বাইবেল বিকৃত হয়ে যাওয়ার প্রমান - VedasBD.com

Breaking

Wednesday, 24 October 2018

বাইবেল বিকৃত হয়ে যাওয়ার প্রমান




পিতার চেয়ে পুত্র বড়!
.
২ বংশাবলি পুস্তকে বলা হয়েছে-অহসীয় বেয়াল্লিশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে লাগিলেন। {বাংলা বাইবেল-২২:২} এখানে “বেয়াল্লিশ কারণ তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পরই তিনি রাজত্ব লাভ করেছিলেন। {বংশাবলি-২১:২০} সুতরাং বেয়াল্লিশ বৎসর কথাটি সঠিক বলে মনে করার অর্থ হল পিতার চেয়ে পুত্র দুই বছরের বড় ছিলেন! অপর দিকে ২ রাজাবলি পুস্তকে বলা হয়েছে অহসীয় বাইশ বৎসর রাজত্ব করেন। রাজত্ব করিতে আরম্ভ করিয়া যিরুশালেমে এক বৎসর রাজত্ব করেন। {৮:২৬} এই বর্ণনাটি একদিকে পূর্বের বর্ণনাটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক  অন্যদিকে পূর্বের বর্ণনাটি বিকৃত হওয়ারও প্রমাণ পায়। এই পর্যন্ত প্রকাশিত প্রায় সকল অনুবাদেই উক্ত বিকৃতিটি বিদ্যমান ছিল। বাংলা পবিত্র বাইবেলেও তা আছে। কিন্তু অন্যদিকে বাংলা কিতাবুল মোকাদ্দাসের অনুবাদকরা এই ভুল ও বিকৃতির বিষয়টি
টের পেয়ে গেছেন। ফলে “বিয়াল্লিশ” এর স্থলে বাইশ শব্দটি তারা বসিয় দিয়েছেন।
.
পৃথিবী ধ্বংস হবে? না হবে না? বাইবেলের কোন কথাটি সঠিক?
.
বাইবেলের বুক অফ হিব্রুর ১ম অধ্যায় ১০-১১ অনুচ্ছেদ,এবং বুক অফ শামের ১০২ অধ্যায়ের ২৫,২৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, “সর্ব শক্তিমান ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,আর এগুলি ধ্বংস হয়ে যাবে আর বুক অফ একলেসিষ্ট ১ম অধ্যায়ের ৪ অনুচ্ছেদে আর বুক অফ শামের ৭৮ অধ্যায়ের ৬৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, “পৃথিবী কোনদিন ধ্বংস হবে না”। এখন প্রশ্ন হল কোন কথাটি সঠিক? স্রষ্ঠার কথায় কখনোই এমন বিপরীতমুখী বক্তব্য সম্ভব নয়। আকাশের স্তম্ভ আছে? আমরা জানি আকাশের স্তম্ভ নেই। কিন্তু বাইবেলে ইয়োবের ২৬ অধ্যায়ের ১১ অনুচ্ছেদে রয়েছে যে, “আকাশমন্ডলীর স্তম্ভ কাঁপিয়া উঠিবে” পৃথীবীরও নাকি স্তম্ভ আছে? তা আছে শেমুয়েলে ১ম গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৮ অনুচ্ছেদ, এবং বুক অফ ইয়োবের (যুবের) ৯ অধ্যায়ের ৬ অনুচ্ছেদে এবং বুক অফ শামের ৭৫ অধ্যায়ের ৩ অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে যে পৃথিবীর স্তম্ভ আছে। এই রকম অযৌক্তিক কথা কি ঐশী গ্রন্থে থাকতে পারে?
.
নূহ আঃ এর পর আর কোন দিন বন্যা হবে না?
.
বুক অফ জেনেসিসের ৯ নং অধ্যায়ের ১৩-১৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, “আমি পৃথিবীতে রংধনু বসিয়ে কথা দিলাম, পৃথিবীকে আর কোনদিন বন্যার পানিতে ডুবিয়ে দিব না। অথচ আমরা জানি সূর্যের আলোর সাথে বৃষ্টির পানির প্রতিসরণের কারণে রংধনুর সৃষ্টি হয়। সুতরাং এই কথাটি একটি মারাত্মক অবৈজ্ঞানিক কথা যে রংধনু বসানোর মাধ্যমে ঈশ্বর বন্যাকে থামিয়ে দিলেন যা কিছুতেই ইশ্বর বলতে পারেন না। আর কোন দিন বন্যা হবে না এই কথাটিও ভুল। কারণ পরবর্তীতে পৃথিবীতে মারাত্মক মারাত্মক কিছু বন্যা হয়েছে।
