কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল - VedasBD.com

Breaking

Monday, 29 October 2018

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল


কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ১
কোরানের ভ্রান্ত মত – আগে পৃথিবী এবং পরে আকাশ সৃষ্টি হয়েছে।

কোরান:
আল বাক্বারাহ 2 29: তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 9: বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 10: তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 11: অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 12: অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
.
বিজ্ঞান:
মহাবিশ্বের সৃষ্টি আজ থেকে ১৩.৭২ বিলিয়ন তথা ১৩,৭২০,০০০,০০০ বছর আগে. আর আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি আজ থেকে ৪.৬ বিলিয়ন তথা ৪,৬০০,০০০,০০০ বছর আগে. অর্থাৎ পৃথিবী মহাবিশ্বের সৃষ্টির ৯,১২০,০০০,০০০ বছর পর সৃষ্টি হয়.
বি:দ্রঃ ড. জাকীর নায়েক ২:২৯ আয়াত টির “সুম্মা ” শব্দের অর্থ করেন “এ ছাড়াও” (moreover ). অর্থাৎ তিনি বলতে চান যে আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এ ছাড়াও আকাশ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এই তাফসীর ভুল কারণ ৪:১১ এবং ৪১:১২ আয়াতে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ আছে যে আগে পৃথিবী এবং তারপর আকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সমস্ত সাহাবী,তাবেঈন এবং তবে-তাবেঈন গণ এ ব্যাপারে একমত। আপনি তাফসীর ইবনে কাছীর দেখে নিতে পারেন। তিনি বলেন, পৃথিবী হলো সৃষ্টির ভিত স্বরূপ, অতঃপর এর উপর আকাশ আকাশ সৃষ্টি করা হয়.. আকাশ সৃষ্টি করতে পানি ধোয়ার আকারে উপরে উঠে যাওয়া কে আরবীতে “সামা” বলা হয়. এই জন্য আকাশকে “সামা” নাম অভিহিত করা হয়. ইমাম বোখারীও এটা সমর্থন করেছেন।
.
কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ২
কতটি নক্ষত্র এবং সেগুলো কি জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে?

কোরান:
আল আন-আম 6 97: তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।

৬৭ : ৫ আমি নিকটবতী আকাশকে সুশোভিত করেছি। প্ৰদীপমালা দ্বারা এবং তাদেরকে করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ।

বিজ্ঞান:
মহাবিশ্বে ২ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ২,০০০.০০০.০০০.০০০ টিরও বেশী গ্যালাক্সি আছে, আর প্রতিটি গ্যালাক্সিতে গড়পড়তা ১০০ বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০,০০০,০০০,০০০ টি নক্ষত্র আছে. অর্থাৎ মহাবিশ্বে নক্ষত্রের সংখ্যা আনুমানিক ২,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০ টি. এসবই তাহলে আমাদের অন্ধকারে পথ দেখার জন্য এবং শয়তানদের মারার জন্য !

বি:দ্রঃ কেওকেও বলছেন Pole Star দিয়ে আমরা এখনো দিক নির্ণয় করতে পারি, তাহলে তো pole star টা সৃষ্টি করলেই যথেষ্ট ছিল.বাকি ১,৯৯৯,৯৯৯,৯৯৯,৯৯৯,৯৯৯,৯৯৯,৯৯৯,৯৯ টি.নক্ষত্র সৃষ্টি করার কি দরকার ছিল? এবং এসব নক্ষত্রএর কাজ শুধু পথ দেখানো সেটা বলারই বা কী দরকার ছিল?
.
কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৩
মহাবিশ্ব কত দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে?

