কোরআন বিকৃত পর্ব ২ - VedasBD.com

Breaking

Thursday, 25 October 2018

কোরআন বিকৃত পর্ব ২


২য় পর্ব

পূর্বের পোস্টে আমরা প্রমাণ সহ দেখেছি কুরাআন মুহাম্মদের সময়েই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল, কারন

১। তিনি নিজেই নাজিল করা আয়াত ভুলে যেতেন।
.
২। রাজামের [পাথরমেরে হত্যার] আয়াত ছাগলে খেয়ে ফেলে।
.
পূর্বের পোস্টে এটাও বলা হয়েছিল কুরআন শবে কাদারের রাতে আকাশ হতে আসেনি যেমন কি না কুরআনে লেখা হয়েছে [সুরা কাদার, আয়াতঃ১]
.
মুহাম্মদের মৃত্যুর অনেক পরে কুরআন লেখা হয়। মুহাম্মদ জীবিত থাকা অবস্থায় চার জনকে তিনি কুরআনের শিক্ষা ও লেখার দ্বায়িত্ব দিয়েগেছিলেন। মুহাম্মদ তিনি জানতেন অন্য সাহাবাদের থেকে এই চারজন কুরাআন সম্পর্কে ভালো পারদর্শী। তাই তিনি এই চার জনকে কুরআন শিক্ষা, লেখার কাজ এবং সংকোলনের দ্বায়িত্ব দিয়ে গেলেন।
.
মাসরুক বর্ণিত- আমরা আব্দুল্লাহ বিন আমর এর নিকট গমন করতাম ও কথা বার্তা বলতাম। একদা ইবনে নুমাইর তার নিকট আব্দুল্লাহ বিন মাসুদের নাম উল্লেখ করল। তখন তিনি(আমর)বললেন-তোমরা এমন একজন ব্যাক্তির নাম বললে যাকে আমি অন্য যে কোন মানুষের চেয়ে বেশী ভালবাসি। আমি আল্লাহর রসুলকে বলতে শুনেছি- চারজন ব্যাক্তির কাছ থেকে কোরান শিক্ষা কর, অত:পর তিনি ইবনে উম আবদ্ ( আব্দুল্লাহ মাসুদ) এর নাম থেকে শুরু করে মুয়াদ বিন জাবাল, উবাই বিন কাব ও শেষে আবু হুদায়ফিয়ার নাম উল্লেখ করলেন। সহি মুসলিম, বই-৩১, হাদিস-৬০২৪।
.
কিন্তু মজার বিষয় হলো হযরত মুহাম্মদের মৃত্যুর পর যখন ওসমান ক্ষমতায় আসলেন তিনি নিজে নিজের মত করে কুরাআন সংকোলন করেছিলেন। তিনি হযরত মুহাম্মদের সেই অনুমদিত চারজন সাহাবাদের মধ্যে অনেকেই কুরাআন সংকোলনের সময়ে সংগে নেন নি। বরং তিনি “যায়েদ বিন তাবিত, আব্দুল্লাহ বিন আয যোবায়ের, সাদ বিন আল আস ও আব্দুর রহমান বিন হারিথ বিন হিসাম” এদেরকে কুরাআন সংকলনের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন, যারা কিনা হযরত মুহাম্মদের অনুমদিত ব্যক্তি ছিলেন না।
.
আনাস বিন মালিক বর্ণিত- হুদায়ফিয়া বিন আল ইয়ামান ওসমানের কাছে আসল যখন কিছু শাম ও
ইরাকি দেশীয় লোক তাঁর কাছে উপস্থিত ছিল। হুদায়ফিয়া শাম ও। ইরাক দেশীয় লোকদের ভিন্ন উচ্চারণে কোরাণ পাঠ নিয়ে ভীত ছিলেন, তাই তিনি বললেন- হে। বিশ্বাসীদের প্রধাণ, ইহুদী ও খৃষ্টানরা যেমন তাদের কিতাব বিকৃত করেছিল তেমনটি থেকে কোরাণকে রক্ষা করার জন্য আপনি কিছু করুন। সুতরাং ওসমান হাফসা ( নবীর স্ত্রী ও ওমরের কন্যা) এর নিকট এক বার্তা পাঠালেন- দয়া করে আপনার নিকট রক্ষিত কোরাণের কপিটা আমাদের কাছে পাঠান যাতে করে আমরা তার একটা বিশুদ্ধ কপি করতে পারি ও তারপর সেটা আপনার নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে। হাফসা সেটা ওসমানের নিকট পাঠালেন। ওসমান তখন যায়েদ বিন তাবিত, আব্দুল্লাহ বিন আয যোবায়ের, সাদ বিন আল আস ও আব্দুর রহমান বিন হারিথ বিন হিসাম এদেরকে কোরাণের পান্ডুলিপি পূন: লিখতে আদেশ করলেন। ওসমান তিনজন কুরাইশ ব্যাক্তিকে বললেন- যদি তোমরা কোন বিষয়ে যায়েদ বিন তাবিত এর সাথে কোরাণের কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ কর, তাহলে তা কুরাইশ উচ্চারণে লিখবে, কারণ কোরাণ সে উচ্চারণেই নাজিল হয়েছিল। তারা সেরকমই করলেন আর যখন অনেকগুলো কপি লেখা হলো তখন ওসমান আসল কপিটা হাফসার নিকট ফেরত দিলেন। অত:পর ওসমান একটি করে কপি প্রতিটি প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন এবং একই সাথে বাকী সব পান্ডুলিপি যা সম্পূর্ণ বা আংশিক ছিল সেসব পুড়িয়ে ফেলার হুকুম করলেন। যায়েদ বিন তাবিথ আরও বলেন- আল আহযাব সূরার একটি আয়াত আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম যখন আমরা কোরাণ সংকলন করছিলাম ও আমি তা আল্লাহর নবীকে তেলাওয়াত করতে শুনেছি। তাই এটা আমরা খুজতে শুরু করলাম ও খুজাইমা বিন তাবিথ আল আনসারি এর নিকট তা পেলাম। আয়াতটা ছিল ৩৩: ২৩ । সহী বুখারী, বই-৬১, হাদিস-৫১০।
.
নুতন চার জনকে হযরত ওসমান কুরাইশ উচ্চরনে লিখতে বলেছিলেন। যদিও হযরত মুহাম্মদ সাতটা ভিন্ন উচ্চরনে কুরআনের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিলেন।
.
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বর্ণিত- আল্লাহর নবী বলেছিলেন, জিব্রাইল আমার কাছে কোরাণকে এক রীতিতে উচ্চারণ করত। অত:পর আমি তাকে বলতাম তা অন্য রীতিতে উচ্চারণ করতে এবং সে বিভিন্ন রীতিতে তা উচ্চারণ করত এবং এভাবে সে সাতটি রীতিতে উচ্চারণ করে আমাকে শিখাত। সহী বুখারী, বই-৬১, হাদিস-৫১৩।
.
হযরত ওসমান হযরত মুহাম্মদের সময়ের পান্ডুলিপি গুলো সব আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন আর তিনি কুরাইশ উচ্চারন বাদে বাকি ৬ টা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন ।
.
যদি প্রশ্ন করা যায়ঃ কেনহ হযরত ওসমান! হযরত মুহাম্মদের সময়ের পান্ডুলিপি গুলো সব আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন? তিনি ত নিজেই আল্লাহর কালাম আগুনে পুড়িয়ে ছিলেন।
.
চিন্তা করে দেখুন কুরআনের ৪ জন অনুমদিত সাহাবাদের বাদ দিয়েই হযরত ওসমান নিজেই নিজের মত করে সংকোলন করেছিলেন আর পান্ডুলীপি গুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। যাতে করে কোন দলিল না থাকে। হয়ত এমনও হতে পারে হযরত মুহাম্মদ, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বানি আরবদের কাছে প্রচার করেছিলেন। যা হযরত ওসমান আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন যাতে করে আগের লেখা কেউ জানতে না পারে। হতেই পারে! কারন হযরত ওসমানের তৈরিকৃত কুরআন যে সব সঠিক কিনা তা যাচাই করার জন্য কেউ ছিলেন না। হযরত মুহাম্মদ নিজেও না তার অনুমোদিত সেই চার জন সাহাবাও না।
.
যদিও আল্লাহ কুরআনে খুব দৃঢ়তার সংগে বলেছেন,
Verily, we have sent down the Reminder, and, verily, we will guard it. Q15:9 ‘আমিই কুরআন নাজিল করেছি এবং আমিই তার রক্ষা করব।’
.
যদিও ইতিহাস পড়লে দেখা যায় তিনি তা করেন নি বরং মানুষে কুরআন রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল।
.