.
একটি ফালতু চিকিৎসা পদ্ধতি
.
বুক অফ লেবিটিকাশ এর ১৪ নং অধ্যায়ের ৪৯-৫৩ অনুচ্ছেদে আছে যে, “কোন বাড়িকে প্ল্যাগ বা কুষ্ঠ রোগ মুক্ত করতে দু’টি পাখি নিয়ে একটিকে মেরে  ফেলে চামড়া ছাড়িয়ে রেখে দিন। আর যেটি বেঁচে আছে সেটাকে পানিতে চুবান তারপর বাড়ির চারপাশে এগুলোকে ছড়ান। এরকম উদ্ভট চিকিৎসা কি খৃষ্টানরা করে থাকে? প্রসবী মহিলাদের নাপাক থাকা প্রসঙ্গে বুক অফ লেবিটিকাসের ১২ নং অধ্যায়ের ১-৫ অনুচ্ছেদে রয়েছে, যখন কোন মহিলা ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় তখন সে নোংরা থাকবে ৭ দিন আর এই নোংরা অবস্থার প্রভাব থাকবে আরো ৩৩দিন। আর কন্যা সন্তান জন্ম দিলে নোংরা থাকবে ১৪ দিন, আর
এই নোংরা থাকার প্রভাব থাকবে আরো ৬৬ দিন। এক কথায় ছেলে জন্ম দিলে নোংরা থাকবে ৪০ দিন আর মেয়ে সন্তান জন্ম দিলে নোংরা থাকবে ৮০ দিন। এ উদ্ভট কথা কি যৌক্তিক হতে পারে? এটা বাইবেল বিকৃতির একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। স্রষ্টা কখনো এরকম উদ্ভট কথা বলতে পারেন না। ব্যভিচারিনী চিনার পদ্ধতি
বুক অফ নাহাম্বার ৫ নং অধ্যায়ের ১১-৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-“যাজক একটি পাত্রে কিছু পবিত্র পানি নিবেন। মেঝে থেকে ধুলি নিবেন। সেটা পানিতে মিশাবেন। আর এটাই হল তেঁতো পানি। এই পানিকে অভিশাপ দিয়ে ঐ মহিলাকে দেয়া হবে। মহিলা সেটা খাবে। যদি মহিলা ব্যভিচার করে থাকে তাহলে তার পেটে সেই অভিশাপ চলে যাবে। ফলে পানিটা পেটে গিয়ে তার পেট ফুলে যাবে, উরু পচে যাবে। সকল মানুষ তাকে অভিশাপ দিবে। আর যদি সেই মহিলা ব্যভিচার না করে থাকে তাহলে তার কিছুই হবেনা। সে সুস্থ্য থাকবে। এই তেঁতো পানির পরীক্ষা দিয়ে তাহলে কেন আমেরিকা আদালতে কার্যকর করে না? ভুলে ভরা বই কি করে ঐশী গ্রন্থ হয়?
.
ঘরের চেয়ে বারান্দা উঁচু?
.
বংশাবলিতে আছে-ঘরের সামনের বারান্দা ঘরের চওড়ার মাপ অনুসারে বিশ হাত চওড়া ও তার ছাদ একশো বিশ হাত উঁচু করে দেওয়া হল {৩:৪} এখানে “একশো বিশ হাত” কথাটা ভুল। কারণ মূল ঘরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। দেখুন ১ রাজাবলি-৬:২। সুতরাং বারান্দার উচ্চতা ১২০ হাত  হতে পারে না। আমাদের উভয় বাংলা অনুবাদে ও ইংরেজী অনুবাদে এখনো এ ভুল রয়ে গেছে। যদিও সুরয়ানী ও আরবী অনুবাদকরা এটা বিকৃত করে  সংশোধনের চেষ্টা চালিয়েছেন, তারা “একশো” কথাটি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন এর উচ্চতা ছিল ২০ হাত।
.
ভ্রাতা? না চাচা?
.