কোরান:
সেজদাহ 32 4: আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?
আল আ’রাফ 7 54: নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
আল হাদীদ 57 4: তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।

ইউনুস 10 3: নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?
আল-ফুরকান 25 59: তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর।

অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে এই ছয় দিন আমাদের দিনের মতোই ছয় দিন – রবিবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত। তবে গুটি কয়েক তাফছিরকার যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মতে এই ছয় দিনের একেকটি দিন আমাদের এক হাজার বছরের সমান।কারণ আল্লাহ বলেন, আমার একদিন তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান। এটা মেনে নিলে বলা যায় মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে সর্বমোট ৬ হাজার বছরে।
.
বিজ্ঞান:
মহাবিশ্বের সৃষ্টি আজ থেকে ১৩.৭২ বিলিয়ন তথা ১৩,৭২০,০০০,০০০ বছর আগে. আর আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি আজ থেকে ৪.৬ বিলিয়ন তথা ৪,৬০০,০০০,০০০ বছর আগে.

বি:দ্রঃ কেও কেও বলেছেন এই ছয়দিন আমাদের দিনের মোট্ ছয় দিন ছিল না বরং ছয়টি সময়কাল ছিল. তাদের উত্তরে বলছি –
আত তাওবাহ 9 36: নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।

অর্থ্যাৎ সৃষ্টির দিন থেকেই দিন এবং মাসের প্রচলন আছে.
হাদীছ: হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স:) আমার হাত ধরে রোয়েছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বলেন, “আল্লাহ তায়ালা শনিবারে সৃষ্টি করেন জামিন, রবিবারে সৃষ্টি করেন পাহাড়-পর্বত, সোমবারে সৃষ্টি করেন বৃক্ষরাজি, মন্দ ও অপকারী জিনিসগুলো সৃষ্টি করেন মঙ্গোল বরে , বুধবারে সৃষ্টি করেন আলো , সমস্ত জীব-জন্তু সৃষ্টি করেন বৃহস্পতিবারে এবং হজরত আদম (আ) কে সৃষ্টি করেন শুক্রবারের শেষ ভাগে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে।”

যাহোক, মেনে নিলাম এই ছয় দিন আসলে হলো ছয়টি সময়কাল। এখন আমরা দেখি সৃষ্টি ক্রিয়ায় এই সময়কালের অনুপাত।

হা-মীম সেজদাহ 41 9 : বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 10 : তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 11: অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
.
হা-মীম সেজদাহ 41 12: অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

এখানে বলা হচ্ছে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে আবার সপ্তাকাশও তৈরী করেছেন দুইদিনে। আবার চারদিনের মধ্যে তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। এতে সময়ের অনুপাতগুলো কি ঠিক থাকছে?

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৪
দিন-রাত কিভাবে হয়, সূর্য ঘুরে না পৃথিবী ঘুরে?

কোরান:
আম্বিয়া 21 33 : তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।
.
রা’দ 13 2: আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।
.
লোকমান 31 29: তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?
.
ইয়াসীন 36 38 : এবং সূর্য ভ্রমণ করে ওর নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। এটা প্রক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
.
ফাতির 35 13: তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। ইনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়।
.
আর রহমান 55 5 : সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে।
.
তাফসীর অনুযায়ী  এখানেসূর্য ও চন্দ্র কে একই সাথে উল্লেখ করে বলা হচ্ছে তারা তাদের কক্ষপথে সাঁতার কাটে। তাফসীর ইবনে কাছীরের মতে চন্দ্র প্রথম আকাশে এবং সূর্য চতুর্থ আকাশে ভ্রমণ করে. দিনশেষে সূর্য্য আল্লাহর আরশের নীচে গিয়ে সেজদা করে পরের দিন সকালে উদিত হওয়ার অনুমতি চায়. তাকে অনুমতি দেওয়া হয়.কিন্তু কেয়ামতের নিকটবর্তী একটি সময়ের সূর্য্য পূর্ব দিক থেকে উঠার অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না.বলা হবে যে দিক থেকে এসেছো সেই দিকেই ফিরে যাও। ফলে সূর্য্য পশ্চিম দিক থেকে উঠবে।এই সেই দিন যখন নুতন করে কারও ঈমান কবুল করা হবে না।

