কল্কি অবতার নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব - VedasBD.com

Breaking

Wednesday, 24 October 2018

কল্কি অবতার নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব



★কল্কি অবতার নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব..
----------------------------------------------------

জাকির নায়েক তার একটা লেকচারে হিন্দু ধর্মে হযরত মুহাম্মদের আগমনি বার্তার প্রমাণ দেখাতে গিয়ে বলেছিলেন,
// “এতস্মিন্নন্তিবে সেত্দচ্ছ আচার্যেন সমন্বিতঃ। মহামদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিত।। নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থ নিবাসিম্ম। চন্দনাদিভির ভ্যর্চ্য তুষ্টাব মনসাহরম্নমস্তে গিরি জানাথ মরুস্থল নিবাসিনে। ক্রিপুবাসুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে॥" (ভবিষ্যপুরাণ ৩:৩:৩)//
// "তম্মান্মুসলবন্তো হি জাতয়ো ধর্ম্ম দূষকাঃ। ইতি পৈশাচধমশ্চ ভবিষ্যতি ময়াকৃতঃ। ” (ভবিষ্যপুরাণ শ্লোকঃ১০-২৭।)
অর্থ্যাৎ, ত্রিপুরাসুর নামে একজন আসবেন। মুহামদ নামে জন্ম নেবে ও একটা আসুরী ধর্ম প্রচার করবে। এই ধর্মের অনুসারীদের মুসলমান বলা হবে। তারা মাংস ভক্ষক হবে। মাথায় শিখার বদলে তারা দাঁড়ি রাখবে। তারা লিঙ্গ কর্তন করবে। কল্কি পুরান এ বলা আছে কল্কি অবতার এর পিতা মারা যাবে তার জন্মের পর ( ১;২;১৫ কল্কি পুরান)
-হযরত মুহাম্মদের বাবা মারা যান তার জন্মের পূর্বে! বিসমিল্লাতেই ধরা!
কল্কি তার মাতা সুমতির ৪র্থ সন্তান রুপে পৃথিবীতে আসবেন (কল্কি পুরান ২.৩১ )
-হযরত মুহাম্মদ গর্ভে থাকাকালে তার পিতার মৃত্যু হয়েছিল তাই সঙ্গত কারণেই তার আর কোন ভাই-বোনের জন্ম হবার কথা নয়। তার মাতা আমিনা আবার বিয়ে করেছেন এমন কোন তথ্য আমাদের জানা নেই। কল্কির সঙ্গে এখানেও মুহাম্মদ মেলে না। হযরত মুহাম্মদ তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন।
তিনি জন্ম নিবেন মাসের এক ১২ তারিখে (কল্কি পুরান দ্বিতীয় অধ্যায় ১৫নং অনুচ্ছেদ)
-হযরত মুহাম্মদের ১২ রবিউল আওয়াল জন্মেছেন তার কোন প্রমাণ ইসলামের কোন সূত্রে পাওয়া যায় না। কোন আলেম বা বিশেষজ্ঞই এবিষয়ে একমত নন। তবে ১২ তারিখকে ধরে নেয়া হয়।
কল্কির বাবার নাম হবে “বিষ্ণুযশ” যার অর্থ হবে "ঈশ্বরের গর্ব"। জাকির নায়েক দাবী করেছেন কল্কি নাম নাকি লেখা আছে বিষ্ণুইয়াসি যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার গোলাম। এর সঙ্গে মুহাম্মদের বাবার নাম আবদুল্লাহ (আল্লার দাস) মিলিয়েছেন। হিন্দু পন্ডিতদের চেয়ে জাকির নায়েক সংস্কৃত বেশি বুঝবেন আর জাকির মিয়ার চাইতে কোন হিন্দু পন্ডিত কুরআন বেশি বুঝবেন সেটা আমি দাবী করি না মানিও না। কাজেই জাকির নায়েক এই জায়গায় “তাকিয়া” খেলেছেন সংগতভাবেই। এক জায়গায় দেখতে পেলাম সংস্কৃত সভা না কি একটা সংঘ এই বিষয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণে জাকির নায়েক কোন সাড়া দেননি!