২ বংশাবলী পুস্তকে আছে, যিহুদা ও যিরুশালেমের উপরে তাহার ভ্রাতা সিদিকিয়কে রাজা করিলেন এছাড়া লক্ষ্য করলে দেখা যায় {বাংলা বাইবেল-৩৬:১০} এখানে “তাহার ভ্রাতা” বলতে যিহোয়াখীনের ভ্রাতা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এই ভ্রাতা  কথাটি ভুল। কারণ সিদিকিয় যিহোয়াখীনের ভাই ছিলেন না, বরং চাচা ছিলেন। {২ রাজাবলি-৪:১৭} কিতাবুল মোকাদ্দাসের অনুবাদকরা এই ভুল বুঝতে পেরে উক্ত বাক্যের অনুবাদ এইরূপ করেছেন-আর যিহোয়াখীনের চাচা সিদিকিয়কে এহুদা ও জেরুজালেমের বাদশাহ করলেন। কিন্তু বাংলা বাইবেলের “ভ্রাতা” আর ইংরেজী বাইবেলের “His brother” শব্দটি এখনো সেই ভুলের উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করছে।
.
ইস্রায়েলের রাজা? না এহুদার?
.
২ বংশাবলিতে আছে-কেননা ইসরাঈল রাজ আহসের জন্য সদা-প্রভু যিহুদাকে নত করিলেন। {বাংলা বাইবেল-২৮:১৯}। এখানে “ইসরাইলের রাজ” কথাটি ভুল। কারণ আহস ইস্রালের রাজা ছিলেন না। ছিলেন এহুদার/যিহুদার রাজা। {২ বংশাবলি-২৮:১,২} গ্রীক ও ল্যাটিন অনুবাদকরা সেজন্যই “ইস্রায়েল” শব্দটির স্থানে এহুদা শব্দটি উল্লেখ করেছেন। বাংলা কিতাবুল মোকাদ্দাসের অনুবাদকরা হয় এই ভুল টের  পেয়ে গেছেন  তাই “ইস্রায়েল রাজ” কথাটি বাদ দিয়ে অনুবাদ করেছেন-বাদশাহ আহসের জন্য মাবুদ এহুদাকে নিচু করেছিলেন, কিন্তু বাংলা বাইবেলের ইস্রায়েল রাজ ও ইংরেজী বাইবেলের “king of Israel”  এখনো ঐ ভুলের জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে।
.
বাইবেলের ভাষায় ঈমানদারদের নিদর্শন
.
যারা ঈমান আনে তাদের মধ্যে এই চিহ্নগুলি দেখা যাবে-আমার নামে তারা ভূত ছাড়াবে। তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে। তারা হাতে করে সাপ তুলে ধরবে। যদি তারা ভীষণ বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। আর রোগিদের গায়ে হাত দিলে রোগিরা ভাল হবে”। {মার্ক-১৬: ১৭,১৮, বাংলা ইঞ্জিল শরীফ-১০৬} প্রিয় পাঠক/পাঠিকারা! খেয়াল করুন। বাইবেলে  বলা হয়েছে ঈসা আঃ এর উপর ঈমানদার তারা বিশেষ  কিছু ক্ষমতা লাভ করবে। যথাক্রমে-
.
১. ঈসা আঃ এর নামে তারা ভূত ছাড়াবে।
২. তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে।
৩. তারা হাতে সাপ তুলে ধরবে।
৪.রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভাল হবে।
৫.যদি তারা ভীষণ বিষাক্ত কিছু খায়, তবে তাদের কোন ক্ষতি হবে না।
.
এই ৫ টি বিষয় হল ঈসা আঃ এর উপর ঈমান আনার নিদর্শন। এখন কথা হল-খৃষ্টানদের মাঝে কয়জন ঈমানদার আছে? যদি বলা হয় খৃষ্টান পাদ্রীরা ঈমানদার। তাহলে তাদের বিষ খেতে দিন। কারণ তারা ঈমানদার হলে বিষ খেলে তাদের কিছু হবেনা।
তাদের বলুন-হাতে বিষাক্ত সাপ ধরে রাখতে। যারা ধরে রাখতে পারবে কেবল তারাই বাইবেলের ভাষায় ঈমানদার হবে। তাদের বলুন গায়ে হাত বুলিয়ে সুস্থ্য করে তুলতে। কারণ এটা বাইবেলের ভাষায় বলা হয় ঈমানদারের নিদর্শন।
.
তাদের বলুন-অনর্গল যেকোন ভাষায় কথা বলতে।কারণ এটা বাইবেলের ভাষায় ঈমানদারের নিদর্শন। যদি এর কোনটাই খৃষ্টান ধর্ম যাজকরাও না পারে। তাহলে বুঝতে হবে খৃষ্টান দাবিদারদের মাঝে কেউ ঈমানদার নয়। আর নিজেরা ঈমানদার না হয়ে কিভাবে তারা অন্যদের খৃষ্টান ধমের্র উপর ঈমান আনার দাওয়াত দিচ্ছে? বড়ই আশ্চর্য!



No comments:

Post a Comment