কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল ২ - VedasBD.com

Breaking

Tuesday, 30 October 2018

কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল ২

নায়েক অনুযায়ী, তৌরাত শফীফের পয়দায়েশ ১:১৬-১৮ বলেন চাঁদের নিজস্ব আলো আছে—

আল্লাহ্ দু’টা বড় আলো তৈরী করলেন। তাদের মধ্যে বড়টিকে দিনের উপর রাজত্ব করবার জন্য, আর ছোটটিকে রাতের উপর রাজত্ব করবার জন্য তৈরী করলেন। তা ছাড়া তিনি তারাও তৈরী করলেন। তিনি সেগুলোকে আসমানের মধ্যে স্থাপন করলেন যাতে সেগুলো দুনিয়ার উপর আলো দেয়, দিন ও রাতের উপর রাজত্ব করে আর অন্ধকার থেকে আলোকে আলাদা করে রাখে। আল্লাহ্ দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে। (পয়দায়েশ ১:১৬-১৮)

এই যুক্তি অতি দুর্বল, কারণ চাঁদকে “আলো” বলা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য, এবং এই আয়াতে কোথাও চাঁদকে ‘আলোর উৎস’ বলা হয় না। নায়েকের এই যুক্তি অনুযায়ী, “জ্যোৎস্না” বা moonlight বলাও ভূল, কারণ সেখানেও বোঝানো হয় যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। প্রকৃতির বর্ণনায় প্রত্যেক আসমানী কিতাব বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয় বরং সাধারণ ভাষা ব্যবহার করেন—যেমন কোরআনও চাঁদকে “নূর” বলে (৭১:১৬)। পয়দায়েশে যে মূল  “ আলো” সেটা শুধু নিজস্ব আলো বোঝায় না বরং প্রতিফলিত আলোও বোঝায় (যেমন মেসাল ১৫:৩০ আয়াতে এই শব্দের ব্যবহার দেখুন)। এমনকি, ইহিষ্কেল ৩২:৭-৮ ও মথি ২৪:২৯ আয়াতে ইঙ্গিত আছে যে চাঁদের আলো সূর্যের আলোর উপর নির্ভরশীল। কোরআনেও চাঁদ নিয়ে কিছু জটিল বর্ণনা আছে। কারণ লেখা আছে যে সাতটি আসমান স্তরে স্তরে আছে, এবং তারাগুলো সবচেয়ে নিম্ন স্তরে অবস্থিত২৫ (যদিও বিজ্ঞান বলে তারা বিশ্বের সবখানে আছে)। কিন্তু সূরা নূহ্‌ ৭১:১৫-১৬ আয়াত অনুযায়ী চাঁদের অবস্থান এই সপ্ত আকাশের মাঝখানে, অর্থাৎ তারা-স্তরের চেয়ে বেশী দূর পৃথিবী থেকে। কোরআনে উল্কা নিয়ে আমরা আরো বিশ্বতাত্ত্বিক জটিলতা পাই। সূরা আস-সাফফাতে আছে—

নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি। এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয় ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। (আস-সাফফাত ৩৭:৬-১০)২৬

এই আয়াত অনুযায়ী মনে হচ্ছে, উল্কার উদ্দেশ্য হল বেহেশতে আড়ি পাতা জ্বীনদের বিতাড়নের জন্য।

No comments:

Post a comment