বিজ্ঞান :
পৃথিবী তার অক্ষের উপর মুটামুটি ২৪ ঘন্টায় একবার ঘুরে আসে, এতে দিন-রাত হয়. সেইসঙ্গে পৃথিবী ৩৬৫ দিনে একবার সূর্য্যের চার দিকে ঘুরে আসে, এতে বছর হয়. আমাদের সৌরজগৎ আবার ছায়াপথের বাহুর চারদিকে একবার ঘুরে আসে ১২৫,০০০,০০০ বছরে। পৃথিবী যদি এক সেকেন্ডের জন্য নিজ অক্ষের উপর ঘুরা বন্ধ করে, কিংবা উল্টাদিকে ঘুরে যাতে মনে হয় সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠছে, তাহলে সবকিছু তছনছ হয়ে যাবে,জলশ্বাসে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

বি: দ্রঃ একজন পাঠক বলছেন যে ” একদিন হয়তো পৃথিবী আর ঘুরবে না, এটা হাওয়া হয়ে যাবে, সৌরজগৎ নিঃশেষ হয়ে যাবে”, তার উত্তরে বলছি:
সূর্য্যের বয়স এখন ৪.৬ বিলিয়ন বছর. এটা সূর্য্যের যৌবন কাল. আরও ৪.৬ বিলিয়ন বছর পর সূর্য একটি লোহিত দানবে পরিণত হবে.তখণ পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য।কিন্তু সেটা হবে আরও ৪,৬০০,০০০,০০০ বছর পর. তবে সূর্য্য কোন দিনই পশ্চিম দিক থেকে উঠবে না, পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘুরতেই থাকবে, থামবে না।

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৫
মহাবিশ্বের সৃষ্টির পূর্বে অর্থাৎ মহাবিস্ফোরণের পূর্বে সাগর এবং পানি ছিল?!!!!

কোরান:
হুদ 11 7: তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!”;

বিজ্ঞান :
আল্লাহ ,বলছেন, সাত-আসমান, সাত-জমিন যখন কিছুই ছিল না, তখন ছিল সমুদ্র – তথা পানি। আর সেই পানির উপর ছিল আল্লাহর আরশ. আর বর্তমানে যখন সাত-আসমান সৃষ্টি করা হয়েছে, এখন তার আরশ সাত-আসমানের উপর সমস্তকে ঘিরে আছে.অর্থ্যৎ মহা-বিস্ফোরণের আগে যখন স্থান-কাল কিছুই ছিল না, তখন ছিল পানি।কোরানে সৃষ্টির বিবরণে এটাই সবচেয়ে হাস্যকর। মহাবিশ্বের ব্যাস আনুমানিক ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ অর্থাৎ ৮৮০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ কি:মি:. নিশ্চয়ই আল্লাহর আরশ তার চাইতেও বড়। আবার সেই আরশ ছিল পানির উপর.

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৬
পৃথিবী ও আকাশ স্থির আছে !!!

কোরান:
লোকমান 31 10: তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।
.
ফাতির 35 41 : নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।

বিজ্ঞান :
যমীন , আকাশ যে স্থির তা এই আয়াতদ্বয় থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়. সুতরাং পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘুরার কোনো অবকাশই নাই.. সুতরাং বৈজ্ঞানিকেরা যে বলে পৃথিবী ঘুরে তা ডাহা মিথ্যা।

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৭
আকাশ ভেঙ্গে পরবে আমাদের মাথার উপর ???!!!

কোরান:
আল-মু’মিন 40 64: আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।
.
আল গাশিয়াহ 88 18: এবং আকাশের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে উচ্চ করা হয়েছে?
.
আশ-শুরা 42 5: আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় আর তখন ফেরেশতাগণ তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং পৃথিবীবাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শুনে রাখ, আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম করুনাময়।
.
ক্বাফ 50 6: তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও নেই।
.
আল মুলক 67 3: তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি?
.
নূহ 71 15: তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।

বিজ্ঞান:
কোরানে আকাশ সম্পর্কে এরকম আরও অনেক আয়াত আছে যা থেকে স্পষ্টই বুঝা যায় আকাশ একটি শক্ত ধাতুর তৈরী ছাঁদ বিশেষ।এটা মাঝেমধ্যে (মানুষের পাপের কাৰণে) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, কিন্তু ফেরেশতাগণের আল্লাহর কাছে মানুষের হয়ে মাফ চাওয়া এবং গুণগান কীর্তন করার কারণে আকাশ শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়া থেকে বিরত থাকে।
আমরা মাথার উপর নীল রঙের যে আকাশ দেখি সেটা আসলে কী ?