যায়েদ বিন তাবিত ( যিনি আল্লাহর বাণী লেখায় নিয়োজিত ছিলেন) বর্ণিত – ইয়ামামা যুদ্ধে ( যে যুদ্ধে বহু সংখ্যক কোরানে হাফেজ মারা যায়) বহু সংখ্যক সাহাবী হতাহত হওয়ার পর পর আবু বকর আমাকে ডেকে পাঠালেন যেখানে ওমরও উপস্থিত ছিলেন, বললেন, ওমর আমার কাছে এসেবললেন, “ইয়ামামার যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষ (যাদের মধ্যে অনেক কোরানে হাফেজও আছে) হতাহত হয়েছে এবং আমার আশংকা হয় অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে যাদের মধ্যে অনেক কোরানে হাফেজও থাকবে, আর এভাবে কোরানে হাফেজ মারা যেতে থাকলে কোরানের একটা বিরাট অংশই হারিয়ে যাবে যদি তুমি তা সংগ্রহ না কর।আর আমারও অভিমত যে তুমি কোরান সংগ্রহ কর”।
.
আবু বকর আরও বললেন, “ কিভাবে আমি সেটা করতে পারি যা আল্লাহর নবী নিজেই করেন নাই ?” ওমর বললেন, “ আল্লাহর শপথ, এটা নিশ্চয়ই একটা ভাল কাজ”। “তাই ওমর আমাকে এ ব্যপারে চাপ দিয়ে যেতে লাগল, আমাকে তার প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য বুঝাতে লাগল, অবশেষে আল্লাহ আমার হৃদয় খুলে দিলেন এবং এখন আমারও ওমরের সাথে একই মত”। (যায়েদ বিন তাবিত আরও বললেন) ওমর আবু বকরের সাথে বসে ছিলেন ও আমার সাথে কথা বলছিলেন না। আবু বকর আরও বললেন “ তুমি একজন জ্ঞানী যুবক এবং আমরাতোমাকে সন্দেহ করি না: এবং তুমি আল্লাহর রাসুলের ওহী লেখার কাজে নিয়োজিত ছিলে। অতএব এখন খোজাখুজি করে কোরান সংগ্রহ কর”।
.
আমি (যায়েদ বিন তাবিত ) বললাম- “ আল্লাহর কসম, কোরান সংগ্রহের মত এরকম কাজ করার চেয়ে যদি আবু বকর আমাকে আরেকটা পাহাড়ও স্থানান্তর করতে বলত সেটাও আমার কাছে অপেক্ষাকৃত সহজ মনে হতো”। আমি তাদের উভয়কে বললাম- “ আপনারা কিভাবে সে কাজ করতে সাহস করেন যা আল্লাহর নবী নিজেই করেন নি?”
.
আবু বকর বললেন-“ আল্লাহর কসম, এটা প্রকৃতই একটা ভাল কাজ। তাই আমি ওমরের সাথে এটা নিয়ে অনেক তর্ক করেছি যে পর্যন্ত না আল্লাহ আমার অন্তর খুলে দিলেন যা তিনি আমাদের উভয়ের জন্যই খুলে দিয়েছিলেন”। অত:পর আমি কোরান সম্পর্কিত বস্তু অনুসন্ধান করতে লাগলাম, আর আমি পার্চমেন্ট, খেজুর পাতা, হাড় ইত্যাদিতে লেখা এবং এ ছাড়াও যাদের কোরান মুখস্ত ছিল তাদের কাছ থেকে আয়াত সমূহ সংগ্রহ করতে লাগলাম। আমি সূরা আত-তাওবা এর শেষ আয়াতটি খুজাইমার কাছ থেকে সংগ্রহ করলাম যা আমি অন্য কারও কাছ থেকে পাই নি( সে আয়াতগুলো ছিল- তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। কোরান,০৯:১২৮)
.
অত:পর তারা কুরআনের কপি লেখার কাজ শেষ করলেন, তারা স্মরণ করলেন আবু বক্কের সাথে তার মৃত্যু পর্যন্ত, তারপর ওমরের সাথে তার মৃত্যু পর্যন্ত এবং হাফছার সাথে যিনি ওমরের কন্যা ছিলেন। এখানে সব পানিত মত পরিস্কার, আল্লাহ নবীই যেটা সাহস করে লেখার চেষ্টা করে নি সেটা তার অনুসারিরা এর ওর কাছ থেকে সংগ্রহ করে কুরাআন লেখে। তার ফলে কুরআনে অনেক পরিবর্তন হয়েছিলঃ
.
সূরা বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে লেখা আছে
ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ ﻻَ ﺭَﻳْﺐَ ﻓِﻴﻪِ ﻫُﺪًﻯ
ﻟِّﻠْﻤُﺘَّﻘِﻲ যালিকাল্ কিতাবু লা রায়বা ফী-হি হুদাঁললিল্ মুত্তাক্বীন (“এই হল কিতাব যার বিষয় সন্দেহ নাই, এ সাবধানীদের জন্য পথ-নির্দেশক”)।
.
কিন্তু ইবনে মাসউদসহ অনান্য ক্বারী এইভাবে বলতেন, ﺗَﻨْﺰِﯾﻞُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ ﻻَ ﺭَﻳْﺐَ ﻓِﻴﻪِ
