(ঋকবেদ ৯.৬৭.৩২)

শব্দার্থ ➠ (য়ঃ) যে মানুষ (ঋষিভিঃ সভৃতং) ঋষিদের দ্বারা সুরক্ষিত (পাবমানীঃ) পবিত্র (রসম্) রসের (অধ্যেতি) অধ্যায়ন করে (সরস্বতী)বেদ বিদ্যা (তস্মৈ) সেই মানুষের জন্য (ক্ষীরং) দুধ (সপিঃ) ঘী, (মধু) মধু (উদকম্)জল (দূহে) দান করে।
.
ভাবার্থ ➨ সৃষ্টির আদিতে যে বেদজ্ঞানের আবির্ভাব হয়েছিল,তা ঋষিগণ স্বাধ্যায় এবং প্রবচনের দ্বারা সুরক্ষিত রেখেছেন। ইহার নাম সরস্বতী। বেদ বিদ্যা সদা বর্তমান এবং রসময়।যে বেদ বিদ্যার অধ্যায়ন করে সে লৌকিক এবং পরলৌকিক শান্তি প্রাপ্ত হয়।

2. স্তুতা ময়া বরদা বেদমাতা প্রচোদয়ন্তাং পাবমানী দ্বিজানাম্।
আয়ুঃ প্রাণং প্রজাং পশুং কীর্তি দ্রবিণং ব্রহ্মবর্চসম্।
মহ্যং দত্বা ব্রজত ব্রহ্মলোকম্।।(অথর্ববেদ ১৯.৭১.১)

শব্দার্থ ➠ (বরদা বেদমাতা ময়া স্তুতা) আমি বরপ্রদানকারী বেদ মাতার স্তুতি করেছি, (প্রচোদয়ন্তাং দ্বিজানাং পাবমানী) যে বিদ্বানেরা এই বেদ মাতার প্রেরণা প্রাপ্ত হন তাঁরা পবিত্র হয়, হে বেদের বিদ্বান, (মহ্যং) আমাকে (আয়ুঃ) জীবন (প্রাণং) প্রাণশক্তি (প্রজাং) সন্তান (পশুং) পশু ধন (কীর্তি,য়শ,দ্রবিণং) ধন (দত্বা) দিয়ে (ব্রহ্মলোক) মোক্ষ (ব্রজত) প্রাপ্ত হন।

ভাবার্থ ➨ বেদ পাঠ করলে, অন্যকে পড়ালে, বেদের অনুকূলে জীবন যাপন করলে সেই ব্যক্তি মোক্ষ প্রাপ্ত হন।

3.
 বিশ্বানি দেব সবিতর্দূরিতানি পরা সূব।য়দ্ভদ্রং তন্নআ সূব।।(যজুর্বেদ ৩০.৩)

শব্দার্থ ➠ হে (দেব) উত্তম গুণকর্মস্বভাবযুক্ত (সবিতঃ) উত্তম গুণ-কর্ম-স্বভাবের প্রেরণাদানকারী পরমেশ্বর! আপনি আমাদের (বিশ্বানি) সমস্ত (দূরিতানি) দূষ্ট আচরণ এবং দুঃখ (পরা সুব) দূর করুন এবং (য়ত্) যে (ভদ্রম্) কল্যাণকারী ধর্ম যুক্ত আচরণ এবং সুখ আছে, (তত্) সেগুলো (নঃ) আমাদের জন্য (আ সুব) প্রদান করুন।

4. 
য়ো বঃ শিবতমো রসস্তস্য ভাজয়তেহ নঃ। উশতীরিব মাতরঃ।।(অথর্ববেদ ১.৫.২, ঋকবেদ ১০.৯.২)

ভাবার্থ ➨ প্রভু ! আপনার যে আনন্দময় ভক্তিরস আছে, আপনি তা আমাদের প্রদান করুন। যেভাবে শুভকামনাময়ী মা তাঁর সন্তানকে তুষ্ট এবং পুষ্ট করেন, সেভাবেই আপনি আমাদের কৃপা করুন।