বাতাসের অণুগুলি সূর্য্যের রস্মির নীল অংশকে লাল অংশের চেয়ে বেশী ছড়িয়ে দেয়। এইজন্য আমরা নীল রঙের প্রতিফলন দেখি। মহাকাশের ৯৯.৯৯৯৯% স্থান হলো ফাঁকা (অবশ্য রেডিয়েশন আছে), বাকি ০.০০০১% এ আছে গ্যালাক্সি-নক্ষত্র-গ্রহাদি। মহাবিশ্বের ব্যাস আনুমানিক ৮৮০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ কি:মি:.. এর কোথাও নিরেট শক্ত ধাতুর ছাদ পরিলক্ষিত হয় নাই. সুতরাং আকাশ ভেঙে আমাদের মাথার উপর পড়ার কোনো ভয় আপাততঃ নেই.
মহাবিশ্বের তুলনায় আমাদের পৃথিবী একটা পরমাণুর চাইতে ছোট।

দেখুন এই ছবিতে Voyager মহাকাশ যান থেকে তোলা আমাদের পৃথিবীর একটি ছবি যা কিনা সৌরজগতের শেষ কিনারা থেকে তোলা। পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে একটি কার্ল সাগানের বিখ্যাত Pale Blue Dot হিসাবে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন সমগ্র বিশ্বের তুলনায় আমাদের পৃথিবী কত ছোট. এর উপর আকাশ ভেঙে পড়া কতটুকু জৌক্তিক।


কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৮
আকাশ বিদীর্ণ হবে?!!

কোরান:
আল-ফুরকান 25 25 : সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং সেদিন ফেরেশতাদের নামিয়ে দেয়া হবে।
.
আত্ব তূর 52 44 : তারা যদি আকাশের কোন খন্ডকে পতিত হতে দেখে, তবে বলে এটা তো পুঞ্জীভুত মেঘ।
.
আল হাক্বক্বাহ 69 16: সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।
.
আল মুরসালাত 77 9: যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে,
.
আল ইনশিক্বাক্ব 84 1 : যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,

বিজ্ঞান :আকাশ বিদীর্ণ হওয়ার আরেকটি ভুল তথ্য
ভুল নাম্বার ৭ দ্রষ্টব্যঃ

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ৯
নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে !!!

কোরান:
আল হাক্বক্বাহ 69 17 : এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।
.
আল ক্বেয়ামাহ 75 9: এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে-
.
আল মুরসালাত 77 8 : অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে,
.
আন-নাবা 78 19 : আকাশ বিদীর্ণ হয়ে; তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে।
.
আত-তাকভীর 81 1 : যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,
.
আত-তাকভীর 81 2: যখন নক্ষত্ররাজি খসে পরবে,

বিজ্ঞান :
এখানে কিয়ামত দিবসের বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে।
77 8: অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে,
মহাবিশ্বে আনুমানিক ২,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০ টি নক্ষত্র আছে. বৈজ্ঞানিক ভাষ্য মতে এসবই নির্বাপিত হয়ে যাবে – তবে তা হতে সময় লাগবে ১-এর পীঠে ১০০ শূন্য অর্থ্যাৎ ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০ বছর. আল্লাহ কি কিয়ামত কায়েম করতে এতদিন অপেক্ষা করবেন!
.
81 2: যখন নক্ষত্ররাজি খসে পরবে,
এই আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে, নক্ষত্রগুলো সব খসে খসে সমুদ্রে পরে যাবে। সমুদ্রে আগুন ধরে যাবে।
.
অর্থ্যাৎ ২,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০ টি নক্ষত্র যার প্রতিটি পৃথিবীর চাইতে বহুগুনে বড় তার সবই এই সকলের তুলনায় পরমানু সমতুল্ল সমুদ্রে খসে পরবে। কী হাস্যকর বিষয়!


কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ১০
অন্ধ সাহাবী কর্তৃক কোরানের ভুল সংশোধন

কোরান:
নবী ও তার এক সাহাবী (যায়েদ ইবনে সাবিত ) বসে ছিলেন।এই সময় এই আয়াতটি নাজেল হলো (4:95):
لاَّ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ اللّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُـلاًّ وَعَدَ اللّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
যার অর্থ হচ্ছে –
গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।
যায়েদ ইবনে সাবিত আয়াতটি এক খন্ড চামড়ার উপর লিখে নিলেন এবং পাঠ করলেন।
ইতিমধ্যে ওখানে অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম হাজির হলেন এবং আয়াতটি শুনলেন। শুনে উনি বললেন যে, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি অন্ধ না হতাম,তাহলে আমিও জিহাদে যেতাম।
তখন নবী চোখখু বন্ধ করলেন এবং দুইটি অতিরিক্ত শব্দ নাজেল হলো: غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَر যার অর্থ সঙ্গত ওজর ব্যাতিত
এখন পুরো আয়াতটি দাঁড়ালো:
لاَّ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ اللّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُـلاًّ وَعَدَ اللّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
َظِيمًا
যার অর্থ –
গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।
এখন, মহাবিজ্ঞ আল্লাহ যদি সবই জানতেন, মানুষের মনে যা আছে তও জানতেন, তাহলে তাকে ভুল ধরিয়ে দেবার দরকার হতো না. তিনি প্রথমেই নাজেল করতেন যে
গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।
.
আরেকটা প্রশ্ন হলো, পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই যে আল্লাহ কোরান শরীফ কে লাও-হে-মাহফুজে লিখে রেখেছেন, সেটা কোন ভার্সন – আগের টা , নাকি কারেকশান করার পরের টা ?


কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ১১
মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী থাকবে আল্লাহর দুই হাতে !!

কোরান:
আল-যুমার 39 67: তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।

বিজ্ঞান:
আল্লাহ বলেছেন, নক্ষত্রসমূহ আছে নিকটবর্তী আকাশে
আস-সাফফাত 37 6: নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
অর্থাৎ প্রথম আকাশে। প্রথম আকাশের ব্যাসার্ধ হলো ৪৪০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ কি:মি:.তারমানে এর সারফেস এরিয়া হলো 4πrr অর্থাৎ ৪ x ৩.১৪ x ৪৪০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ x ৪৪০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ বর্গ কি:মি: বাকি ছয় আসমান নাকি প্রথম আকাশের চেয়ে বহুগুন বড়। কিন্তু আমরা এখানে সহজ হিসাবের জন্য ধরে নিলাম প্রতিটা আকাশ একই সমান। তারমানে সাত আকাশের সারফেস এরিয়া হলো ১৭,০২১,৩০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ বর্গ কি:মি:. এটা থাকবে আল্লাহর ডান হাতে, আর বাম হাতে থাকবে এর তুলনায় পরমাণু সমতুল্য পৃথিবীটা ।কী হাস্যকর বিষয়! আসলে ৬০০ সনে মানুষের ধারণা ছিল পৃথিবী এবং তার চার পাশের সমুদ্র খুবই বিশাল এবং আকাশটা একটা ঢাকনার মতো একে ঢেকে রেখেছে।এই জ্ঞান থেকেই এই রকম আয়াতের অবতারণা!

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য – ১২
কবর থেকে আমাদের দেহের পুনরুত্থান !!!