ﻫُﺪًﻯ ﻟِّﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ তানজিলুল কিতাবু লা রায়বা ফী-হি হুদাঁললিল্ মুত্তাক্বীন (এই হল নাজিলকৃত কিতাব যার বিষয় সন্দেহ নাই, এ সাবধানীদের জন্য পথ-
নির্দেশক”)।
.
সূরা বাকারার শেষে আয়াহ্ ১৯৮-এ ইবন মাসউদ ﺃَﻥ ﺗَﺒْﺘَﻐُﻮﺍْ ﻓَﻀْﻼً ﻣِّﻦ
ﺭَّﺑِّﻜُﻢْ (আন তাবতাঘু ফাধলান মির- রাব্বিকুম( এর পরে যোগ দিয়েছেন ﻓِﻲ
ﻣَﻮْﺳِﻢ ﺍﻟْﺤَﺞ ফী মাওয়াসেমেল হাজ্জ (‘হজ্জের মৌসুমে’)।
.
আবার সূরা আল-‘ইমরান ১৯ আয়াতে আছে ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ
ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻹِﺳْﻼَﻡُ “ইন্নাদ্দীনা ইনদ্দাল্লাহিল ইসলাম (‘আল্লাহ্র সামনে ধর্ম হচ্ছে ইসলাম’), কিন্তু ইবন
মাসউদের পাঠে ‘ইসলাম’ শব্দের পরিবর্তে ছিল ﺍﻟْﺤَﻨَﻔِﻲ ‘আল- হানাফীয়া। সূরা আস্রে ভিন্নপাঠের উদাহরণ (উৎস: কিতাবুল মাসাহিফ পৃষ্ঠা ১৯২, ১১১, ৫৫)
.
সূরা আলে-‘ইমরানের ৪৩ আয়াতের শেষে আছে, ﻭَﺍﺳْﺠُﺪِﻱ ﻭَﺍﺭْﻛَﻌِﻲ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺮَّﺍﻛِﻌِﻴﻦَ “ওয়াস জুদীয় ওয়ার্কা’ঈ মা’আর- রাকে’ইয়ীন” (রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর), কিন্তু ইবনে মাসঊদের পাঠ হল - ﻭَﺍﺭْﻛَﻌِﻲ ﻭَﺍﺳْﺠُﺪِﻱ ﻓِﻲ
ﺳَﺠِﺪِﻳﻦ  (সেজদা কারিদের সাথে রুকু ও সেজদা কর)
.
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী(স)-কে বলতে শুনেছি, চার ব্যক্তির নিকট থেকে তোমরা কোরআনের পাঠ গ্রহণ করঃ (১) ইবনে মাসউদ (২) আবু হুযাইফার মুক্ত গোলাম সালিম (৩) উবাই (ইবনে কা’ব) ও (৪) মুয়ায ইবনে জাবাল।" (সহীহ আল-বোখারী, ৩৫২৪ (জামে’ সহীহ্ আল- বোখারী অনুবাদ মাওলানা মোবারক করীম জওহর, খান ব্রাদার্স আণ্ড কোম্পানি, ৯ বাংলাবাজার ১১০০; ঢাকা ২০০৮, পৃষ্ঠা ৬৪৩)
.
এই ইবনে মাসউদ সূরা ফাতেহা, সূরা আল-ফালাক, এবং সূরা আন-নাস কোরআনের অংশ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেননি। ১ অপর দিকে, উপরোক্ত উবাই ইবনে কা’ব (রা)-এর মুসহাফে দুটি বাড়তি সূরা ছিল—সূরা আল-হাফ্দ এবং সূরা আল-খাল’— সূরা আল-হাফ্দ
সূরা আল-খাল হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা)-এর মুসহাফের সূরা আল-হাফ্দ এবং সূরা আল-খাল ।
.
(বর্তমান কোরআনে অনুপস্থিত) আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের কথা অনুযায়ী, আলী ইবন আবি তালিবের কোরআনের মধ্যে “আল-খাফ্ধ” নামক একটি বাড়তি সূরা ছিল, যেটা আজকাল কোরআনে নাই। ২ আবার বিভিন্ন শি’য়া উলেমাদের কথা অনুযায়ী, হযরত উসমান কোরআন শরীফ থেকে “সূরা উলায়াহ্” এবং “সূরা নুরাইন” নামক দু’টি সূরা বাদ দিয়েছেন। হয়ত এইজন্য ‘আব্দুল্লাহ্ ইবন ‘ওমর (মৃঃ৬৯২) বলেছেন, “কেউ না বলুক, ‘আমি পুরো কোরআন শিখেছি!’ তা কীভাবে সম্ভব যেহেতু তার অনেকাংশই হারিয়ে গেছে? তিনি বরং বলুক, ‘যা বাকি রয়েছে তাই শিখেছি’।
.
(জালাল উদ্দিন সুয়ূতি, আল-ইত্কান ফী উলুম আল-কোরআন, লাহোর: ইদারাহ্ ইসলামিয়াত, ১৯৮২, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪.) তাই এটা যে বিকৃত হয়েছিল তার বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই।


No comments:

Post a Comment