5. 
কত্বঃ সমহ দীনতা প্রতীপং জগমা শুচে।মৃল্লা সুক্ষত্র মৃল্লয়।(ঋকবেদ ৭.৮৯.৩)

ভাবার্থ ➨ হে পরম তেজময়! পরম পবিত্র পরমেশ্বর! দীনতা- দূর্বলতার কারণে আপনার সংকল্প,প্রজ্ঞা, কর্তব্য থেকে দূরে সরে যাই। শুভশক্তিশালী! আমার উপর কৃপা করে আমাকে সুখ প্রদান করুন। 
 বেদের মান্যতা অনুযায়ী তপঃপুত জীবন থেকেই মোক্ষ উপলব্ধি হয়—

6. য়স্মাত্পক্বাদমৃতং সংবভূব য়ো গায়ত্র‍্যা অধিপতির্বভূব।য়স্মিন্বেদা নিহিতা বিশ্বরুপাস্তেনৌদনেনাতি তরাপি মৃত্যুম্।।(অথর্ববেদ ৪.৩৫.৬)

শব্দার্থ ➠ (য়স্মাত্পক্বাত) যেই জ্ঞানের পরিপাক থেকে (অমৃতং সংবভূব) অমৃতের উৎপত্তি হয়। জ্ঞানের এর পরিপাক হলে নিষ্পাপ হওয়া যায়। এই নিষ্পাপতা নিরোগতা এবং অমৃতত্ত্বের সাধন হয়।(য়ঃ) যে জ্ঞান (গায়ত্র‍্যাঃ) গায়ত্রীর (অধিপতির্বভূব) অধিপতি (য়স্মিন্) যেই জ্ঞানে (বিশ্বরুপাঃ) সমস্ত সত্য বিদ্যার নিরূপণকারী (বেদাঃ নিহিতা) বেদ নিহিত আছে অর্থাৎ যে জ্ঞানের দ্বারা নির্দিষ্ট (তেন ওদনেন) সেই জ্ঞানরূপ ভোজনে (মৃত্যুম্ অতিতরাণি) মৃত্যুকেও অতিক্রম করা যায়।
বেদের পাঠ এবং বেদের শিক্ষার আচরণ করলে সুখ প্রাপ্তি হওয়া যায়।(যজুর্বেদ ৪০.২)

প্রশ্ন- ধর্মগ্ৰন্থ তো একটাই হওয়া উচিত, তাহলে বেদ চারটি কেন?
উত্তর- বেদের চারটি শাখা। যেমন বৃক্ষ একটা, কিন্তু তার শাখা,পাতা, ফুল এবং ফল আলাদা আলাদা।

শ্রীমদ্ভাগবত (৬.১.৪০) এ বেদ যে সব কর্মের বিধান দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই ধর্ম, এবং যেগুলোর নিষিদ্ধ সেগুলো অধর্ম।

  বেদ এবং আধ্যাত্মিক আদেশ ➤
আধ্যাত্মিক সাধনার বাধক অনেক নিন্দনীয় কর্মের থেকে দূরে থাকার কথা বেদে বলা হয়েছে⤑
“অক্ষৈর্মা দীব্য।।(ঋকবেদ ১০.৩৪.১৩)
জুয়া খেলো না।
“মা গৃধঃ কস্য স্বিদ্ধনম্।।(যজুর্বেদ ৪০.১)
অপরের সম্পত্তিতে লোভ করো না।
এছাড়াও যে সৎ কর্মের উপদেশ আছে সেগুলো হলো⟶
“ঋতস্য পথা প্রেত।।(যজুর্বেদ ৭.৪৫)
সত্যের পথে চলো।
হে পরমেশ্বর আপনি আমাদের কল্যাণকারক মন,কল্যাণকারক বল এবং কল্যাণকারক কর্ম প্রদান করুন। (ঋকবেদ ১০.২৫.১)
ধর্মাত্মাকে সত্যের নৌকা পার করায় (ঋকবেদ ৯.৭৩.১)
আমরা কান দিয়ে যেন সর্বদা ভদ্র- মঙ্গলকারী কথা শুনি।(যজুর্বেদ ২৫.২১)

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

No comments:

Post a Comment