কুরআন
ইয়াসীন 36 51: শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।

বিজ্ঞান:
এখানে কিয়ামতের ময়দানে শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুৎকারের পর মানুষ এবং অন্যান্য সমস্ত প্রাণিকুল যে কবর থেকে উঠে হাশরের ময়দানের দিকে ছুটে চলবে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। প্রথমে বুঝতে হবে প্রাণী দেহ কী দিয়ে গঠিত। পৃথিবীর মাটিকে রিসাইকেল করে আমাদের দেহ গঠিত হয়. অর্থাৎ একজন মানুষ যখন মরে যায়, তখন তার দেহ আস্তে আস্তে মাটির সাথে মিশে গিয়ে মাটি হয়ে যায়. সেই মাটি গাছ -পালা-শষ্যাদির খাবার হয়. সেই ফলমূল-শষ্যাদি খেয়ে নতুন মানুষের দেহ তৈরী হয়.যেমন আমি টরোন্টোতে উৎপন্ন আপেল গাছের আপেল খাচ্ছি।এই আপেল একদিন (ধরুন ৭ হাজার বছর আগে) এক রেড ইন্ডিয়ানের শরীরে ছিল.অর্থাৎ সেই রেড ইন্ডিয়ানের শরীর দিয়ে আমার বর্তমান শরীর গঠিত হচ্ছে।সোজা কথায় মানুষ-প্রাণী-উদ্ভিদ এগুলো সব রিসাইকেল হয়ে নতুন মানুষ-প্রাণী-উদ্ভিদ হচ্ছে।সুতরাং আল্লাহ যদি পৃথিবীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত সকল মানুষ-প্রাণিকুল একই সাথে একই দেহ দিয়ে বানাতে চান, তা সম্ভব নয়. সুতরাং দেহের পুনরুত্থান কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।

কোরানে নীতি বিষয়ক ভুল – ১৩
.
আল আন-আম 6 149: আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন।
.
হিজর 15 39: সে (ইবলিস) বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।
.
নাহল 16 9: সরল পথ আল্লাহ পর্যন্ত পৌছে এবং পথগুলোর মধ্যে কিছু বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন।
.
সেজদাহ 32 13: আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।
.
নৈতিক দৃষ্টিতে এই আয়াতগুলো হলো কোরানের নিকৃষ্টতম।
এ সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদিস আছে. তার সার সংক্ষেপ হলো –
আদমকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তার ডান হাত দিয়ে আদমের পিঠ থেকে একদল মানুষকে বের করে আনলেন এবং বললেন এরা জান্নাতী। আমি কারও পরওয়া করি না. এরপর আদমের পিঠে তার বাম হাত রাখলেন।এতে একদল মানুষ বেরিয়ে এলো.আল্লাহ বললেন এরা জাহান্নামী।আমি কারও পরওয়া করি না.
অর্থাৎ আমি-আপনি কে বেহেশতে যাবে আর কে দোযখে যাবে, তার সবই পূর্ব নির্ধারিত!
এমনকি আরেকটি হাদিসে এও বলা হয়েছে যে, একজন মানুষ দীর্ঘ কাল জান্নাতের আমল করে, কিন্তু যেহেতু আল্লাহ লিখে রেখেছেন সে জাহান্নামী, তাই মৃত্যুর আগে তাকে খারাপ আমল করতে বাধ্য করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জাহান্নামের উপজোগী করে জাহান্নামে পাঠানো হয়! কী অবিচার!!
আল্লাহর এই অবিচারের কথা ইবলীসও বুঝেছিলো এবং সে বলেছিলো:
হিজর 15 39: সে (ইবলিস) বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।
এখানে সে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করছে যে আল্লাহই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।
.
কী আশ্চর্য্যের কথা – আল্লাহ বলছেন তিনি ইচ্ছা করলে সবাইকে সৎ পথ দেখাইতে পারতেন কিন্তু তা করেন না, কারণ তিনি ইচ্ছা করেছেন অধিকাংশ মানুষ দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবেন। আল্লাহ কী সাংঘাতিক সাইকোপ্যাথ!!!

No comments:

Post a Comment