কল্কির মায়ের নাম হবে সুমতি। এটাকে জাকির নায়েক আরবী আমেনা বানিয়েছেন। আমেনা অর্থ শান্ত আত্মা। আরবী জাকির ভালই জানেন আগেই বলেছি। কিন্তু সুমতি শব্দটি একজন বাঙালী হিসেবে আমার নিজের কাছে তো অচেনা নয়। এর অর্থ কিছুতে ভাল আত্মা হতে পারে না! শরৎচন্দ্রের “রামের সুমতি” নামের শিশুতোষ রচনাটির অর্থ নিশ্চয় রামের শান্ত আত্মা নয়!
বলা আছে কল্কিকে তার গুরু রামদেব বেদ শেখাবেন (কল্কি পুরান, ৩/৪৩)
-হযরত মুহাম্মদ বেদ জানতেন এটা কি কোথায় পাওয়া যায়? মুসলিমরা গর্ব করে বলেন উনি অশিক্ষিত ছিলেন! তো রামদেব নামের মুহাম্মদের কোন শিক্ষকের নামও তো কখনো শুনিনি!
কল্কি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রান্তে যাবেন এবং সেখানকার খারাপ লোকদের হত্যা করবেন, এতে খুব কম লোকই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মাধ্যমে আবার সত্যযুগ শুরু হবে। (ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ(১/২/৩১/৭৬-১০৬), বায়ু পুরাণ (৫৮/৭৫-১১০)
.
-এটা কিন্তু ইমাম মাহাদীর সঙ্গে দারুণ মিলে যায়! ঐ যে বললাম ধর্মের রাস্তা খুড়ে রাখা আগামীদিনের জন্য। কিন্তু হযরত মুহাম্মদের সঙ্গে কি এটা মিলে? হযরত মুহাম্মদ মারা যাওয়ার আগে মাত্র ১০ হাজার অনুসারীকে রেখে গিয়েছিলেন। তার ধর্ম তখন পর্যন্ত প্রসার লাভ করেনি। কথিত “সত্য যুগ” কি মুহাম্মদের জন্মের পর আজ অবধিকে কোনমতে বলা যায়?
কল্কি ও তার স্ত্রী নিরামিষভোজী হবেন। (কল্কি পুরান ৩/৪৩)
.
-হযরত মুহাম্মদ নিরামিষ ভোজি ছিলেন এমনটা তার শত্রুও বলতে পারবে না! উনার প্রিয় ছিল বকরির ঠাংয়ের রোস্ট। এই ঠ্যাং খেতে গিয়েই বিষক্রীয়ায় শেষ পর্যন্ত মারা গিয়েছিলেন এই আলোচিত-সমালোচিত ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ। কল্কি পুরান মতে কল্কি অবতারের এর স্ত্রী দুজন যার প্রথমজনের নাম হবে পদ্মাবতী এবং তিনি"সিংহল" এর অধিবাসী যা চতুর্দিকে একটি সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ।(কল্কিপুরান ৮.৩৯) অপরজনের নাম হবে রমা(৩২.৬) আর কল্কি পুরাণে কল্কি আবতারে জন্ম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দেয়া আছে এমনকি তিনি পৃথিবী ছেড়ে যাবার দিনের ঘটনাতেও তার দুই স্ত্রীর কথাই বর্ণীত হয়েছে!
সুতরাং কল্কির ২ এর অধিক স্ত্রীর কথা বলা নিতান্তই হাস্যকর।অপরদিকে নবী মুহম্মদের ১৩ জন স্ত্রী ছিলেন এবং তাদের সবাই আরব অঞ্চল এর অধিবাসী ছিলেন।আরব অঞ্চল বিশেষত মক্কা-মদিনা নিশ্চয় সমুদ্রবেষ্টিত কোন দ্বীপ নয়। এছাড়াও অধ্যায় ৯ এবং ১০ এ কল্কির স্ত্রী পদ্মার বিশদ বর্ননা আছে।১০ম অধ্যায়ের ১ম শ্লোকেই আছে যে পদ্মা দেবী জানতেন যে কল্কি অবতার আর কেউ নন তিনি তারই পতি শ্রী হরির (বিষ্ণু) অবতার এবং ঠিক পরবর্তী শ্লোক অর্থাত ২য় শ্লোকেই দেবী পদ্মাকে লক্ষীদেবী হিসেবে ডাকা হয়েছে।পুরাণে বর্ণিত অনুযায়ী দেবী লক্ষী শ্রী হরি তথা বিষ্ণুর অর্ধঙ্গিীণী।
কল্কি পুরাণ মতে কল্কি স্বয়ং ঈশ্বর:
কল্কি পুরাণ ২.১-৩ এ বর্ণিত আছে দেবতা ব্রহ্মা সমস্ত দেবতাদের নিয়ে বিষ্ণুর গোলকধামে শরনাপন্ন হন এবং কলির অবনতির সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। কল্কি পুরাণ ২-৪ সমস্ত ঘটনা শুনে বিষ্ণুজী বললেন “ আমি খুব শীঘ্রই পৃথিবীতে অবতরন করব। শম্ভুল গ্রামের ব্রাহ্মণ বিষ্ণুযশ হবের আমার পিতা এবং তার স্ত্রী সুমতি হবেন আমার মাতা।
ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী নবী মুহাম্মদ একজন মানুষ ছিলেন এবং তিনি ওহি অর্জন করেছিলেন জিবরাইল এর কাছ থেকে।অপরদিকে পৌরাণিক মতবাদ এবং বিশ্বাস অনুযায়ী কল্কি অবতার হচ্ছেন স্বয়ং ঈশ্বর,যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন অধর্মের নাশ ও ধর্মের রক্ষা করতে।তাঁর কোন ওহি অর্জনের প্রশ্ন ই আসছেনা!
নবী মুহাম্মদ এর প্রথম স্ত্রী খাদিজার গর্ভেই তার ৬ সন্তান হয় যার মাঝে দুই পুত্র এবং প্রথম পুত্র কাসিম ১ বছর বয়সেই মারা যায়।অপরদিকে কল্কি পুরাণ ১৩.৩৬ মতে কল্কি অবতারের সন্তান ২ টি,২ টি ই পুত্র সন্তান।তাঁদের নাম জয় এবং বিজয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী তারা অনেক বড় বীর এবং অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহন করবেন।
কল্কি পুরাণ ২-১৬ কল্কি অবতারের জন্মের পর মহাস্বস্থি তার র্নাস হিসেবে নিয়োগ হন,আম্বিকা তার নাড়ি (Umbilical Cord)কাটেন এবং সাবিত্রি তার গঙ্গাজল দিয়ে তার শরীর পরিষ্কার করে দেন। মুহাম্মদের জন্মের সময় এরা কি উপস্থিত ছিলেন? তার কি শরীর গঙ্গাজল দিয়ে ধোয়া হয়েছিল? কোনটাই নয়
র্মীর্জা গোলাম আহমেদ সবার প্রথমে মুহাম্মদে কল্কি পুরাণে এবং বেদে আছে বলে দাবী করেন যেখান থেকেই জাকির নায়েক কপি পেষ্ট করেছেন।এই র্মীর্জা গোলাম আহমেদ আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তা যাকে কিন্তু বেশীরভাগ মুসলিমই কাফের বলে ঘোষনা দিয়েছেন।আহমেদিয়া সমপ্রদায়েরা র্মীর্জা গোলাম আহমেদকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানে।এখন এই ইসলামিক পন্ডিতের কথা কি আহমেদিয়া ব্যতিত কোন মুসলিম মেনে নেবেন??কারন এখানেতো তাদেরই এক মুসলিম পন্ডিত ঘোষনা করেছেন তাহলে তাদের মানতে অসুবিধা কোথায় যদি শিরক বলে মানতে না চায় তবে কেনইবা জাকির নায়েক বা অন্যরা সেই ব্যক্তির লেখা বই পড়ে পুরাণ বেদে নবীর ভবিষ্যত বাণী করা আছে বলে দাবী করে!!অনেকে আবার বলে যে কোথাকার কোন হিন্দু পন্ডিত নাকি বলেছে পুরাণ বেদে মুহাম্মদের কথা আছে তাই হিন্দুদেরকে এটা মানা উচিত!! যদি কোন এক হিন্দু পন্ডিতের কথাই মানতে বলেন তাহলে তারাও কি মুহাম্মদ শেষ নবী নয় র্মীর্জা গোলাম আহমেদ শেষ নবী এটা মেনে নেবেন কারন এটাওতো তাদেরই পন্ডিত বলেছেন।!
এটা পরিষ্কার যে জাকির নায়েক বা অন্য কেউ তা কোনদিনই মানবেন না বরং শিরক বলে দাবী করবেন তাহলে ওই ব্যক্তির লেখা বই কপি পেষ্ট কেন করছেন??
সমস্ত কল্কি পুরাণ ঘাটলে এমন অসংখ্য ঘটনা দেখানো যাবে যার সাথে মুহাম্মদের কোন মিলই নেই এবং মুহাম্মদ আর কল্কি অবতার যে সম্পূর্ণ আলাদা দুজন ব্যক্তি এতে কোন সন্দেহ নেই।।






No comments:

Post a comment